নাহিদ রানার আগে এই রেকর্ড কেবল মোস্তাফিজের
ইনিংসের ৪৬তম ওভারের তৃতীয় বল, ঘন্টায় ১৪১.৬ কিলোমিটার গতির দুর্দান্ত এক ইয়র্কার উড়ে গেলো জেইডন ল্যানক্সের উইকেট। ব্যস, ফাইফার পূর্ণ হলো নাহিদ রানার। ১০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন কীর্তি গড়লেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার। সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়েই নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে রাখলো টাইগাররা। ম্যাচ শেষে নাহিদের বোলিং ফিগার দাঁড়ালো ১০ ওভার ১ মেইডেন, ৩২ রানে ৫ উইকেট। ৬০ বৈধ ডেলিভারির মধ্যে ৪৩টিতেই তার বিপক্ষে রান বের করতে পারেননি কিউই ব্যাটাররা। পাকিস্তান সুপার লিগেও গতির জড় বইয়ে দিচ্ছিলেন নাহিদ রানা। সেখান থেকেই জাতীয় দলের খেলা থাকায় দেশে ফেরেন এই পেসার। প্রথম ম্যাচে অবশ্য নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১০ ওভারে ৬৫ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। একে তো দিনের বেলায় প্রচন্ড রোদ আর গরমে খেলা কঠিন। নাহিদ রানার বয়সও কম। সবমিলিয়ে আজকের ম্যাচে রানাকে বিশ্রাম দেওয়াটা মোটামুটি ভাবে নিশ্চিতই ছিল। তবে শেষদিকে টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয় খেলানো হবে। সুযোগটা পেয়ে নাহিদ দারুণভাবে নিজের সামর্থ্য দেখালেন। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়
ইনিংসের ৪৬তম ওভারের তৃতীয় বল, ঘন্টায় ১৪১.৬ কিলোমিটার গতির দুর্দান্ত এক ইয়র্কার উড়ে গেলো জেইডন ল্যানক্সের উইকেট। ব্যস, ফাইফার পূর্ণ হলো নাহিদ রানার। ১০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন কীর্তি গড়লেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার।
সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়েই নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে রাখলো টাইগাররা। ম্যাচ শেষে নাহিদের বোলিং ফিগার দাঁড়ালো ১০ ওভার ১ মেইডেন, ৩২ রানে ৫ উইকেট। ৬০ বৈধ ডেলিভারির মধ্যে ৪৩টিতেই তার বিপক্ষে রান বের করতে পারেননি কিউই ব্যাটাররা।
পাকিস্তান সুপার লিগেও গতির জড় বইয়ে দিচ্ছিলেন নাহিদ রানা। সেখান থেকেই জাতীয় দলের খেলা থাকায় দেশে ফেরেন এই পেসার। প্রথম ম্যাচে অবশ্য নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১০ ওভারে ৬৫ রান খরচায় নেন ১ উইকেট।
একে তো দিনের বেলায় প্রচন্ড রোদ আর গরমে খেলা কঠিন। নাহিদ রানার বয়সও কম। সবমিলিয়ে আজকের ম্যাচে রানাকে বিশ্রাম দেওয়াটা মোটামুটি ভাবে নিশ্চিতই ছিল। তবে শেষদিকে টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয় খেলানো হবে। সুযোগটা পেয়ে নাহিদ দারুণভাবে নিজের সামর্থ্য দেখালেন।
২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় নাহিদ রানার। এরপর গত ১৮ মাসে এ নিয়ে ১০টি ওয়ানডে খেলেছেন তিনি। ষষ্ঠ ম্যাচে এসে প্রথমবার ওয়ানডেতে ফাইফার নেন রানা। তিন ম্যাচ বাদেই নিলেন দ্বিতীয়টা।
এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষেই প্রথম ফাইফার নেন। সেদিন পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে মাত্র ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন রানা। যেটা কিনা ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে পঞ্চম সেরা বোলিং ফিগার।
ওয়ানডেতে প্রথম ১০ ম্যাচে একাধিক ফাইফার নেওয়া দ্বিতীয় বোলার নাহিদ রানা। এছাড়া ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ওয়ানডেতে মোস্তাফিজুর রহমান ৩ বার ফাইফার নিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেকে ৫, পরের ম্যাচে নেন ৬ উইকেট। এরপর একই বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের নবম ম্যাচে নেন তৃতীয় ফাইফার।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পেসাররা ওয়ানডেতে মোট ১৬ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি একাই পাঁচবার ‘ফাইফার’ নিয়েছেন। তার পরেই আছেন তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা—দুজনেরই ঝুলিতে রয়েছে দুটি করে পাঁচ উইকেট।
