নামেই ‘কিডস জোন’, নেই খেলার সরঞ্জাম

বেলা গড়িয়ে তখন বিকেল প্রায় ৫টা। পার্কের কিটস জোনের সামনে গিয়ে তালা দেখে থমকে যায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি। এতে তার মনটা খারাপ হয়ে যায়। বৃষ্টির ভাষ্য, ‌‘আগে এখানে এলে ম্যাজিক কার, বিভিন্ন টয় আর রেলগাড়িতে চড়তাম। অনেক আনন্দ হতো। আজ এসে দেখি দোলনা ছাড়া সবই নষ্ট। অনেক কষ্ট করে এসে কোনো লাভ হয়নি।’ খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের কিটস জোনে শিশু বৃষ্টির সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সেখানে দেখা যায়, শুধু কিটস জোন না, পার্কে বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকের সমাগম ঘটে। পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে বিনোদনের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ শহরের কাছে ২০১৩ সালে ২০ একর জায়গায় নিয়ে চালু হয় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্ক। শহরের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের পাশাপাশি সারা বছরই স্থানীয় দর্শনাথীরা এখানে ভিড় করেন। বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণের স্থানও বটে। সাপ্তাহিক ছুটি বা উৎসবের সময় দর্শনাথী সংখ্যা আরও বাড়ে। ৪০ টাকায় টিকিট কেটে পার্কে ঢুকতে হয়। তবে পার্কে প্রবেশ করার পর হতাশ হন অনেকে। পার্কের ঝুল

নামেই ‘কিডস জোন’, নেই খেলার সরঞ্জাম

বেলা গড়িয়ে তখন বিকেল প্রায় ৫টা। পার্কের কিটস জোনের সামনে গিয়ে তালা দেখে থমকে যায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি। এতে তার মনটা খারাপ হয়ে যায়।

বৃষ্টির ভাষ্য, ‌‘আগে এখানে এলে ম্যাজিক কার, বিভিন্ন টয় আর রেলগাড়িতে চড়তাম। অনেক আনন্দ হতো। আজ এসে দেখি দোলনা ছাড়া সবই নষ্ট। অনেক কষ্ট করে এসে কোনো লাভ হয়নি।’

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের কিটস জোনে শিশু বৃষ্টির সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। সেখানে দেখা যায়, শুধু কিটস জোন না, পার্কে বিনোদনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকের সমাগম ঘটে। পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে বিনোদনের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ শহরের কাছে ২০১৩ সালে ২০ একর জায়গায় নিয়ে চালু হয় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্ক। শহরের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের পাশাপাশি সারা বছরই স্থানীয় দর্শনাথীরা এখানে ভিড় করেন। বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণের স্থানও বটে।

সাপ্তাহিক ছুটি বা উৎসবের সময় দর্শনাথী সংখ্যা আরও বাড়ে। ৪০ টাকায় টিকিট কেটে পার্কে ঢুকতে হয়। তবে পার্কে প্রবেশ করার পর হতাশ হন অনেকে। পার্কের ঝুলন্ত ব্রিজ ছাড়া আকর্ষণীয় কিছুই নেই। শিশুদের জন্য কিডস জোন থাকলেও নেই কোনো পর্যাপ্ত রাইড। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ম্যাজিক কার, টয়, ট্রেন।

পার্কে আসা কিশোর রহিম বলে, ‘পার্কে তেমন কোনো রাইড নেই। যেগুলো আছে সেগুলোতে বসতে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। দুই একটা স্লিপার, দোলনা ছাড়া খেলার মতো কিছুই নেই।’

নামেই ‘কিডস জোন’, নেই খেলার সরঞ্জাম

দর্শনার্থী শাহেনা আক্তার জানান, পার্কে বিনোদনের ব্যবস্থা বলতে ঝুলন্ত ব্রিজ ছাড়া উপভোগ করার মতো কিছুই নেই। তবে সবচেয়ে হতাশাজনক হচ্ছে শিশুদের কিডস জোনের দু-একটা রাইড ছাড়া সবগুলো নষ্ট। কিটস জোন যেন ময়লার ভাগাড়। পার্কের ভেতরে লেক থাকলেও সংস্কারের অভাবে সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বোটগুলোর বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। লেকে কৃত্রিমভাবে পানি কায়াকিং সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটকদের আর্কষণ বাড়াতে পার্কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

কথা হয় স্থানীয় দর্শনার্থী রমেশ চাকমার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই পার্কে শুরুতে শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা থাকলেও গত তিন-চার বছর ধরে খেলার বেশিরভাগ সরঞ্জাম নষ্ট। সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখি না। জেলায় পর্যটক শিল্প বিকাশের স্বার্থে আর্কষণ বাড়াতে দ্রুত পার্কটির সংস্কার করা উচিত।’

নামেই ‘কিডস জোন’, নেই খেলার সরঞ্জাম

তবে পার্কের কিটস জোনের সবগুলো রাইড সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জেলা পরিষদ পার্কের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্কের আহ্বায়ক জয়া ত্রিপুরা বলেন, ‌‘কিডস জোনের প্রত্যেকটি রাইডস দ্রুত সংস্কার, লেকে কায়াকিং, দৃষ্টিনন্দন কটেজ নির্মাণসহ সংস্কার করে আর্কষণ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবার আগের মতো পর্যটক বাড়বে।

প্রবীর সুমন/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow