দূরপাল্লার গাড়ি না পেয়ে ভরসা লোকাল বাসে, নিচ্ছে বাড়তি ভাড়া

যানবাহনের দীর্ঘ সারি। সঙ্গে মানুষের হুড়োহুড়ি। কারও হাতে ব্যাগ, কারও কাঁধে বস্তা, কেউ আবার ছোট শিশু কোলে নিয়ে আছেন। ঈদুল আজহার আগের দিন গ্রামের বাড়ি ফিরতে চান সবাই। বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, জনপথ মোড়, ধোলাইপাড়সহ আশপাশের এলাকার বাস কাউন্টার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের দিনের চেয়ে মানুষের এই ভিড় তুলনামূলক কম। আজ ভোর থেকেই বাসস্ট্যান্ডে যেতে শুরু করেন ঘরমুখী মানুষ। সকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেকে ভিজে যান। তারা কাউন্টারের সামনের সড়কে পানি জমে তৈরি হওয়া কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠছিলেন। আবার কেউ দরদাম করছিলেন। যাত্রীরা জানান, প্রয়োজনীয় দূরপাল্লার বাস পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব বাস পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। কোথাও আবার যাত্রীভেদে নেওয়া হচ্ছে আলাদা ভাড়া। সেই সঙ্গে দূরপাল্লার গাড়ি না পেয়ে ধরতে হচ্ছে লোকাল বাস। জনপথ মোড়ের পাশে খুলনাগামী সূর্যমুখী পরিবহনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েকজন যাত্রী। তাদের একজন অভিযোগ করেন, একই বাসে কারও কাছ থেকে ৭০০ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে পরিবহনটির চালকের সহকারী আমান বল

দূরপাল্লার গাড়ি না পেয়ে ভরসা লোকাল বাসে, নিচ্ছে বাড়তি ভাড়া

যানবাহনের দীর্ঘ সারি। সঙ্গে মানুষের হুড়োহুড়ি। কারও হাতে ব্যাগ, কারও কাঁধে বস্তা, কেউ আবার ছোট শিশু কোলে নিয়ে আছেন। ঈদুল আজহার আগের দিন গ্রামের বাড়ি ফিরতে চান সবাই।

বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, জনপথ মোড়, ধোলাইপাড়সহ আশপাশের এলাকার বাস কাউন্টার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের দিনের চেয়ে মানুষের এই ভিড় তুলনামূলক কম।

আজ ভোর থেকেই বাসস্ট্যান্ডে যেতে শুরু করেন ঘরমুখী মানুষ। সকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেকে ভিজে যান। তারা কাউন্টারের সামনের সড়কে পানি জমে তৈরি হওয়া কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠছিলেন। আবার কেউ দরদাম করছিলেন।

যাত্রীরা জানান, প্রয়োজনীয় দূরপাল্লার বাস পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব বাস পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। কোথাও আবার যাত্রীভেদে নেওয়া হচ্ছে আলাদা ভাড়া। সেই সঙ্গে দূরপাল্লার গাড়ি না পেয়ে ধরতে হচ্ছে লোকাল বাস।

জনপথ মোড়ের পাশে খুলনাগামী সূর্যমুখী পরিবহনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েকজন যাত্রী। তাদের একজন অভিযোগ করেন, একই বাসে কারও কাছ থেকে ৭০০ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

দূরপাল্লার গাড়ি না পেয়ে ভরসা লোকাল বাসে, নিচ্ছে বাড়তি ভাড়া

জানতে চাইলে পরিবহনটির চালকের সহকারী আমান বলেন, ‘আমাদের কাছে তাও ৭০০ টাকায় পাচ্ছেন, কাউন্টারে এক হাজার টাকা।’

সায়েদাবাদে বরিশালগামী যাত্রী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ সময়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার ভাড়া নেয়। এখন ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। ঈদ এলেই বাস মালিকরা সুযোগ নেয়।’

শুধু বরিশাল রুট নয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-খুলনা রুটেও একই চিত্র দেখা গেছে। নন-এসি বাসে স্বাভাবিক সময়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার ভাড়া ঈদ উপলক্ষে বেড়ে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় উঠেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল থেকে স্ত্রী, বোন ও দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন নুরুল আলম। প্রায় দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাসে উঠতে পারেননি। হতাশ হয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়ি ফিরতে শুরুতেই যদি এমন ভোগান্তি পোহাতে হয় কীভাবে পৌঁছাবো?’

এদিকে, যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে কয়েকটি লোকাল বাসে বরিশালগামী অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যেতে দেখা গেছে। কোনো কোনো বাসে আসন পূর্ণ হওয়ার পরও দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছিল। অগ্রিম টিকিট না পাওয়া যাত্রীরা বাধ্য হয়ে লোকাল বাস কিংবা দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই রওনা হচ্ছিলেন। এতে নারী, শিশু ও বয়স্করা পড়ছেন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে।

দূরপাল্লার গাড়ি না পেয়ে ভরসা লোকাল বাসে, নিচ্ছে বাড়তি ভাড়া

যাত্রীরা জানান, সাধারণ সময়ে যেসব বাসে ৪০০ টাকায় যাওয়া যায়, সেখানে এখন ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এমনকি দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকেও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

ঢাকার ভেতরে চলাচলকারী শিকড় পরিবহন যাচ্ছিল শরীয়তপুরে। ভাড়া নিচ্ছে জনপ্রতি ৪০০ টাকা। তুরাগও শরীয়তপুর যাচ্ছে। ভাড়া নিচ্ছে ৫০০ টাকা। বাহাদুর শাহ পরিবহন এই রুটে ভাড়া নিচ্ছে ৪০০ টাকা। রাইদা যাচ্ছে ভাঙ্গা এবং ভাড়া ৪০০ টাকা। ট্রান্সসিলভা পরিবহনে বরিশালে যেতে ভাড়া জনপ্রতি ৭০০ টাকা।

তবে পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পটুয়াখালী রুটের একটি পরিবহনের কর্মী নিয়াজ বলেন, ‘সরকারি চার্ট অনুযায়ীই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আমাদের গাড়ি আরও ভেতরের এলাকায় যায়, তাই ভাড়া কিছুটা বেশি।’

অন্যদিকে, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা দেখা গেছে। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুখে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ টিমও কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

এফএইচ/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow