নজরদারি শূন্য, চট্টগ্রামে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি

সরকারি তদারকি কার্যকরভাবে না থাকায় চট্টগ্রামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণহীনতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও তার সুফল খুচরা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে বাজারদরের বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং নগরের বিভিন্ন এলাকায় একই পণ্যের দাম ভিন্ন ভিন্নভাবে আদায় করা হচ্ছে।  মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ও দৃশ্যমান মনিটরিংয়ের অভাবে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরেনি। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে এলপিজি আমদানি বাড়াতে প্রশাসনিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আমদানিকারক অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে জাহাজ খালাস, এলসি জটিলতা এবং আমদানি অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে আমদানির গতি ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে জাহাজ আগমন বেড়েছে, পাশাপাশি সীতাকুণ্ডের বেসরকারি জেটিগুলোতেও খালাস কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।

নজরদারি শূন্য, চট্টগ্রামে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি
সরকারি তদারকি কার্যকরভাবে না থাকায় চট্টগ্রামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ন্ত্রণহীনতা বিরাজ করছে। সম্প্রতি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও তার সুফল খুচরা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে বাজারদরের বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং নগরের বিভিন্ন এলাকায় একই পণ্যের দাম ভিন্ন ভিন্নভাবে আদায় করা হচ্ছে।  মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ও দৃশ্যমান মনিটরিংয়ের অভাবে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরেনি। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে এলপিজি আমদানি বাড়াতে প্রশাসনিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আমদানিকারক অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করে জাহাজ খালাস, এলসি জটিলতা এবং আমদানি অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে আমদানির গতি ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে জাহাজ আগমন বেড়েছে, পাশাপাশি সীতাকুণ্ডের বেসরকারি জেটিগুলোতেও খালাস কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট বন্দর সূত্র জানায়, পূর্বের তুলনায় জাহাজের অবস্থানকাল কমাতে প্রশাসনিক সমন্বয়ও বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস ও মোংলা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত দুই বন্দর দিয়ে প্রায় ৯১ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। গত মাসের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার টন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ডের বেসরকারি জেটিগুলো দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২২ হাজার টন এলপিজি খালাস হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত অর্থবছরে দেশে মোট ১৭ লাখ ৫৪ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার টনের মতো চাহিদা রয়েছে বলে খাত সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান বলছে। আমদানির এই ঊর্ধ্বগতি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও খুচরা বাজারে তার অনুরূপ প্রভাব পড়েনি। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মঙ্গলবার এই নতুন দাম ঘোষণা করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে। দেশে এলপিজির খুচরা মূল্য নির্ধারণে বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারদর, সৌদি সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস), ডলার বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয় বিবেচনা করে প্রতি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ঘোষণা করে। এর আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। কিন্তু চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা, কাটঘর, অক্সিজেন, বাকলিয়া, কর্ণফুলী, চান্দগাঁও ও হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, একই সিলিন্ডার ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। সরকারি ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের এই বড় ব্যবধান দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একই ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার একই এলাকায় ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। কোনো দোকানে ১ হাজার ৭৫০ টাকা, পাশের দোকানে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, আবার অন্যত্র ১ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অনেক দোকানে দৃশ্যমান মূল্য তালিকা নেই। কোথাও মূল্য তালিকা থাকলেও তা হালনাগাদ করা হয়নি বা ঘোষিত দামের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। কিছু দোকানে সীমিত মজুদের কথা জানিয়ে একসঙ্গে একাধিক সিলিন্ডার বিক্রি না করার প্রবণতাও দেখা গেছে। সরবরাহ এলেও অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। গত চার মাসে চট্টগ্রামের এলপিজি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। নভেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি প্রায় ৪৪ শতাংশ কমে যায় বলে কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রত্যাশিত হারে আমদানি বাড়েনি। কয়েকটি কোম্পানি আমদানি বাড়ানোর অনুমোদন না পাওয়ায় জানুয়ারিতে তীব্র সংকট দেখা দেয়। অনেক এলাকায় খুচরা দোকানে সিলিন্ডার