নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন দাখিল পাসকৃত ব্যক্তি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বাওজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় একাধিক স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও মাত্র দাখিল পাস একজনকে সভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কমিটি গঠনে অনিয়মের শিকার এক অভিভাবক সদস্য আতিয়া খাতুন জানান, বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি বিদ্যোৎসাহী মহিলা সদস্য পদের জন্য ২৫০০ টাকা জামানত দিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ করেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফরিদা পারভীনের উপস্থিতিতে একাধিক সভায় আতিয়া খাতুনকে বিদ্যোৎসাহী মহিলা সদস্য করার আশ্বাস দিয়ে রেজুলেশনও করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১৭ জুন হঠাৎ জরুরি সভা ডেকে আতিয়া খাতুনকে বাদ দিয়ে মোছা. রিনা খাতুন ও মো. বাবুল আক্তারকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে কোনো প্রকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে ও নির্বাচন ছাড়াই তড়ি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বাওজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় একাধিক স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও মাত্র দাখিল পাস একজনকে সভাপতি করা হয়েছে।
এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কমিটি গঠনে অনিয়মের শিকার এক অভিভাবক সদস্য আতিয়া খাতুন জানান, বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি বিদ্যোৎসাহী মহিলা সদস্য পদের জন্য ২৫০০ টাকা জামানত দিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ করেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. ফরিদা পারভীনের উপস্থিতিতে একাধিক সভায় আতিয়া খাতুনকে বিদ্যোৎসাহী মহিলা সদস্য করার আশ্বাস দিয়ে রেজুলেশনও করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১৭ জুন হঠাৎ জরুরি সভা ডেকে আতিয়া খাতুনকে বাদ দিয়ে মোছা. রিনা খাতুন ও মো. বাবুল আক্তারকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে কোনো প্রকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে ও নির্বাচন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে বাবুল আক্তারকে সভাপতি এবং দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজিব হোসেনকে সহ-সভাপতি করে পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়। আইন ও বিধান অনুযায়ী কোনো প্রকার নির্বাচন না হলেও আতিয়া খাতুনের জামানতের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্নাতক বা সমমান’ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ২.১ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, নির্ধারিত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী না পাওয়া গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশের মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মনোনয়ন দেবে। অথচ এই বিদ্যালয়ে ২০০০ সালের দাখিল (এসএসসি সমমান) পাস বাবুল আক্তারকে সভাপতি করায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাওজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবঘোষিত সভাপতি বাবুল আক্তার স্বীকার করে বলেন, আমি ২০০০ সালে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এরপর আর কলেজের গণ্ডিতে পা রাখা হয়নি।
এদিকে নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা পারভীন ও ক্লাস্টার এটিও মিজানুর রহমানের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করার কিছু সময় পর দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি সজিব হোসেন সাংবাদিকের মুঠোফোনে কল করে ক্ষিপ্ত হন।
তিনি বলেন, নীতিমালা আমার মুখস্ত আছে। সভাপতি এসএসসি পাস হলে কোনো সমস্যা নেই। এ বিষয়ে উপরে কোনো কথা বলা বা লেখালেখি করা যাবে না।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা পারভীনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সবাইকে নিয়ে বসেই কমিটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আর কোনো কথা বলতে চাই না, অফিসে যোগাযোগ করুন।
অন্যদিকে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান প্রথমে কমিটি গঠনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে জানান, কমিটি গঠিত হলেও দাপ্তরিকভাবে কোনো কাগজপত্র এখনো তার হস্তগত হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সেকেন্দার আলী জানান, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এই নীতিমালার বাইরে যাওয়ার সুযোগ আমাদের কারও নেই। কাম্য যোগ্যতা সম্পন্ন লোক না পাওয়া গেলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হয় এবং মন্ত্রণালয় যাকে অনুমোদন দেবে তিনিই দায়িত্ব পাবেন। এখানে আমাদের বানিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই।
What's Your Reaction?