নদীর ভাঙনে নির্ঘুম রাত কাটছে সত্তরোর্ধ্ব জবিরণ বেওয়ার

মাথার ওপর বন্যার শঙ্কা, চোখের সামনে রাক্ষুসী নদীর আগ্রাসন। গত বছর যমুনার ভাঙনে সব হারিয়ে চরের বাড়িঘর ফেলে ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা এলাকায় অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব জবিরণ বেওয়া (৭২)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেখানেও স্বস্তি মেলেনি। জিও ব্যাগ দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যমুনা আর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ। বর্তমানে নদীভাঙন আর বন্যার চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে এই বৃদ্ধার। শুধু জবিরণ বেওয়াই নন, তার মতো হাসেম আলী, জরিনা এবং ফুলছড়ি উপজেলার মধ্য কঞ্চিপাড়ার ছকিনারাসহ সাতটি উপজেলার নদীপাড় ও নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ এখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জবিরণ বেওয়া বলেন, দুই বছর আগে চরের বাড়িঘর ভাইঙা এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন আবার নদী ভাঙতাছে। সারাদিন শুধু কান্নাকাটি করি আর নদীর পাড়ে বইসা ভাবি- কখন এই বিপদ কাটবে? এবার যদি এই ঘরটাও নদীতে চইলা যায়, তবে কই যামু, কী খামু আর কীভাবে চলমু? বৃহস্পতিবারও (১৬ জুলাই) পাশের দুইটা বাড়ি ভাইঙা নিয়ে গেল চোখের সামনে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন খালি কয় ঠিক কইরা দেবে, কিন্তু এক সপ্ত

নদীর ভাঙনে নির্ঘুম রাত কাটছে সত্তরোর্ধ্ব জবিরণ বেওয়ার
মাথার ওপর বন্যার শঙ্কা, চোখের সামনে রাক্ষুসী নদীর আগ্রাসন। গত বছর যমুনার ভাঙনে সব হারিয়ে চরের বাড়িঘর ফেলে ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা এলাকায় অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব জবিরণ বেওয়া (৭২)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেখানেও স্বস্তি মেলেনি। জিও ব্যাগ দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না ভাঙন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যমুনা আর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ। বর্তমানে নদীভাঙন আর বন্যার চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে এই বৃদ্ধার। শুধু জবিরণ বেওয়াই নন, তার মতো হাসেম আলী, জরিনা এবং ফুলছড়ি উপজেলার মধ্য কঞ্চিপাড়ার ছকিনারাসহ সাতটি উপজেলার নদীপাড় ও নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ এখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জবিরণ বেওয়া বলেন, দুই বছর আগে চরের বাড়িঘর ভাইঙা এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন আবার নদী ভাঙতাছে। সারাদিন শুধু কান্নাকাটি করি আর নদীর পাড়ে বইসা ভাবি- কখন এই বিপদ কাটবে? এবার যদি এই ঘরটাও নদীতে চইলা যায়, তবে কই যামু, কী খামু আর কীভাবে চলমু? বৃহস্পতিবারও (১৬ জুলাই) পাশের দুইটা বাড়ি ভাইঙা নিয়ে গেল চোখের সামনে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন খালি কয় ঠিক কইরা দেবে, কিন্তু এক সপ্তাহেও তো কোনো কাজ হইলো না বাবা! আমি কোনো টাকা-পয়সা চাই না, খালি নদী ভাঙা বন্ধ চাই। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে জবিরণ বেওয়া আগে ফুলছড়ির কালাসোনা চরে থাকতেন। সেখানে বন্যায় সব হারিয়ে উড়িয়ার ভুষির ভিটায় এক ব্যক্তির জমিতে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেন। কিন্তু দিন দিন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং তীব্র ভাঙনে বৃহস্পতিবার তার ঠিক পাশেই দুটি বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই জবিরণের চোখে আর ঘুম নেই।  স্থানীয়রা জানান, সামর্থ্যবানরা নদীভাঙনে পড়লে অন্যত্র জমি কিনে ঘর তোলার সুযোগ পেলেও জবিরণ বেওয়ার সেই সক্ষমতাটুকুও নেই। প্রতিবেশী হাশেম আলী দুঃখ প্রকাশ করে জানান, এই বৃদ্ধা মানুষের দয়ায় কোনোমতে বেঁচে আছেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান, কখনো কখনো না খেয়েও দিন কাটে। তার চরের বাড়ি ভাঙার পর এখানে অন্যের দেওয়া আশ্রয়টুকুও মনে হয় এবার নদী কেড়ে নেবে। সরকারের উচিত অবিলম্বে এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানো। একই এলাকার বাসিন্দা আরিফ জানান, আমরা নিজেরাও ছেলেমেয়ে নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি। আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হলে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। জবিরণ বেওয়ার মতো আমরাও এখানে বড় নিরুপায়। নদীভাঙন ও জিও ব্যাগের কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও নির্দেশনা পাওয়ামাত্রই ঝুঁকিপূর্ণ সব এলাকায় স্থায়ী কাজ শুরু করা হবে।  এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু জবিরণ বেওয়াই নন, নদীভাঙনে উচ্ছেদ হওয়া বা আশ্রয়হীন হওয়া যে কারোর জন্যই আমরা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করব। সেইসঙ্গে নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow