নওগাঁয় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, জেলেদের মাছ শিকারের ধুম
নওগাঁয় নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, জেলেদের মাছ শিকারের ধুম
নওগাঁ প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টির কারণে নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলায় নদীর পানি বিপৎসীম ছুঁই ছুঁই। খাল-বিল পানিতে টইটুম্বুর। এলাকার মাঠ-ঘাটেও জমেছে পানি। গ্রামের কোথাও কোথাও হাঁটু পানি। আর এই অবস্থায় জেলেদের পড়েছে মাছ শিকারের ধুম।
অনেকেই নদী ও খাল-বিলের বিভিন্ন স্থানে তাদের বড় ফাঁসের জাল, খেপলা জাল, ঠেলা জাল, চারু, খলসান, খড়া জাল স্থাপন করে মাছ শিকার শুরু করেছেন। আবার অনেক পরিবার মাছ শিকারের প্রস্তুতি হিসেবে জাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত।
রাণীনগর ও আত্রাই এই দুই উপজেলা যুগ যুগ ধরে বন্যা কবলিত এলাকা। ভৌগলিক দিক থেকে এ দুই উপজেলার বুক চিড়ে ঐতিহাসিক ছোট যমুনা ও আত্রাই নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর দুই পাশের খাল-বিলগুলো অল্পতেই পানিতে ডুবে যায়। এবারও গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হয়ে গেছে। এসব পানি বিভিন্ন খাল-বিলে প্রবেশ করায় খাল-বিলগুলোও এখন পানিতে পরিপূর্ণ।
শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল পানি শূন্য হওয়ায় বেশ কয়েক মাস ধরে জেলে পরিবারের মাঝে অভাব অনটন দেখা দেয়। মা
নওগাঁয় নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, জেলেদের মাছ শিকারের ধুম
নওগাঁ প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টির কারণে নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলায় নদীর পানি বিপৎসীম ছুঁই ছুঁই। খাল-বিল পানিতে টইটুম্বুর। এলাকার মাঠ-ঘাটেও জমেছে পানি। গ্রামের কোথাও কোথাও হাঁটু পানি। আর এই অবস্থায় জেলেদের পড়েছে মাছ শিকারের ধুম।
অনেকেই নদী ও খাল-বিলের বিভিন্ন স্থানে তাদের বড় ফাঁসের জাল, খেপলা জাল, ঠেলা জাল, চারু, খলসান, খড়া জাল স্থাপন করে মাছ শিকার শুরু করেছেন। আবার অনেক পরিবার মাছ শিকারের প্রস্তুতি হিসেবে জাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত।
রাণীনগর ও আত্রাই এই দুই উপজেলা যুগ যুগ ধরে বন্যা কবলিত এলাকা। ভৌগলিক দিক থেকে এ দুই উপজেলার বুক চিড়ে ঐতিহাসিক ছোট যমুনা ও আত্রাই নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর দুই পাশের খাল-বিলগুলো অল্পতেই পানিতে ডুবে যায়। এবারও গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই হয়ে গেছে। এসব পানি বিভিন্ন খাল-বিলে প্রবেশ করায় খাল-বিলগুলোও এখন পানিতে পরিপূর্ণ।
শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল পানি শূন্য হওয়ায় বেশ কয়েক মাস ধরে জেলে পরিবারের মাঝে অভাব অনটন দেখা দেয়। মাছ শিকার করতে না পেরে অনেকে পেশা পরিবর্তন করে জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য পেশা অবলম্বন করেন। সম্প্রতি নদী ও খাল-বিলে পানি আসায় তাদের চোখ মুখে হাসির ঝিলিক ফুটেছে। তারা এখন কোমরে কাপড় গুঁজে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
আত্রাই উপজেলার আট ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার জেলে পরিবার রয়েছে, যারা নিয়মিত মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি অর্থে নিজের পরিবারের ভরণপোষণ করে থাকেন। শুধু বর্ষা মৌসুমে মাছ শিকারের অর্থ দিয়ে সারা বছর পরিবার পরিজনের জীবিকা নির্বাহ কষ্টকর হয়ে যায় বলে অনেক জেলে জানিয়েছেন।
উপজেলার খঞ্জর গ্রামের মৎস্যজীবী অজিত কুমার হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ‘আগে সারা বছরই আমরা মাছ শিকার করতে পারতাম। কিন্তু এখন শুষ্ক মৌসুমে নদী ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় বছরের অর্ধেকের বেশি সময় মাছ শিকার করতে পারি না। ফলে ওই সময়গুলোতে আমাদের অন্য পেশা অবলম্বন করতে হয় ‘
মৎস্যজীবী স্বপন কুমার হাওলাদার বলেন, ‘বর্তমান বর্ষা মৌসুমেও আগের মতো আর মাছ হচ্ছে না। এখন যত্রতত্র রিং-জাল ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ জাল এতটাই মারাত্মক যে, মাছের একেবারে ছোট পোনাও রেহাই পায় না। ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই আগের মতো আর আমরা মাছ পাচ্ছি না।’
রাণীনগর উপজেলার কুজাইল হালদার পাড়া এলাকার একাধিক জেলেরা বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে অনেক প্রকারের মাছ পাওয়া যায়। তবে বাজারে তেমন দাম পাওয়া যায় না। কারণ এই সময় প্রায় সকলেই মাছ মারে। কেউ শখের বসে, আবার কেউ ইচ্ছে করে। তারপরও আমাদের মাছ মেরে সেগুলো বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। তবে যখন পানি শুকিয়ে যায়, তখন মাছ পাওয়া যায় না। তাই এই সময়টা আমাদের খুব ব্যস্ততা বেড়ে যায়।’
আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘আত্রাই উপজেলা মাছের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হয়। উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছের প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ রিং-জাল ব্যবহার না করার জন্য আমরা প্রচার-প্রচারণা করছি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রিং ও কারেন্টজাল জব্দ এবং তাৎক্ষণিক আগুন পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন এ জন্য আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি।’
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘অবৈধ মাছ শিকারিদের কবল থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। সেখানে নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং বিক্রেতাদের জরিমানাও করছি।’