ধূমপান করলে জরিমানা-শাস্তি হয় যেসব দেশে
কেউ ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সিগারেটে সুখ টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়লো আর সেই দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়া লাগলো এসে আপনার নাকেমুখে। মন-মেজাজ গেল বিগড়ে, যে কাজে যাচ্ছিলেন তার চিন্তাও মাথায় থাকলো না। এমন পরিস্তিতিতে পড়েন না খুব কম মানুষই আছেন। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে, পার্কে বসে কিংবা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানাটা আমাদের দেশে খুবই সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশে এই দৃশ্য দেখা যায় না। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি কমাতে একের পর এক কঠোর আইন চালু করছে বিশ্ব অনেক দেশের সরকার। কোথাও নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ধূমপান করলে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা, আবার কোথাও আইন ভাঙলে হতে পারে কারাদণ্ডও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউআইচও) তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নিজেরা ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এই বাস্তবতা থেকেই বিভিন্ন দেশ ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আসুন আজ বিশ্ব ধূমপানমুক্ত দিবসে এমন কয়েকটি দেশের কথা জেনে নেওয়া যাক যেখানে ধূমপানের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে- সিঙ্গাপুর ধূমপান নিয়ন্ত্
কেউ ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সিগারেটে সুখ টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়লো আর সেই দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়া লাগলো এসে আপনার নাকেমুখে। মন-মেজাজ গেল বিগড়ে, যে কাজে যাচ্ছিলেন তার চিন্তাও মাথায় থাকলো না। এমন পরিস্তিতিতে পড়েন না খুব কম মানুষই আছেন। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে, পার্কে বসে কিংবা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানাটা আমাদের দেশে খুবই সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশে এই দৃশ্য দেখা যায় না।
জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি কমাতে একের পর এক কঠোর আইন চালু করছে বিশ্ব অনেক দেশের সরকার। কোথাও নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ধূমপান করলে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা, আবার কোথাও আইন ভাঙলে হতে পারে কারাদণ্ডও।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউআইচও) তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নিজেরা ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এই বাস্তবতা থেকেই বিভিন্ন দেশ ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আসুন আজ বিশ্ব ধূমপানমুক্ত দিবসে এমন কয়েকটি দেশের কথা জেনে নেওয়া যাক যেখানে ধূমপানের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে-
সিঙ্গাপুর
ধূমপান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর দেশগুলোর একটি হলো সিঙ্গাপুর। দেশটিতে বাসস্ট্যান্ড, পার্ক, শপিং মল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ। নির্ধারিত স্মোকিং জোনের বাইরে ধূমপান করলে জরিমানা গুনতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানার পরিমাণ এক হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত হতে পারে। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে। সিঙ্গাপুরে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপনও প্রায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি নতুন নতুন পাবলিক স্পেসকে ধীরে ধীরে ‘স্মোক-ফ্রি জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।
জাপান
জাপানের জাতীয় পর্যায়ে ধূমপানবিরোধী আইন তুলনামূলক নমনীয় হলেও দেশটির অনেক শহর ও স্থানীয় প্রশাসন নিজস্ব নিয়ম চালু করেছে। বিশেষ করে টোকিওসহ বড় শহরগুলোতে ব্যস্ত সড়ক, রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং জনবহুল পথচারী অঞ্চলে ধূমপান করলে জরিমানা করা হয়। ফলে অনেক জায়গায় নির্দিষ্ট স্মোকিং বুথ ছাড়া ধূমপান করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। জাপানের এই নীতির মূল উদ্দেশ্য শুধু ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে জ্বলন্ত সিগারেট থেকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করাও।
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া বহু বছর ধরেই তামাক নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অন্যতম অগ্রগামী দেশ। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সৈকত, শিশুদের খেলার মাঠ, স্টেডিয়াম এবং গণপরিবহন এলাকার আশপাশে ধূমপানের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইন অমান্য করলে জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়। একই সঙ্গে তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটেও বড় আকারে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কেন কঠোর হচ্ছে আইন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, শিশু ও গর্ভবতী নারীরাও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার সঙ্গে তামাকের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
এই কারণে বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ ধূমপানকে ব্যক্তিগত অভ্যাসের বাইরে একটি জনস্বাস্থ্য ইস্যু হিসেবে দেখছে। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, ধূমপান ছাড়তে কাউন্সেলিং, নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালু করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা?
বাংলাদেশেও পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করার আইন রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জরিমানা কার্যকরভাবে আদায়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
ধূমপানমুক্ত সমাজ গঠন কোনো একদিনের কাজ নয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বলছে, কঠোর আইন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সচেতনতা এই তিনের সমন্বয় ঘটাতে পারলে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। আর তাতেই রক্ষা পাবে লাখো মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন।
সূত্র: গ্লোবাল নিউজ, দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম
- আরও পড়ুন
ওয়ান হেলথ: মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য সংহতি
সেতু থাকতেও নৌকায় নদী পাড় হয় এখানকার মানুষ
কেএসকে
What's Your Reaction?