এছাড়া একবার করে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন আবু জায়েদ রাহী, ফরহাদ রেজা, হাসান মাহমুদ, আফতাব আহমেদ, জিয়াউর রহমান, রুবেল হোসেন এবং মাশরাফি বিন মর্তুজা।
আর সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ২৮ জন বোলার ওয়ানডেতে ইনিংসে ফাইফার নিয়েছেন। পেসার-স্পিনার মিলিয়ে তালিকাতেও সবার উপরে মোস্তাফিজ (৫ বার)। আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান, দুই বাঁহাতি স্পিনার নিয়েছেন ৪ বার করে।
আজ অষ্টম ওভারে নাহিদ রানাকে প্রথমবার আক্রমণে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই শিকার ধরেন এই পেসার। ১৪৪.৭ কিমি গতিতে স্টাম্পে ফুল লেংথে করা বলটা হঠাৎ ভেতরে ঢুকে যায়, লাইন ক্রস করে খেলতে গিয়ে রানার পেসেই কুপোকাত হন ব্যাটার হেনরি নিকোলস। বল পায়ে লাগা মাত্র আবেদনে ফেটে পড়েন রানা ও উইকেটরক্ষক লিটন। আম্পায়ার বেশি সময় নেননি, দ্রুতই জানিয়ে দেন ‘এটি আউট।’ রিভিউ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সতীর্থ কেলির পরামর্শে আউট মেনেই ফিরে যান নিকোলস। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে আওয়াজ ভেসে আসে, ‘কী অসাধারণ ডেলিভারি, দুর্দান্ত শুরু!’
দিনটা যে রানারই ছিল সেটা অবশ্য প্রথম বলেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এক ম্যাচে অন্তত ৩ বার ওভারের প্রথম বলে উইকেট নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় শিকার ধরেন নবম ওভারের প্রথম বলে। এবার ভয়ংকর এক বাউন্সারে! ১৪৬.৮ কিমি গতির বাউন্সারটা কিউই ব্যাটার উইল ইয়ংকে পুরোপুরি চমকে দেয়—অতিরিক্ত বাউন্সের সঙ্গে গোলার মতো গতি। ব্যাকফুটে দাঁড়িয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, কিন্তু ব্যাটের বাইরের অংশে লেগে বলটা উঠে যায় এবং ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত সহজেই সেটি তালুবন্দী করেন। প্রথম স্পেলে তাকে দিয়ে টানা ৫ ওভার বোলিং করিয়েছেন মিরাজ। এই সময়ে মাত্র ১০ রান খরচাতেই জোড়া উইকেট নিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় স্পেলে তাকে ২৯তম ওভারে রানাকে আক্রমণে ফেরান মিরাজ। এই স্পেলেও প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়েছেন রানা।। ওভারের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ আব্বাসকে ফেরান তিনি। এমনিতেই শুরু থেকেই রানার বিপক্ষে ভুগছিলেন আব্বাস। আর এবার স্টাম্প লাইনে করা এই বাউন্সারটা আর সামলাতে পারেননি তিনি। পুল করতে গিয়ে বল তুলে দেন আকাশে, উইকেটের পিছন থেকে ফাইন লেগে দৌড়ে গিয়ে ডাইভ ডাইভে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন ১০০তম ম্যাচ খেলতে নামা লিটন কুমার দাস। এই স্পেলে ৩ ওভার বোলিং ১০ রান খরচায় এই উইকেটটা নেন রানা।
এরপর এক ওভার করে দুই স্পেলে বোলিং করেন নাহিদ রানা। দুইবারই উইকেটের দেখা পান তিনি। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে রানার শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন ডিন ফক্সক্রফট। এ নিয়ে ম্যাচে তৃতীয়বার ওভারের প্রথম বলে উইকেট নিলেন রানা। স্টাম্প লাইনে করা শর্ট পিচড বলটিতে ফক্সক্রফট সুইভেল পুল খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার শট ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার তাওহীদ হৃদয়ের হাতে গিয়ে জমা হয়। এরপরের ওভারেই ফাইফার পূর্ণ করে ফেলেন রানা। তার গোলার মতো ডেলিভারি উপড়ে ফেলে ল্যানক্সের স্টাম্প।
এসকেডি/এমএমআর
What's Your Reaction?