দৃশ্যমান ‘বামনী ক্লোজার’, উপকৃত হবেন ৯ লাখ মানুষ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘বামনী ক্লোজার বাঁধ’ এখন দৃশ্যমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) অনেক স্রোত ও প্রতিকূলতার মাঝেও বাঁধটি দিতে সক্ষম হয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। স্থানীয়দের দাবি, বামনী নদীতে এ ক্লোজার বাঁধ স্থায়ী হলে আশপাশের ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। আরও পড়ুন পানিসম্পদ মন্ত্রী / যমুনার ভাঙনরোধে আগামী অর্থবছরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং পিডিএল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শত শত শ্রমিক মেশিনের মাধ্যমে জিওব্যাগে বালু ভরে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। বাঁধের দুই পাশে বামনী নদীতে পানি থই থই করছে। এসময় বাঁধ দেখতে ডব্লিউডিবি, পিডিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ‘সাড়ে ১০ কিলোমিটার নদী খননসহ ৪৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর ও ক্লোজার বাঁধে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ক্লোজারের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ১০ মিটার। বাঁধটি নির্ম
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ‘বামনী ক্লোজার বাঁধ’ এখন দৃশ্যমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) অনেক স্রোত ও প্রতিকূলতার মাঝেও বাঁধটি দিতে সক্ষম হয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। স্থানীয়দের দাবি, বামনী নদীতে এ ক্লোজার বাঁধ স্থায়ী হলে আশপাশের ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং পিডিএল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শত শত শ্রমিক মেশিনের মাধ্যমে জিওব্যাগে বালু ভরে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। বাঁধের দুই পাশে বামনী নদীতে পানি থই থই করছে। এসময় বাঁধ দেখতে ডব্লিউডিবি, পিডিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘সাড়ে ১০ কিলোমিটার নদী খননসহ ৪৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর ও ক্লোজার বাঁধে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ক্লোজারের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ১০ মিটার। বাঁধটি নির্মাণ হলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন’
পাউবো সূত্র বলছে, বাঁধটি রক্ষা হলে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নদীর স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আশপাশের জনপদ, কৃষিজমি, মৎস্য খামার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে।
এর আগে গত ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলায় মূলত অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধাতা সৃষ্টি হয়। পূর্ববর্তী একটি প্রকল্পের আওতায় বামনী ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর নির্মাণ করা হলেও বামনী ক্লোজার নির্মাণ অসম্পূর্ণ থাকায় বামনী নদী হয়ে আলগীর খাল ও নোয়াখালী খালে জোয়ার-ভাটার প্রভাব অব্যাহত থাকে। এর ফলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ, উচ্চ জোয়ারে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নোয়াখালী শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান খাল নোয়াখালী খালের রিকশাওয়ালার দোকান এলাকায় মাটি দিয়ে একটি অস্থায়ী আড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে লবণাক্ততা ও জোয়ার-ভাটার প্রভাব কিছুটা কমলেও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে ‘নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
সাড়ে ১০ কিলোমিটার নদী খননসহ ৪৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর ও ক্লোজার বাঁধে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ক্লোজারের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ১০ মিটার। বাঁধটি নির্মাণ হলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।
‘প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ, তীব্র জোয়ারের চাপ এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কর্মপরিবেশের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জিওটিউব, জিওব্যাগ এবং জিওটেক্সটাইল শিটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে প্রকল্পের নির্মাণকাজকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে’
অন্যদিকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৮০ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষিত হবে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক লাখ মানুষ, কৃষি, মৎস্যচাষি এবং ব্যবসায়ীরা এর সুফল ভোগ করবেন।
বাঁধ পরিদর্শনে আসা নোয়াখালী-৫ আসনের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি যুবায়ের ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার বন্যা ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নোয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।’
সার্বিক বিষয়ে প্রকল্পের কাজ পাওয়া প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (পিডিএল) চিফ অপারেটিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ, তীব্র জোয়ারের চাপ এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কর্মপরিবেশের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জিওটিউব, জিওব্যাগ এবং জিওটেক্সটাইল শিটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে প্রকল্পের নির্মাণকাজকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
‘২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও জনগণের সুবিধার কথা চিন্তা করে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা নিরলস পরিশ্রম করে কাজটি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণত এ কাজ অক্টোবরের পরে করার কথা থাকলেও স্থানীয় অধিবাসীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই চলতি মে-জুন মাসে ঝুঁকি নিয়ে বাঁধটি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে’

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু করলো চীন, ভারতের উদ্বেগ

মেঘনার ভাঙন রোধে ৮০০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে বাঁধ
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও জনগণের সুবিধার কথা চিন্তা করে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা নিরলস পরিশ্রম করে কাজটি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণত এ কাজ অক্টোবরের পরে করার কথা থাকলেও স্থানীয় অধিবাসীদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই চলতি মে-জুন মাসে ঝুঁকি নিয়ে বাঁধটি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসন মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। এজন্য নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের কর্মকর্তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমরা আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে।’
এসআর/জেআইএম
What's Your Reaction?



