নাক ডাকার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান? জানুন সমাধান

ঘুমের সময় অনেকেরই নাক ডাকার সমস্যা দেখা যায়। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির তুলনায় তার আশপাশের মানুষের জন্য বেশি বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে, কারণ উচ্চ শব্দের কারণে অন্যদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। সাধারণত শ্বাসনালী আংশিকভাবে সংকুচিত বা বাধাগ্রস্ত হলে বাতাস চলাচলের সময় আশপাশের টিস্যু কেঁপে ওঠে এবং সেই কম্পন থেকেই নাক ডাকার শব্দ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে নাক ডাকা স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত ও উচ্চস্বরে নাক ডাকা কখনও কখনও স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। পুরুষদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এছাড়া গলা ও ঘাড়ের আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমা, স্থূলতা, শ্বাসনালীতে বাধা কিংবা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যাও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নাক ডাকার সমস্যা কমাতে নিচের কয়েকটি উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে- আরও পড়ুন জানেন কি টাকার মতো জমিয়ে রাখা যায় ঘুমও পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করুন ঘুমানোর ভঙ্গি নাক ডাকার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। চিৎ হয়ে শোয়ার সময় জিহ্বা ও গলার নরম টিস্যু শ্বাসনালীর দিকে সরে এসে বাতাসের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই পাশ ফিরে ঘুমালে শ্বাসনালী তুল

নাক ডাকার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান? জানুন সমাধান

ঘুমের সময় অনেকেরই নাক ডাকার সমস্যা দেখা যায়। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির তুলনায় তার আশপাশের মানুষের জন্য বেশি বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে, কারণ উচ্চ শব্দের কারণে অন্যদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। সাধারণত শ্বাসনালী আংশিকভাবে সংকুচিত বা বাধাগ্রস্ত হলে বাতাস চলাচলের সময় আশপাশের টিস্যু কেঁপে ওঠে এবং সেই কম্পন থেকেই নাক ডাকার শব্দ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে নাক ডাকা স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত ও উচ্চস্বরে নাক ডাকা কখনও কখনও স্বাস্থ্যগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। পুরুষদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এছাড়া গলা ও ঘাড়ের আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমা, স্থূলতা, শ্বাসনালীতে বাধা কিংবা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যাও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নাক ডাকার সমস্যা কমাতে নিচের কয়েকটি উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে-

পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করুন

ঘুমানোর ভঙ্গি নাক ডাকার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। চিৎ হয়ে শোয়ার সময় জিহ্বা ও গলার নরম টিস্যু শ্বাসনালীর দিকে সরে এসে বাতাসের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই পাশ ফিরে ঘুমালে শ্বাসনালী তুলনামূলক খোলা থাকে এবং নাক ডাকার প্রবণতা কমতে পারে। প্রয়োজনে বালিশের সাহায্যে এই ভঙ্গি বজায় রাখা যেতে পারে।

নাক পরিষ্কার রাখুন

নাক বন্ধ থাকলে বা নাসারন্ধ্রে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা জমে থাকলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, যা নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়। এ ক্ষেত্রে লবণ মেশানো হালকা গরম পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা উপকারী হতে পারে। এছাড়া ঘুমানোর আগে গরম পানিতে গোসল করলে নাকের পথ কিছুটা স্বস্তি পায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে গলা ও ঘাড়ের আশপাশে জমে থাকা চর্বি শ্বাসনালীকে সংকুচিত করতে পারে। ফলে ঘুমের সময় নাক ডাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে নাক ডাকার সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে কমে যেতে পারে।

রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন

ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত বা ভারী খাবার খাওয়া নাক ডাকার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে দুগ্ধজাত খাবার, সয়া দুধ কিংবা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার অনেকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। ভরা পেটে শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে এসে গলায় জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়।

কিছু ভেষজ উপাদান ব্যবহার করতে পারেন

পিপারমিন্ট, টি ট্রি এবং ইউক্যালিপটাস তেলের মতো কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নাসারন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে সহায়ক হতে পারে। এগুলোর সুবাস শ্বাসপ্রশ্বাসকে কিছুটা স্বস্তিদায়ক করে এবং নাক বন্ধের কারণে সৃষ্ট নাক ডাকার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

নাক ডাকা অনেক সময় সাময়িক ও সাধারণ সমস্যা হলেও এটি যদি নিয়মিত, তীব্র বা শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি ঘুমজনিত জটিল রোগের লক্ষণও হতে পারে।

তথ্যসূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow