দোকান বা ঘর ভাড়ার জামানত নেওয়া ও খরচ করার বিধান
প্রশ্ন: দোকান বা ঘর ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াদাতা ভাড়াগ্রহীতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা জামানত হিসেবে নেওয়ার প্রচলন আছে। প্রশ্ন হলো, এভাবে দোকান/ঘর ভাড়ার জামানত নেওয়া ইসলামে জায়েজ কি না এবং এই টাকা ভাড়াদাতা নিজের প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন কি না? উত্তর: দোকান বা ঘর ভাড়া দেওয়ার সময় মালিক পক্ষ ভাড়াগ্রহীতার কাছ থেকে যে টাকা গ্রহণ করেন, তা কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। লেনদেনের ধরন এবং শর্তের ভিন্নতার কারণে এর শরঈ বিধানও ভিন্ন হয়। নিচে সমাজে সর্বাধিক প্রচলিত দুটি পদ্ধতি এবং এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট বিধান তুলে ধরা হলো। ১. অগ্রিম ভাড়া (Advance Money) ভাড়া চুক্তির শুরুতে মালিকপক্ষ ভাড়াগ্রহীতার কাছ থেকে অগ্রিম ভাড়া বাবদ এককালীন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রতি মাসের মূল ভাড়া থেকে এই টাকা অল্প অল্প করে কাটতে থাকা হয় এবং চুক্তি শেষে মালিককে এই টাকা আর ফেরত দিতে হয় না। শরঈ বিধান: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে অর্থ গ্রহণ বৈধ। অগ্রিম এই টাকাটি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তা মালিকের নিজস্ব মালিকানাধীন হয়ে যায়। সুতরাং, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এই টাকা
প্রশ্ন: দোকান বা ঘর ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াদাতা ভাড়াগ্রহীতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা জামানত হিসেবে নেওয়ার প্রচলন আছে। প্রশ্ন হলো, এভাবে দোকান/ঘর ভাড়ার জামানত নেওয়া ইসলামে জায়েজ কি না এবং এই টাকা ভাড়াদাতা নিজের প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন কি না?
উত্তর: দোকান বা ঘর ভাড়া দেওয়ার সময় মালিক পক্ষ ভাড়াগ্রহীতার কাছ থেকে যে টাকা গ্রহণ করেন, তা কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। লেনদেনের ধরন এবং শর্তের ভিন্নতার কারণে এর শরঈ বিধানও ভিন্ন হয়। নিচে সমাজে সর্বাধিক প্রচলিত দুটি পদ্ধতি এবং এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট বিধান তুলে ধরা হলো।
১. অগ্রিম ভাড়া (Advance Money)
ভাড়া চুক্তির শুরুতে মালিকপক্ষ ভাড়াগ্রহীতার কাছ থেকে অগ্রিম ভাড়া বাবদ এককালীন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রতি মাসের মূল ভাড়া থেকে এই টাকা অল্প অল্প করে কাটতে থাকা হয় এবং চুক্তি শেষে মালিককে এই টাকা আর ফেরত দিতে হয় না।
শরঈ বিধান: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে অর্থ গ্রহণ বৈধ। অগ্রিম এই টাকাটি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তা মালিকের নিজস্ব মালিকানাধীন হয়ে যায়। সুতরাং, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এই টাকা যেখানে ইচ্ছা খরচ করতে পারবেন কিংবা যেকোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারবেন।
২. জামানত (Security Money)
এই পদ্ধতিতে ভাড়াদাতা এই শর্তে ভাড়াগ্রহীতার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা জামানত হিসেবে গ্রহণ করেন যে, ভাড়ার মেয়াদ বা চুক্তি শেষ হলে এই পুরো টাকা ভাড়াগ্রহীতাকে হুবহু ফেরত দেওয়া হবে।
শরঈ বিধান: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে জামানত নেওয়া বৈধ। তবে এই জামানত বা সিকিউরিটি মানি ভাড়াদাতার কাছে 'বন্ধক' হিসেবে থাকে। তাই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ভাড়াদাতা ওই টাকা কেবল সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা হিসেবে জমা রাখতে পারবেন, নিজের কোনো ব্যক্তিগত কাজে তা খরচ বা ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ, বন্ধকি সম্পদ ভোগ বা ব্যবহার করা সুদের অন্তর্ভুক্ত।
বর্ণিত রয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা.) কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল, আমার কাছে একটি ঘোড়া বন্ধক রাখা হয়েছে এবং আমি (ব্যক্তিগত প্রয়োজনে) তাতে আরোহণ করেছি। এর কী হুকুম?’ তিনি জবাবে বললেন, তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)
তাই জামানত বা সিকিউরিটি মানি মালিকপক্ষ খরচ না করে আমানত হিসেবে জমা রাখবেন, আর যদি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করার ইচ্ছা থাকে, তবে তা সিকিউরিটি মানি হিসেবে না নিয়ে 'অগ্রিম ভাড়া' হিসেবে গ্রহণ করবেন।
ওএফএফ
What's Your Reaction?