নেইমারকে কটাক্ষ করা কে এই জাপানি স্ট্রাইকার

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই নেইমারকে একটি মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন জাপানের তরুণ স্ট্রাইকার কেন্তো শিওগাই। তবে এই বিতর্কের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে জাপানি ফুটবলের নতুন প্রজন্মের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই ফরোয়ার্ডের অনুপ্রেরণাদায়ী উত্থানের গল্প। মাত্র ২১ বছর বয়সে জার্মান ক্লাব ভলফসবুর্গে জায়গা করে নিয়েছেন শিওগাই। চলতি বছরই জাপান জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে তার। দুরন্ত গতি, শক্তিমত্তা ও আক্রমণভাগে কার্যকর হওয়ায় ইতোমধ্যে কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর গুরুত্বপূর্ণ বিকল্পে পরিণত হয়েছেন তিনি। তবে শিওগাইয়ের পথচলা ছিল প্রচলিত ধারার বাইরে। ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড জাপানের বেশির ভাগ ফুটবলারের মতো বয়সভিত্তিক দল থেকে সরাসরি পেশাদার ফুটবলে আসেননি। উচ্চমাধ্যমিকের শেষ বছর পর্যন্ত তিনি ছিলেন অনেকটাই অচেনা। ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কেইও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই বদলে দেয় শিওগাইয়ের ভাগ্য। সেখানে নজর কাড়েন জাপানের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব ইয়োকোহামা এফ. মারিনোসের। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাত

নেইমারকে কটাক্ষ করা কে এই জাপানি স্ট্রাইকার
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই নেইমারকে একটি মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন জাপানের তরুণ স্ট্রাইকার কেন্তো শিওগাই। তবে এই বিতর্কের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে জাপানি ফুটবলের নতুন প্রজন্মের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই ফরোয়ার্ডের অনুপ্রেরণাদায়ী উত্থানের গল্প। মাত্র ২১ বছর বয়সে জার্মান ক্লাব ভলফসবুর্গে জায়গা করে নিয়েছেন শিওগাই। চলতি বছরই জাপান জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে তার। দুরন্ত গতি, শক্তিমত্তা ও আক্রমণভাগে কার্যকর হওয়ায় ইতোমধ্যে কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর গুরুত্বপূর্ণ বিকল্পে পরিণত হয়েছেন তিনি। তবে শিওগাইয়ের পথচলা ছিল প্রচলিত ধারার বাইরে। ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড জাপানের বেশির ভাগ ফুটবলারের মতো বয়সভিত্তিক দল থেকে সরাসরি পেশাদার ফুটবলে আসেননি। উচ্চমাধ্যমিকের শেষ বছর পর্যন্ত তিনি ছিলেন অনেকটাই অচেনা। ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কেইও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই বদলে দেয় শিওগাইয়ের ভাগ্য। সেখানে নজর কাড়েন জাপানের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব ইয়োকোহামা এফ. মারিনোসের। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই স্বাক্ষর করেন প্রথম পেশাদার চুক্তিতে। পেশাদার ফুটবলে মানিয়ে নিতেও সময় নেননি শিওগাই। জে-লিগে অভিষেকের মাত্র তিন মাসের মধ্যে করেন প্রথম গোল। এরপর খুব দ্রুত ইউরোপে পাড়ি জমান। প্রথমে নেদারল্যান্ডসের এনইসি নাইমেখেনে খেলেন। দেড় বছরের কম সময়ের মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যোগ দেন ভলফসবুর্গে। শিওগাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তার গতি। অনুশীলনে ঘণ্টায় ৩৬.২ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বিস্ফোরণধর্মী গতি আরও বাড়াতে বিশ্বের সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের দৌড়ানোর কৌশলও অধ্যয়ন করেছেন এই জাপানি ফরোয়ার্ড। গতি, শারীরিক সক্ষমতা ও দ্রুতগতির ড্রিবলিংয়ের কারণে জাপানের কোচ মোরিয়াসুর আস্থাও অর্জন করেন শিওগাই। মার্চে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পান এবং অভিষেক ম্যাচেই জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। এবারের বিশ্বকাপে জাপান দলে থাকলেও এখন পর্যন্ত মূলত বদলি হিসেবেই মাঠে নেমেছেন শিওগাই। তবে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন কোচ মোরিয়াসু। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেইমারকে নিয়ে মন্তব্য করেন শিওগাই। তিনি বলেন, ‘এটা তো আগের নেইমার ছিল, তাই না? আমার মনে হয় এখন আমরা ভালো অবস্থায় আছি।’  ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ফেবারিট হিসেবে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার নাম উল্লেখ করেন শিওগাই। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলকে আর আগের মতো অপ্রতিরোধ্য নেই। শিওগাইয়ের এই মন্তব্য মুহূর্তে ব্রাজিলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। হাজারো ব্রাজিলিয়ান-সমর্থক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ভিড় জমান। সেখানে অসংখ্য মন্তব্যের মধ্যে অনেকগুলো ছিল জাপানিদের উদ্দেশে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপূর্ণ। ঘটনাটি পরে এশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে জাপান। নকআউটে শুরুতে গোল করে জাপান এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় এশিয়ার জায়ান্টরা। ম্যাচে অবশ্য খেলার সুযোগ পাননি নেইমার। বেঞ্চে বসেই জাপানের বিপক্ষে জয় উপভোগ করেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow