নার্সারি ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর নির্মম নির্যাতন
বরিশালে ফুলগাছ কেনার কথা বলে ডেকে নিয়ে মিলন শেখ নামের এক নার্সারি মালিককে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আট লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ে পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে টানা ৪ ঘণ্টা নির্মম নির্যাতন করা হয় তাকে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিহাত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসলেও নির্যাতনের কথা স্মরণ করে এখনো আঁতকে উঠছেন ভুক্তভোগী নার্সারি ব্যবসায়ী। নির্যাতনের শিকার মিলন শেখ (৪০) বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন শেখের ছেলে। নগরীর ভাটারখাল এলাকার মরিয়ম নার্সারির মালিক তিনি। বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মিলন। এই ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে অপহৃত মিলনের মোটরসাইকেলটি। এ ছাড়া কোতোয়ালি মডেল থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলাও করেছেন মিলনের স্ত্রী খালেদা বেগম। মামলায় আটক সুমন অপহরণ চক্রের হোতা তাপস ও মনজ নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে। অপহরণের শিকার মিলন শেখ বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের বাগানে ফুল গাছ সরবরাহের কথা বলে ডেকে নেয় এক ব্যক্তি। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাবুগঞ্জের রহমত
বরিশালে ফুলগাছ কেনার কথা বলে ডেকে নিয়ে মিলন শেখ নামের এক নার্সারি মালিককে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আট লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ে পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে টানা ৪ ঘণ্টা নির্মম নির্যাতন করা হয় তাকে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিহাত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসলেও নির্যাতনের কথা স্মরণ করে এখনো আঁতকে উঠছেন ভুক্তভোগী নার্সারি ব্যবসায়ী।
নির্যাতনের শিকার মিলন শেখ (৪০) বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠি এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন শেখের ছেলে। নগরীর ভাটারখাল এলাকার মরিয়ম নার্সারির মালিক তিনি। বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মিলন।
এই ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে অপহৃত মিলনের মোটরসাইকেলটি। এ ছাড়া কোতোয়ালি মডেল থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলাও করেছেন মিলনের স্ত্রী খালেদা বেগম। মামলায় আটক সুমন অপহরণ চক্রের হোতা তাপস ও মনজ নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে।
অপহরণের শিকার মিলন শেখ বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের বাগানে ফুল গাছ সরবরাহের কথা বলে ডেকে নেয় এক ব্যক্তি। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাবুগঞ্জের রহমতপুর সংলগ্ন এলাকায় প্রবাসী এম ডি হেলাল উদ্দিন মিয়ার মালিকানাধীন আক্রাম ফজিলাতুননেছা প্রাপার্টিজের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে। একটু পরেই তাপস, সুমন ও মনজ তাকে ধরে একতলা বাড়ির ভেতরে নিয়ে বেঁধে ফেলে।
মিলন বলেন, তারা বাড়ির মধ্যে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে প্রথমে আমার হাত, পা এবং স্কচটেপ দিয়ে আমার মুখ বাঁধে। পরে তারা আমাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। একপর্যায় মুক্তিপণ হিসেবে আমার কাছে ৮ লাখ টাকা দাবি করে।
তিনি আরও বলেন, অপহরণ চক্রের প্রধান তাপস বরিশাল নগরীর বাসিন্দা। বরিশাল সিটির তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের লোক ছিলেন তিনি। তখন তার মাধ্যমে ফুল গাছের অর্ডার পেতাম। আমাকে মারধরের সময় তাপস বলতে থাকে, শওকত হোসেন হিরনকে সে মেরেছে, মিলন নামের আরও একজনকে সে মেরেছে। আমি নাকি তার ৯ নম্বর শিকার।
এমন কথা শুনে বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিই। তখন অন্তত মরদেহটা যেন খুঁজে পায়, সেজন্য কৌশল করে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে তাদের ফোন দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা চেয়ে কান্না করে দিলে তারা আমার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে পুনরায় মারধর শুরু করে।
একপর্যায় আমাকে টয়লেটের মধ্যে অর্ধ উলঙ্গ করে কমডের ওপর বসিয়ে, হাত-পা মুখ বেঁধে রেখে শ্বাসরোধে হত্যার জন্য মাথার ওপর থেকে পলিথিন দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে দিয়ে তারা রুম থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে কী হয়েছে আর জানা নেই।
মিলন শেখের স্ত্রী খালেদা বেগম বলেন, স্বামীর টাকা চাওয়ার ধরণ এবং কান্নার শব্দ শুনে বুঝতে পারি কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানাই। পুলিশ মোবাইল নম্বর ট্রাকিং করে তার অবস্থান নিশ্চিত হন। এরই মধ্যে স্থানীয় এক শিশু রুমের মধ্যে থেকে গোঙানির শব্দ শুনে সবাইকে ডাকে। পরে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুলিশ পরিত্যক্ত ঘরের বাথরুম থেকে অজ্ঞান অবস্থায় মিলন শেখকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে নার্সারি ব্যবসায়ী শেখ মিলনকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার আগে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের সহায়তায় অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে অপহৃত মিলন শেখের মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
What's Your Reaction?