দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়া নেত্রকোনার মদন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়ার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হুমায়ুন খালিদ।
ওই পোস্টে তিনি খাদ্য বিভাগের নানা অনিয়মের ইঙ্গিত দিয়ে নিজেও একই ধরনের “অপরাধ” করেন বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বদলির আহ্বানও জানান তিনি।
শুক্রবার (২২ মে) ওই পোস্টটি দেন তিনি। পরে সমালোচনার মুখে শনিবার (২৩ মে) সেটি ডিলেট করে দেন।
সম্প্রতি মদন উপজেলায় প্রশাসনের হাতে ২০ টন চাল জব্দ এবং পরে তদন্তে গুদামে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৪ টন চাল পাওয়ার ঘটনায় মদন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়াকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বদলি করা হয়। একই ঘটনায় গুদাম কর্মকর্তা মাহমুদুল আলমকেও অন্যত্র বদলি করা হয়।
এরপর দুলাল মিয়ার পক্ষে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মোহনগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হুমায়ুন খালিদ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘গুদাম কর্মকর্তার বাইরে যারা গুদামকে শাসন করেন, তাদের বাইরে যেতে পারে বাংলাদেশে একজন কর্মকর্তাও নেই। পারা যায় না, যারা টিআর-কাবিখা পায় তারা প্রভাবশালী বটে। তিনি (দুলাল মিয়া) প্রভাবশালীদের তথ্য গোপন রেখেছেন!’
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘এরকম অপরাধ কে না করে, আমিও করছি। তাহলে আমাদের সবাইকে বদলি করেন।’
দুলাল মিয়াকে দূরবর্তী এলাকায় বদলি করায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘বন্ধু তোমার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তুমিও জানো, আমিও জানি—দুধে ধোয়া তুলসী পাতা আমাদের ডিপার্টমেন্টে কয়জন! কোনো ঘটনা ঘটার আগে আমরা সবাই তুলসীপাতা।’
খাদ্য বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পোস্টটির মাধ্যমে খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত উঠে এসেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হুমায়ুন খালিদের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘প্রিয় বন্ধু, দুলাল মিয়া, উপজেলা খাদ্যে নিয়ন্ত্রক মদনকে পটুয়াখালীর পাথরঘাটায় বদলি করা হয়েছে কি অপরাধ তার! গুদাম কর্মকর্তার বাইরে যারা গুদামকে শাসন করেন তাদের বাইরে যেতে পারে বাংলাদেশে একজন কর্মকর্তাও নাই। পারা যায় না, যারা টিআর কাবিখা পায় তারা প্রভাবশালী বটে। তিনি প্রভাবশালীদের তথ্য গোপন রেখেছেন! এরকম অপরাধ কে না করে আমিও করছি তাহলে আমাদের সবাইকে বদলি করেন। বন্ধু তোমার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই তুমিও জানো আমিও জানি দুধে ধোয়া তুলসীপাতা আমাদের ডিপার্টমেন্টে কয়জন! কোনো ঘটনা ঘটার আগে আমরা সবাই তুলসীপাতা।’
‘কোথায় নরসিংদী আর কোথায় পাথরঘাটা, দুলালকে কেন্দুয়া দেওয়া যেত। দুলাল যেখানে চাকরি করত আমিও সেই প্রভাবে চাটুকারী করি, মাঠে নামলে বুঝতে পারা যায় মাঠে কতটুকু কাদা।’
এ বিষয় জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হুমায়ুন খালিদ কালবেলাকে বলেন, ‘ভাই প্লিজ, আমি এক জায়গায় এসেছি পাশে মানুষ। আমি এই বিষয়টা নিয়ে বিব্রত। আমি সাক্ষাতে আপনার সঙ্গে কথা বলব’- বলে কল কেটে দেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, কোনো কর্মকর্তাই অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না। ওই কর্মকর্তার পোস্টটি আমার চোখে পড়েনি, দেখে তারপর এ বিষয়ে বলতে পারব।