কার্যত পাওয়া যায়নি। ক্রেতাদের একাধিক দোকান ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। পরবর্তীতে আমদানি অনুমোদন বৃদ্ধি এবং বিকল্প উৎস থেকে জাহাজ আগমন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়। তবে খুচরা পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় হয়নি। দেশে এলপিজি ব্যবসায় ২৮টি কোম্পানি সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও ২৩টির আমদানির অনুমোদন রয়েছে। চলতি অর্থবছরে সক্রিয় রয়েছে ১৬টি কোম্পানি এবং এর মধ্যে ৯টি কোম্পানি মোট আমদানির প্রায় ৯২ শতাংশ সম্পন্ন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের আমদানি কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত থাকায় সক্রিয় কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পাঁচ জাহাজে প্রায় ৫৭ হাজার টন এলপিজি চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তিনটি জাহাজে ২৪ হাজার টন এবং মার্চের প্রথমার্ধে দুই জাহাজে আরও ৩৩ হাজার টন আসার কথা রয়েছে। এছাড়া ইউনাইটেড আইগ্যাস, যমুনা স্পেকটেক ও ওমেরা পেট্রোলিয়ামসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আমদানি বৃদ্ধি করেছে। দেশের এলপিজি বাজার পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫২টি, যার মধ্যে ৩২টির নিজস্ব বোতলজাতকরণ প্ল্যান্ট আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তন সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলে বলে অপারেটররা জানিয়েছেন। ডিলাররা জানিয়েছেন, তারা কোম্পানি থেকে নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার সংগ্রহ করেন এবং নির্ধারিত মার্জিন রেখে পরিবেশকদের কাছে সরবরাহ দেন। তবে পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি, লোড-আনলোড চার্জ, গুদামজাত ব্যয় এবং স্থানীয় অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে খুচরা পর্যায়ে মূল্য বেড়ে যাচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।  কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করছে এবং খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের দায় কোম্পানির নয়। খুচরা বিক্রেতারা বলেছেন, সংগ্রহমূল্য ও সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। খুচরা ব্যবসায়ী ‘এন ইসলাম’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল ইসলাম বলেন, আমরা কোম্পানি থেকে যে দামে সিলিন্ডার পাই, তার সঙ্গে পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি, লোড-আনলোড চার্জ, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য স্থানীয় খরচ যুক্ত হয়। সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে, সেই দামে সবসময় বিক্রি করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় পর্যাপ্ত সরবরাহও থাকে না। একবারে কম সিলিন্ডার পাই, ফলে চাহিদা বেশি থাকলে দাম কিছুটা বাড়ে। চট্টগ্রাম শহরে মিরসরাই জোনের এলপিজির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজবী আহমেদ বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করছি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। চট্টগ্রাম নগরের লাইনের গ্যাসবিহীন বিস্তীর্ণ এলাকায় এলপিজিই একমাত্র রান্নার জ্বালানি। এসব এলাকায় সকাল থেকেই দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। অনেক দোকানে পাঁচ থেকে ১০টির বেশি সিলিন্ডার মজুত থাকে না। সরবরাহ এলেও অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এক দোকানে না পেলে অন্য দোকানে যেতে হয়, আর যেখানে পাওয়া যায় সেখানে দাম তুলনামূলক বেশি নেওয়া হয়। চাহিদা ও প্রাপ্যতার ভারসাম্যহীনতার কারণে একই এলাকায় ভিন্ন দামের প্রবণতা আরও বাড়ছে। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক গৃহিণী বলেন, প্রতি মাসে অন্তত দুইবার গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হয়। সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা শুনি, কিন্তু বাজারে গেলে ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত ৪০০–৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। সংসারের খরচ সামলাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি না থাকায় বেশি দাম দিয়েই কিনতে বাধ্য হচ্ছি।  কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন বলেন, একই এলাকায় একই ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের দাম একেক দোকানে একেক রকম। কোথাও ১ হাজার ৭৫০, কোথাও ১ হাজার ৯০০ টাকা। নির্ধারিত দামে কেন পাওয়া যায় না বুঝতে পারি না। রমজান শুরু হওয়ার পর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ইফতার ও সেহরির রান্নার চাপ বাড়ায় মাসিক ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারে চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পরিবার সিলিন্ডার ব্যবহারে সংযমী হওয়ার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। লাইনের গ্যাস না থাকায় বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগও সীমিত। বাজার মনিটরিং কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হলেও তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগে অভিযান চালানো হলেও কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে বাজার আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। নিয়মিত তদারকি না থাকায় সরকারি ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ কালবেলাকে বলেন, সরাসরি সাধারণ ভোক্তা অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং কার্যক্রমে ব্যস্ততা থাকায় নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। রমজানের আগে কিছু অভিযানও পরিচালিত হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow