নিখোঁজের ৪ দিন পর প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকার ওমান প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে এভাবেই ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার বাতাস। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর গত শনিবার (৬ জুন) সকালে পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মোবাইলের স্ক্রিনে থাকা ছেলের ছবিটির দিকে তাকিয়ে আর বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন মা গুলতাজ বেগম। আহাজারি করে তিনি বলেন ‘তিন সন্তানরে অনেক কষ্ট গরি মানুষ গইজ্যি। আজ সুখের সময় ক্যাঁল্লা আঁর বুকের মানিকরে এন্দিলা হত্যা গরা অইল! আঁর পুতের বউ পোয়াতি, আর কদিন পরেই নাতি দুনিয়াত আইব। হেত্তে তার বাফরে হঁডে পাইব?’ সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সরেজমিনে মীরেরখীল স্লুইস গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সড়কের পাশেই জরাজীর্ণ ঘরে থাকেন ফারুকের বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাই। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে মেঝো ছেলে। সড়কের অপর পাশের ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন ফারুক। দীর্ঘ ৭ বছর ওমানে থেকে দেড় বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। দেশে এসে দিনমজুরি করেই টানাপোড়েনের সংসার চালাচ্ছিলেন। মা গুল
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকার ওমান প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে এভাবেই ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার বাতাস। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর গত শনিবার (৬ জুন) সকালে পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মোবাইলের স্ক্রিনে থাকা ছেলের ছবিটির দিকে তাকিয়ে আর বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন মা গুলতাজ বেগম। আহাজারি করে তিনি বলেন ‘তিন সন্তানরে অনেক কষ্ট গরি মানুষ গইজ্যি। আজ সুখের সময় ক্যাঁল্লা আঁর বুকের মানিকরে এন্দিলা হত্যা গরা অইল! আঁর পুতের বউ পোয়াতি, আর কদিন পরেই নাতি দুনিয়াত আইব। হেত্তে তার বাফরে হঁডে পাইব?’
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সরেজমিনে মীরেরখীল স্লুইস গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সড়কের পাশেই জরাজীর্ণ ঘরে থাকেন ফারুকের বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাই। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে মেঝো ছেলে। সড়কের অপর পাশের ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন ফারুক। দীর্ঘ ৭ বছর ওমানে থেকে দেড় বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করেন তিনি। দেশে এসে দিনমজুরি করেই টানাপোড়েনের সংসার চালাচ্ছিলেন। মা গুলতাজ বেগম জানান, গত ২ জুন দুপুরেও ফারুক তার সাথে শেষবারের মতো ভাত খেয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন। এরপর থেকে নিখোঁজ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ফারুক। শনিবার সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ে একটি লিচু বাগানে লুঙ্গি ও টিশার্ট পরিহিত হাত-পা বাঁধা লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। দুপুরে বোয়ালখালী থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করলে স্বজনরা তা ফারুকের বলে শনাক্ত করেন। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই তার প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার কথা থাকলেও তার আগেই ঝরে গেল এই প্রাণ।
নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম জানান, ২ জুন ফারুকের সাথে পাশের বড়খোলাপাড়ার এক উপজাতি যুবকসহ আরও তিন যুবক পাহাড়ি এলাকায় যান। সেখানে তারা অপহরণের শিকার হলে ওই তিন যুবক পালিয়ে আসতে পারলেও ফারুক আটকা পড়েন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পালিয়ে আসা যুবকরা ফারুকের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পরিবারকে জানাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে মামলা করতে রাজি নয় নিহতের পরিবার। তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান।
তার বাবা মো. ওসমান জানান, বিয়ের পর আলাদা ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন আমার ছেলে। নিখোঁজের একদিন পরও যখন সন্তান আসেনি, তখন থেকেই খোঁজাখুঁজি শুরু করি। অনেক জায়গায় যায়, কোথাও পাইনি। লাশের খবর পেয়ে গিয়ে দেখি এটি আমার ফারুকের লাশ। খুবই নৃশংস, গন্ধ বের হচ্ছিলো। সম্ভবত যেদিন নিয়েছে, সেদিনই খুন করেছে।"
সন্তান খুনের ব্যাপারে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা কিংবা কি বিচার প্রত্যাশা করেন, জানতে চাইলে এককথায় পরিবারের সবাই সাফ জানিয়ে দেন, তারা কোন মামলা করবেন না। বিচার আল্লাহকে দিয়েছেন, তিনিই বিচার করবেন।
এই ব্যাপারে জানতে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, নিহত ফারুকের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া এলাকায় হলেও মরদেহ বোয়ালখালী থেকে উদ্ধার হওয়ায় মামলা সেখানেই হবে। তবে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাটির ছায়াতদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, দীর্ঘদিন ধরে সরফভাটা এলাকায় একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে। সরফভাটা মীরেরখীলের পাহাড়ি এলাকাকে ঘিরে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে তাণ্ডব চালিয়ে আসছে। খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক ব্যবসায়সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী৷ শুধুমাত্র গত ৫ আগস্টের পর থেকেই অন্তত ১০টি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড হয়েছে সরফভাটায়। প্রতিবারেই হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বজনরা অজ্ঞাত ভয়ের কারণে, মামলা করতে রাজি হন না। এসব ঘটনায় কিছুদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেও, এখনপর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে সন্ত্রাসীরা। তবে সরফভাটায় সক্রিয় সন্ত্রাসীদের ধরতে জঙ্গল ছলিমপুরের ন্যায় যৌথ বাহিনীর অভিযান দাবি করছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
What's Your Reaction?