ধান কাটতে বলায় গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে শ্যামল চন্দ্র মালী নামের এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত হাসান আলীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) কাশিড়া শীলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। আটক হাসান আলী উপজেলার ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি ভবঘুরে প্রকৃতির। পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার বিকেলে শ্যামল চন্দ্র মালী কাশিড়া হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে কাশিড়া সড়কে হাসান আলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় শ্যামল চন্দ্র মালী গ্রামের একটি জমির ধান কাটার কথা হাসানকে বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শ্যামল বাজারের দিকে রওনা দিলে কিছুক্ষণ পর হাসান একটি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে শ্যামল চন্দ্র মালী নামের এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত হাসান আলীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।
শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) কাশিড়া শীলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। আটক হাসান আলী উপজেলার ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি ভবঘুরে প্রকৃতির।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, শনিবার বিকেলে শ্যামল চন্দ্র মালী কাশিড়া হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পথে কাশিড়া সড়কে হাসান আলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় শ্যামল চন্দ্র মালী গ্রামের একটি জমির ধান কাটার কথা হাসানকে বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শ্যামল বাজারের দিকে রওনা দিলে কিছুক্ষণ পর হাসান একটি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে হাসান আলীকে আটক করেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, নিহতের মরদেহ জরুরি বিভাগের সামনে রাখা আছে। সেখানে স্ত্রী দীপালী মালীসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীপালী মালী বলেন, আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। আমার ছেলে-মেয়েরা আজ এতিম হয়ে গেল।
নিহতের ছোট ভাই পরিমল চন্দ্র মালী বলেন, কথা-কাটাকাটির পর দাদা হাটে যাচ্ছিলেন। তখন হাসান পেছন থেকে গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী বলেন, কাকার মাথায় আঘাত করে হাসান পালিয়ে যাচ্ছিল। আমি ধাওয়া করে তাকে আটক করি। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে থাকা হাসান আলী বলেন, আমাকে ধান কাটতে বলেছিল। এ কারণে আমি গাছের ডাল দিয়ে শ্যামলের মাথায় আঘাত করেছি। পরে লোকজন আমাকে ধরে মারধর করেছে।
আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহজাবিন বলেন, শ্যামল চন্দ্র মালীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম বলেন, মাথায় আঘাত করে শ্যামল চন্দ্র মালী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত হাসান আলীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
What's Your Reaction?