নদীর পানি বাড়ছে, ফেনীতে বন্যার শঙ্কা
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো ভুলতে পারেননি ফেনীর মানুষ। এরই মধ্যে টানা বর্ষণ এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে জেলাজুড়ে। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা গত বছরের বিভীষিকার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ৫ থেকে ১৩ জুলাই দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে ফেনীর নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ফেনী জেলার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ওই দুর্যোগে ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় জেলার বাসিন্দাদের। ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কুসুম বেগম
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো ভুলতে পারেননি ফেনীর মানুষ। এরই মধ্যে টানা বর্ষণ এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে জেলাজুড়ে। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা গত বছরের বিভীষিকার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ৫ থেকে ১৩ জুলাই দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে ফেনীর নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ফেনী জেলার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। ওই দুর্যোগে ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় জেলার বাসিন্দাদের।
ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কুসুম বেগম বলেন, আমার বয়স ৬৫ বছরের বেশি। ২০২৪ সালের বন্যার কথা মনে পড়লেই এখনো গা শিউরে ওঠে। ঘরবাড়ি সব পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। অনেক ঋণ করে নতুন করে ঘর তুলেছি। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি দেখে আবারও সেই পরিস্থিতির আশঙ্কা করছি।
ছাগলনাইয়া পৌর শহরের বাসিন্দা আকাশ বলেন, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি ভালো নয়। সরকারকে আগেভাগেই কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ভারতের উজানের পানির কারণে সীমান্তবর্তী ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর খনন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেনী জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, প্রতি মুহূর্তের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম দৈনিক কালবেলাকে বলেন, ফেনীসহ পাঁচ জেলার জন্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কতা জারি রয়েছে। নদ-নদীর পানি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নদীতীরবর্তী অনেক পরিবার ইতোমধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
What's Your Reaction?