নওগাঁয় টানা এক মাস স্থিতিশীল চালের বাজার
কেজিপ্রতি ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার পর গত এক মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ চাল উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র নওগাঁর পাইকারি চালের বাজার। তবে দাম স্থির থাকলেও কমেছে কেনাবেচা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের চাল আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে বড় ক্রেতারা নতুন করে চাল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। জানা গেছে, চাল আমদানি পরিকল্পনার গুঞ্জনের প্রভাবে চার সপ্তাহ ধরে মোকাম প্রায় ক্রেতাশূন্য। আগে নওগাঁ মোকাম থেকে দৈনিক অন্তত ১০০ ট্রাক চাল দেশের বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ ট্রাকে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে শহরের আড়তদার, পট্টি ও চালের মোকাম ঘুরে ব্যবসায়ী ও মিলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। বর্তমানে অটোমেটিক রাইস মিলে উৎপাদিত মানভেদে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৫০ টাকা, জিরাশাইল ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা এবং সম্পা কাটারি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। অন্যদিকে হাসকিং মিলে উৎপাদিত স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, জিরাশাইল ৬২ থেকে ৬৪ টাকা এবং সম্পা কাটারি ৫৫ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় এক মাস আগে এসব চালের দাম কেজিতে ১ থ
কেজিপ্রতি ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার পর গত এক মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ চাল উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র নওগাঁর পাইকারি চালের বাজার। তবে দাম স্থির থাকলেও কমেছে কেনাবেচা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের চাল আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে বড় ক্রেতারা নতুন করে চাল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
জানা গেছে, চাল আমদানি পরিকল্পনার গুঞ্জনের প্রভাবে চার সপ্তাহ ধরে মোকাম প্রায় ক্রেতাশূন্য। আগে নওগাঁ মোকাম থেকে দৈনিক অন্তত ১০০ ট্রাক চাল দেশের বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ ট্রাকে নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে শহরের আড়তদার, পট্টি ও চালের মোকাম ঘুরে ব্যবসায়ী ও মিলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
বর্তমানে অটোমেটিক রাইস মিলে উৎপাদিত মানভেদে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৫০ টাকা, জিরাশাইল ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা এবং সম্পা কাটারি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। অন্যদিকে হাসকিং মিলে উৎপাদিত স্বর্ণা-৫ জাতের চাল ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, জিরাশাইল ৬২ থেকে ৬৪ টাকা এবং সম্পা কাটারি ৫৫ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় এক মাস আগে এসব চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়লেও এরপর আর কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
নওগাঁ আড়তদারপট্টির একতা রাইস এজেন্সির ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন বলেন, এক মাস আগে চালের দাম বৃদ্ধির পর কয়েকদিন কেনাবেচা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিলো। এরপর প্রায় চার সপ্তাহ ধরে মোকাম ক্রেতাশূন্য। আগে প্রতিদিন নওগাঁ মোকাম থেকে অন্তত ১০০ ট্রাক চাল দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হতো। এখন কোনো কোনো দিন ৩০ ট্রাকও যায় না। গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ ট্রাক চাল সরবরাহ হচ্ছে।
বাংলাদেশ অটোমেটিক রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, বোরো মৌসুমের শুরুতে ধানের যে দাম ছিল, পরে তা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের বিল ও অন্যান্য উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে চাল উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে। তাই বর্তমান দামে চাল বিক্রি করেও মিলমালিকদের অতিরিক্ত লাভের সুযোগ নেই। সহসা চালের দাম কমারও তেমন সম্ভাবনা দেখছি না। সরকার চাল আমদানি করতে পারে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক পাইকার অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কৌশল নিয়েছেন। ফলে বাজারে লেনদেন কমে গেছে।
চালের বর্তমান দামকে স্বাভাবিক হিসেবে দাবি করে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, গত ইন্টেরিম সরকারের আমলের অনিয়ন্ত্রিত চাল আমদানির একটি ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে দেশের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে দেশীয় চালকল শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। চালের বাজারদর যৌক্তিক কারণেই এক মাস আগে প্রতি কেজিতে ১ থেকে ৩ টাকা বেড়েছিলো। এখানে অবৈধ মজুত বা বাজার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেউ দাম বাড়ায়নি। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল আমদানি না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরমান হোসেন বলেন/এনএইচআর/এমএস
What's Your Reaction?