দেশে পৌঁছেছে সৌদিতে মারা যাওয়া প্রবাসী শাকিলের মরদেহ
সৌদির কারাগারে মারা যাওয়ার ২৮ দিন পরে কিশোরগঞ্জের প্রবাসী যুবক শাকিলের (২৮) মরদেহ সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) ভোরে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের বিশেষ সহযোগিতায় মরদেহটি কিশোরগঞ্জ সদরের মারিয়ার পূর্ব কাতিয়ার চরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সৌদি থেকে শাকিলের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রায় ৮ হাজার সৌদি রিয়াল প্রয়োজন ছিল। ঋণের বোঝা ও একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের পক্ষে এ অর্থ জোগান প্রায় অসম্ভব ছিল। এ বিষয়টি কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমকে অবহিত করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী সরকারি সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ে শাকিলের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ভোরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মৃত শাকিলের চাচা বুকুল মেম্বার জানান, ২০১৯ সালে অভাবের সংসারের হাল ধরতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ করে ঢাকার বনানী এলাকার আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে গি
সৌদির কারাগারে মারা যাওয়ার ২৮ দিন পরে কিশোরগঞ্জের প্রবাসী যুবক শাকিলের (২৮) মরদেহ সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোরে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের বিশেষ সহযোগিতায় মরদেহটি কিশোরগঞ্জ সদরের মারিয়ার পূর্ব কাতিয়ার চরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সৌদি থেকে শাকিলের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রায় ৮ হাজার সৌদি রিয়াল প্রয়োজন ছিল। ঋণের বোঝা ও একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারের পক্ষে এ অর্থ জোগান প্রায় অসম্ভব ছিল।
এ বিষয়টি কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমকে অবহিত করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী সরকারি সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ে শাকিলের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন।
শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ ঢাকার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ভোরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মৃত শাকিলের চাচা বুকুল মেম্বার জানান, ২০১৯ সালে অভাবের সংসারের হাল ধরতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ করে ঢাকার বনানী এলাকার আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শাকিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে নিয়োগকর্তার সঙ্গে আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করে অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মৃতের ফুফু মোছা. চায়না বেগম জানান, মৃত্যুর ১০ দিন আগে ফোনে শাকিল বলেছিল, আমি খুব কষ্টে আছি। শরীর শুকিয়ে গেছে, জেলের খাবার খেতে পারি না। আমাকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে নিয়ে যান।
ছেলের জামিন ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা সৌদিতে আইনজীবীর কাছে পাঠিয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি।
স্বজনদের দাবি, গত ১৫ মে কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এতে তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে কারাগারের ভেতরেই মারা যান শাকিল।
শাকিলের বাবা ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার ছেলে ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। মরদেহ আনতে অনেক টাকা লাগতো। সরকারি সহায়তায় দ্রুতই আমার ছেলের মরদেহ বাড়িতে এসেছে। সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের জন্য সহযোগিতা চাই।’
এসকে রাসেল/এএইচ/এমএস
What's Your Reaction?