নিষেধাজ্ঞার কলে পিষ্ট কিউবা, ১০০ কোটি ডলার সহায়তা পাচ্ছে কলাম্বিয়া

চলতি বছরের জুন মাস থেকে কিউবার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে জানুয়ারিতে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধে পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন। তারও আগে কিউবার গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। এতে কিউবায় মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৩ জুলাই ঘোষিত সর্বশেষ পদক্ষেপগুলো মূলত জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মানবিক প্রয়োজনেও জ্বালানি আমদানি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে তীব্র জ্বালানি সংকট এবং বড় ধরনের দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তবে কিউবা হবে আরেকটি গাজা উপত্যকা। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে নিযুক্ত একদল বিশেষজ্ঞ এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। গত মাসে কিউবা সফর করা মার্কিন কংগ্রেসের চার সদস্যও কিউবার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে গাজার তুলনা করেছিলেন। এদিকে, লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ কলাম্বিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘোষিত নতুন নিরাপত্তা প্যাকেজের আওতায় কলম্বিয়াকে ১০০ ক

নিষেধাজ্ঞার কলে পিষ্ট কিউবা, ১০০ কোটি ডলার সহায়তা পাচ্ছে কলাম্বিয়া

চলতি বছরের জুন মাস থেকে কিউবার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে জানুয়ারিতে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধে পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন। তারও আগে কিউবার গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। এতে কিউবায় মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

কিউবা সংকট/ ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

গত ২৩ জুলাই ঘোষিত সর্বশেষ পদক্ষেপগুলো মূলত জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মানবিক প্রয়োজনেও জ্বালানি আমদানি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে তীব্র জ্বালানি সংকট এবং বড় ধরনের দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা।

কিউবা সংকট/ ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তবে কিউবা হবে আরেকটি গাজা উপত্যকা। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে নিযুক্ত একদল বিশেষজ্ঞ এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। গত মাসে কিউবা সফর করা মার্কিন কংগ্রেসের চার সদস্যও কিউবার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে গাজার তুলনা করেছিলেন।

এদিকে, লাতিন আমেরিকার আরেক দেশ কলাম্বিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘোষিত নতুন নিরাপত্তা প্যাকেজের আওতায় কলম্বিয়াকে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া ও সমগ্র পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কলম্বিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানো, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি এবং মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে।

অন্যদিকে, কিউবা সংকট নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাদ্যকে কখনোই রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। জ্বালানি, পরিবহন, সেচ ও মৌলিক সেবাগুলো একই সঙ্গে ভেঙে পড়ছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষ ও গ্রামীণ কৃষকদের ওপর। বিশেষজ্ঞরা হাভানার বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকার খবরের কথাও উল্লেখ করেছেন। এতে রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা সতর্ক করেন।

কিউবা সংকট/ ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

তারা বলেন, মানবিক পরিণতি এরই মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংকটে রূপ নিচ্ছে, যা স্বাস্থ্য, জীবন, খাদ্য ও উন্নয়নের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

গত ২০ জুলাই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর Cuba: The Capital of 21st-Century Communism নামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে কিউবার একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বহুমাত্রিক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, কিউবা সন্ত্রাসবাদ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেয়-এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। তাদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাগত কারণের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও আদর্শিক উদ্দেশ্যই কিউবার ওপর অব্যাহত চাপের পেছনে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এসব মার্কিন পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে এবং কয়েক দশক ধরে চলা কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি একটি বৃহত্তর ‘শাসন পরিবর্তন’ কৌশলের অংশ।

তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে কিউবার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ধরনের হুমকি ও বৈরী কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদকে কিউবা সংকটকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সূত্র: ইউএন নিউজ/ আনাদোলু এজেন্সি

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow