নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে আইওএমের সহযোগিতা চাইলো বাংলাদেশ
নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। রোববার (২ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসায় আইওএমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আরও পড়ুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা / যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘সর্বোচ্চ মর্যাদায়’ দেখে তিনি বলেন, গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশনের (জিসিএম) চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্য
নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসায় আইওএমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশনের (জিসিএম) চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জিসিএমের লক্ষ্যগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে আইওএমের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি স্বাস্থ্যসেবা, সেবাযত্ন (কেয়ারগিভিং) ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে দেশের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ বাড়ানো, ট্যালেন্ট মোবিলিটি উন্নয়ন এবং গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ গড়ে তোলার বিষয়েও আইওএমের সহায়তা চান।
বৈঠকে বিশেষ করে নারী অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সেবা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এছাড়া যুদ্ধ ও সংকটকবলিত বিভিন্ন দেশ থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইওএমের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, টেকসই পুনর্বাসন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন, মানবপাচার এবং অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান।
বৈঠকে আইওএমের উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অঙ্গীকারেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন এগিয়ে নেওয়া, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের অভিবাসন ও মানবিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও আইওএমের অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে আইওএমের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইয়োরি কাতো, উপ-মহাপরিচালকের বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমইউ/এমআইএইচএস
What's Your Reaction?
