নাজাতের ১০ দিনের দোয়া

অফুরন্ত বরকতের মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাধ্যমে এ মাসে মানবআত্মা পবিত্র হয়। শুদ্ধতার মিছিলে আলোড়ন তোলে। পবিত্র এই মাসে ভোরের সাহরি থেকে সন্ধ্যার ইফতার, দিনের রোজা থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি ইবাদতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দোয়া ও ইসতেগফার। কারণ রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়, এটি দোয়া কবুলের মাস, গোনাহ মাফের মাস এবং আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ। হজরত সালমান ফারসি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) শাবান মাসের শেষ দিন আমাদের মাঝে খতিব হিসেবে দাঁড়ালেন, বললেন মাহে রমজান এমন একটি মাস যার প্রথম ভাগে রহমত, মধ্যবর্তী ভাগে মাগফিরাত বা ক্ষমা আর শেষ ভাগে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৭) এ মাসে মুমিনকে যেসব বিষয়ের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম একটি হলো দোয়া কবুল। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ন্যায়পরায়ণ বাদশা, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং মজলুম ব্যক্তির দোয়া।’ (তিরমিজি :৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ : ১৭৫২) রমজানের তৃতীয় ১০ দিন যেহেতু নাজাতের, তাই এ সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য বেশি দোয়া দোয়া করা উচিত। এ ক্ষেত্রে কাল

নাজাতের ১০ দিনের দোয়া

অফুরন্ত বরকতের মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাধ্যমে এ মাসে মানবআত্মা পবিত্র হয়। শুদ্ধতার মিছিলে আলোড়ন তোলে। পবিত্র এই মাসে ভোরের সাহরি থেকে সন্ধ্যার ইফতার, দিনের রোজা থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি ইবাদতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দোয়া ও ইসতেগফার। কারণ রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়, এটি দোয়া কবুলের মাস, গোনাহ মাফের মাস এবং আল্লাহর রহমত লাভের সুবর্ণ সুযোগ।

হজরত সালমান ফারসি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) শাবান মাসের শেষ দিন আমাদের মাঝে খতিব হিসেবে দাঁড়ালেন, বললেন মাহে রমজান এমন একটি মাস যার প্রথম ভাগে রহমত, মধ্যবর্তী ভাগে মাগফিরাত বা ক্ষমা আর শেষ ভাগে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। (সহিহ ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৭)

এ মাসে মুমিনকে যেসব বিষয়ের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম একটি হলো দোয়া কবুল। মহানবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ন্যায়পরায়ণ বাদশা, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং মজলুম ব্যক্তির দোয়া।’ (তিরমিজি :৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ : ১৭৫২)

রমজানের তৃতীয় ১০ দিন যেহেতু নাজাতের, তাই এ সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য বেশি দোয়া দোয়া করা উচিত।

এ ক্ষেত্রে কালবেলার পাঠকদের জন্য কোরআনে বর্ণিত কিছু দোয়ার কথা জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর-১২-এর ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

এক . رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

বাংলা উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার। (সুরা বাকারা : ২০১‌)

দুই . رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ

বাংলা উচ্চারণ : রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব। (সুরা ইবরাহিম : ৪১)

অর্থ : হে আমাদের প্রভু, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার বাবা-মাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করো। 

অর্থ : হে পরওয়ারদেগার, আমাদিগকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করো এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করো। আর আমাদেরকে দোজখের আগুন থেকে রক্ষা করো।

তিন. رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلاَنَا

বাংলা উচ্চারণ : রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা-লা তোয়াক্বাতা লানা বিহি, ওয়া’ফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন। (সুরা বাকারাহ : ২৮৬)

অর্থ : হে আমাদের রব, যে বোঝা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই, সে বোঝা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিও না। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। তুমিই আমাদের প্রভু। 

উল্লিখিত দোয়াগুলো ছাড়া আরও অসংখ্য দোয়া রয়েছে, সেগুলোও করতে পারবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow