নগ্নতাকে শিল্পসম্মতভাবে উপস্থাপন, গুরুত্ব পাচ্ছে ‘সাংবাদিকতা’
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন রূপে ফিরেছে প্লেবয় ম্যাগাজিন। ব্র্যান্ডটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক রূপ দিতে চায় এর সম্পাদনা পরিষদ। একসময় নারীদের ‘প্লেবয় বানি’ (প্লেবয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত গ্ল্যামার মডেল) হিসেবে উপস্থাপনের জন্য পরিচিত এই ম্যাগাজিনটি এখন নতুন দর্শন নিয়ে এগোচ্ছে। পুনরায় চালু হওয়া প্লেবয়ের প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে (গত এপ্রিলে প্রকাশিত) ছিলেন কলম্বিয়ার পপ তারকা কারোল জি। সীমিত সংখ্যায় ছাপা সেই সংস্করণ দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। সম্প্রতি দ্বিতীয় সংখ্যার প্রচ্ছদে রয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী কারা ডেলেভিন, যেখানে তিনি শুধু একটি ল্যাটেক্স করসেট পরে উপস্থিত হয়েছেন। এই সংখ্যার মুদ্রণসংখ্যা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। প্লেবয়ের সম্পাদক-ইন-চিফ ও প্রধান ব্র্যান্ড কর্মকর্তা ফিলিপ পিকার্ডি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কোনো নারীকে প্লেবয়ের প্রচ্ছদে তুলে ধরলে যে ধরনের আলোচনা ও সংবাদ তৈরি হয়, তা আমার পুরো ক্যারিয়ারে আর কখনও দেখিনি-এমনকি কঁদে নাস্তে কাজ করার সময়ও নয়।’ তিনি জানান, নতুন প্লেবয়ের লক্ষ্য শুধু নগ্নতা প্রদর্শন নয়; বরং গল্প বলার ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা এবং সেটিকে ডিজিটাল, সামাজিক যোগা
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন রূপে ফিরেছে প্লেবয় ম্যাগাজিন। ব্র্যান্ডটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক রূপ দিতে চায় এর সম্পাদনা পরিষদ। একসময় নারীদের ‘প্লেবয় বানি’ (প্লেবয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত গ্ল্যামার মডেল) হিসেবে উপস্থাপনের জন্য পরিচিত এই ম্যাগাজিনটি এখন নতুন দর্শন নিয়ে এগোচ্ছে।
পুনরায় চালু হওয়া প্লেবয়ের প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে (গত এপ্রিলে প্রকাশিত) ছিলেন কলম্বিয়ার পপ তারকা কারোল জি। সীমিত সংখ্যায় ছাপা সেই সংস্করণ দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। সম্প্রতি দ্বিতীয় সংখ্যার প্রচ্ছদে রয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী কারা ডেলেভিন, যেখানে তিনি শুধু একটি ল্যাটেক্স করসেট পরে উপস্থিত হয়েছেন। এই সংখ্যার মুদ্রণসংখ্যা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
প্লেবয়ের সম্পাদক-ইন-চিফ ও প্রধান ব্র্যান্ড কর্মকর্তা ফিলিপ পিকার্ডি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কোনো নারীকে প্লেবয়ের প্রচ্ছদে তুলে ধরলে যে ধরনের আলোচনা ও সংবাদ তৈরি হয়, তা আমার পুরো ক্যারিয়ারে আর কখনও দেখিনি-এমনকি কঁদে নাস্তে কাজ করার সময়ও নয়।’
তিনি জানান, নতুন প্লেবয়ের লক্ষ্য শুধু নগ্নতা প্রদর্শন নয়; বরং গল্প বলার ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা এবং সেটিকে ডিজিটাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে বিস্তৃত করা।
‘প্লেবয় আর পর্নো এক জিনিস নয়’
পিকার্ডির ভাষায়, ৭৩ বছরের ঐতিহ্যে প্লেবয় সবসময় ‘ইরোটিক শিল্প’ এবং ‘আকাঙ্ক্ষার নান্দনিকতা’ তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, প্লেবয় ও পর্নোগ্রাফির মধ্যে সবসময়ই পার্থক্য ছিল। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে সহজেই পর্নে প্রবেশ করা যায়, তার বিপরীতে আমরা নগ্নতাকে শিল্পসম্মত ও চিন্তাশীলভাবে উপস্থাপন করতে চাই।
মডেলদের পূর্ণ স্বাধীনতা
প্লেবয় এখনও ‘প্লেমেট অব দ্য মান্থ’ নির্বাচন করছে। তবে পিকার্ডি বলেন, কোনো মডেল কতটুকু শরীর দেখাবেন, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের।
তার ভাষায়, আমরা নারীর ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিই না। ফটোগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট বেছে নেওয়া থেকে শুরু করে পুরো সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় মডেলদের মতামত ও অনুমোদন থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, তিনি প্লেবয়কে সরাসরি নারীবাদী বলতে চান না, কারণ এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে নারীদের নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
নারী পাঠকদেরকে গুরুত্ব
পিকার্ডি জানান, প্লেবয়ের মূল পাঠক ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ হলেও, নারী পাঠকরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শ্রোতা। তার মতে, নারীরা যদি আমাদের কনটেন্টকে আকর্ষণীয় মনে না করেন, তাহলে এমন একটি ম্যাগাজিন হিসেবে সফল হওয়া সম্ভব নয়, যা পুরুষদের জন্য হলেও নারীদের অভিজ্ঞতা ও আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে তৈরি।
ফিরছে ‘প্লেবয় বানি’
একসময় প্লেবয়ের পরিচয়ের বড় অংশ ছিল প্লেবয় বানি—খরগোশের কান, বো-টাই ও বিশেষ পোশাক পরা নারীরা। নতুন পরিকল্পনায় তাদের আবার ফিরিয়ে আনা হবে, তবে এবার তারা শুধু প্রতীকী চরিত্র নয়; বরং ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও অবদানকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করবেন।
পিকার্ডি জানান, বানি অন দ্য স্ট্রিট নামে একটি ভিডিও সিরিজের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সিরিজে একজন প্লেবয় বানি নাইটলাইফ এলাকায় নারী-পুরুষের সঙ্গে ডেটিং ও যৌনতা নিয়ে কথা বলবেন। এছাড়া বানি অন দ্য গ্রিন নামে আরেকটি সিরিজে গলফ কোর্সে মজার বিভিন্ন কার্যক্রম দেখানো হবে।
গুরুত্ব পাচ্ছে সাংবাদিকতা
পিকার্ডি বলেন, নতুন প্লেবয় শুধু বিনোদনের ম্যাগাজিন নয়; এতে মানসম্পন্ন সাংবাদিকতাও থাকবে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল সংকটের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ মাদক ব্যবহার নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এবং প্লেবয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘২০ কোয়েশ্চনস’ ও ‘প্লেবয় ইন্টারভিউ’ বিভাগ পুনরায় চালুর কথা উল্লেখ করেন।
স্টার্টআপ ভাবনায় পুরোনো ব্র্যান্ড
প্লেবয়ের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মিলার বলেন, নতুন প্লেবয় ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, ম্যাগাজিন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্লেমেট, প্লেবয় বানি, অনুষ্ঠান, লাইসেন্সিং এবং স্পনসরশিপ—সবকিছু মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্র্যান্ড ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন ও আর্কাইভ
প্লেবয় এরই মধ্যে ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন চালু করেছে। এর মাধ্যমে ১৯৫৩ সাল থেকে প্রকাশিত সব সংখ্যার আর্কাইভ, নতুন ম্যাগাজিন, প্লেমেটদের ফটোফিচার এবং ওয়েবসাইটের পূর্ণাঙ্গ কনটেন্ট দেখা যায়।
পিকার্ডি বলেন, পুরোনো পাঠকদের একটি বড় অংশ মূলত আর্কাইভের জন্যই সাবস্ক্রিপশন নিচ্ছেন। আমরা একটি ঐতিহ্যবাহী ও আইকনিক ব্র্যান্ডকে স্টার্টআপের মানসিকতা নিয়ে নতুনভাবে গড়ে তুলছি। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আমরা বিশ্বাস করি, প্লেবয়ের পুনর্জাগরণের যাত্রা এখনই শুরু হয়েছে।
সূত্র:প্রেস গেজেট
কেএম
What's Your Reaction?