নিজের জমি বাঁচাতে পারছেন না জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ইরিনা

বাংলাদেশ জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ইরিনা নাহারের মালিকানাধীন জমি ও দোকান ভাড়াটিয়ারা দখল করে রেখেছেন। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করা এ খেলোয়াড় এখন নিজের সম্পত্তি ফিরে পেতে আইনি লড়াই করছেন।  জমি ও দোকান দখলের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ভূমি অফিসের তদন্তে জমির মালিকানা তার বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলেও শেষ পর্যন্ত তার মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয় বল জানান তিনি।  সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খৃষ্টফার হিমেল রিছিল মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ফটকে অনশন শুরু করেন। পরে রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসক মামলা খারিজের আদেশ বাতিল করে নতুন করে শুনানির দিন ধার্য করায় অনশন প্রত্যাহার করে তিনি। ইরিনা নাহার বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলে ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত খেলেছেন। এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সাফ গেমস, কমনওয়েলথ গেমস ও সার্ক গেমসসহ ব

নিজের জমি বাঁচাতে পারছেন না জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ইরিনা
বাংলাদেশ জাতীয় নারী হ্যান্ডবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ইরিনা নাহারের মালিকানাধীন জমি ও দোকান ভাড়াটিয়ারা দখল করে রেখেছেন। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করা এ খেলোয়াড় এখন নিজের সম্পত্তি ফিরে পেতে আইনি লড়াই করছেন।  জমি ও দোকান দখলের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ভূমি অফিসের তদন্তে জমির মালিকানা তার বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলেও শেষ পর্যন্ত তার মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয় বল জানান তিনি।  সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খৃষ্টফার হিমেল রিছিল মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ফটকে অনশন শুরু করেন। পরে রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসক মামলা খারিজের আদেশ বাতিল করে নতুন করে শুনানির দিন ধার্য করায় অনশন প্রত্যাহার করে তিনি। ইরিনা নাহার বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলে ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত খেলেছেন। এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সাফ গেমস, কমনওয়েলথ গেমস ও সার্ক গেমসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।  ইরিনা নাহার বলেন, নগরীর স্টেশন রোডের শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থিত তিনতলা বিশিষ্ট ‘আব্দুল গনী মার্কেট’-এর নিচতলার পাঁচটি দোকান চারজন ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল গনির কাছ থেকে ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে শ্যামল সরকার দুটি, বকুল মিয়া একটি, গোলাম মাহবুব একটি এবং আইরিন নাহার একটি দোকান ভাড়া নেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর ভাড়াটিয়ারা চুক্তি নবায়ন না করে ভাড়া দিতে গড়িমসি শুরু করেন। ২০১৮ সালে তার একমাত্র ভাই আনোয়ারুল গনির মৃত্যুর পর তারা পুরোপুরি ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ালে আদালত ব্যাংকের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় ভাড়াটিয়াদের দোকান ছেড়ে দিতে বলা হলেও তারা তা মানেননি। এরপর ২০২৫ সালে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করেন। এদিকে রংপুর মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সরকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, জমির ওপর নির্মিত মার্কেটটি ‘আব্দুল গনী মার্কেট’ নামে পরিচিত। ২০১৫ সালে আব্দুল গনির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও দুই সন্তান আনোয়ারুল গনি ও ইরিনা নাহার সম্পত্তির মালিক হন। পরবর্তীতে আনোয়ারুল গনির মৃত্যুর পর শামসুন্নাহার তার অংশ ইরিনা নাহারের নামে দানপত্র করে দেন, ফলে তিনি একক মালিকানা লাভ করেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরিনা নাহার নিয়মিতভাবে জমির ভোগদখল করে আসছেন।৬.১২ শতাংশ এই জমির খারিজ খতিয়ানের মালিক ইরিনা নাহার ময়না। তিনি ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করেছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জমি খাস, অর্পিত বা পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত নয় এবং এতে সরকারের কোনো স্বার্থ নেই। ইরিনা নাহার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে জমি ও মার্কেটের একক মালিকানা তার হলেও পাঁচটি দোকান দখল করে রেখেছে ভাড়াটিয়ারা। মামলা করার পর ভূমি অফিসের প্রতিবেদনে আমার পক্ষে মতামত দেওয়া হলেও আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমি ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, দেশের হয়ে এত বছর খেলেছি, কিন্তু তার কোনো মূল্য পেলাম না। আজ নিজের জমিই রক্ষা করতে পারছি না, ন্যায়বিচারও পাচ্ছি না। আমার সঙ্গে এমন হলে অন্য সাধারণ মানুষদের সঙ্গে তাহলে কী হয়? জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন কালবেলাকে বলেন, তিনি (ইরিনা) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাকে ডেকে আনি। পরে মামলার নথিপত্র তলব করা হয় এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকেও ডাকা হয়। আমার মনে হয়েছে, বিষয়টি উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে পুনরায় বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এ কারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে রিভিউয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে রিভিউ আবেদন করেছেন। আগামী ৭ জুন রিভিউ শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলা খারিজের প্রক্রিয়া সঠিক ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, মামলার কাগজপত্রগুলো এখনো আমার দেখার সুযোগ হয়নি। তবে নতুন করে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow