আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচে মাঠে নেমে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছেন লিওনেল মেসি। তার নৈপুণ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে।
বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। তবে তার চেয়েও বড় অর্জন হলো, এই তিন গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের মঞ্চে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। ফলে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৭তম মিনিটে দূরপাল্লার এক শক্তিশালী শটে গোল করে স্মরণীয় রাতের সূচনা করেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা। তবে গোলটি আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের জন্য ভুলে যাওয়ার মতো একটি মুহূর্ত হয়ে থাকবে। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা শটটি ঠেকাতে হাত লাগালেও বল জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি।
রদ্রিগো ডি পলের লম্বা পাস পেয়ে আলজেরিয়ার মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগের মাঝখানে প্রচুর ফাঁকা জায়গা পান মেসি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা যেন তাকে থামাতে এগিয়েই আসেননি। সুযোগ পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন তিনি।
টকস্পোর্টে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে সাবেক চেলসি ডিফেন্ডার স্কট মিন্টো মেসির ফুটবল বুদ্ধিমত্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সত্যিই, ৩৮ বছর বয়সেও তিনি অসাধারণ। হয়তো এখন আর বল নিয়ে পুরো দল কাটিয়ে গোল করার মতো গতি নেই। কিন্তু তিনি ভীষণ বুদ্ধিমান। তিনি শুধু গোলের খেলোয়াড় নন, তার সবচেয়ে বড় শক্তি ফুটবল বুদ্ধিমত্তা। ২০-৩০ গজ দূরে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া, ঘুরে দাঁড়ানো, বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া—এসবই তাকে আলাদা করে।’
মিন্টো আরও বলেন, ‘গোলরক্ষকের শটটি বাঁচানো উচিত ছিল। কিন্তু এটাই লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে তাকে স্বাগতম।’
তিনি মেসিকে ‘ঈশ্বরের উপহার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে মেসিই এই পৃথিবীর দেখা সেরা দুই ফুটবলার।’
প্রথম গোলের পর উদযাপনের সময় মেসিকে আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, সেই অশ্রুর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
মেসি বলেন, ‘প্রথম গোলের পর আমার চোখে জল এসেছিল। কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, বিষয়টি ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। সেই অনুভূতির কারণেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। আমাকে সহায়তা করার জন্য আমি সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক লুকা জিদান ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বল দ্রুত পেয়ে জালে পাঠিয়ে দেন মেসি।
৭৬তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবারও বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি। নিকো গঞ্জালেসের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বল ফিরে পেয়ে জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মেসি।
৮০তম মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোজ ও লিওনেল মেসি। দুজনেরই গোলসংখ্যা ১৬। এরপর রয়েছেন রোনাল্ডো (১৫), কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৪), গার্ড মুলার (১৪) ও পেলে (১২)।
ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্বের অনেকেই মেসির প্রশংসায় মেতে ওঠেন। নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সেলফি পোস্ট করে লেখেন, ‘মেসি একেবারেই পাগলাটে প্রতিভা।’
জার্মানির অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড থমাস মুলারও ইনস্টাগ্রামে মেসির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে ‘GOAT’ ইমোজি ব্যবহার করেন, যা সাধারণত সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেওয়ার সুযোগ মেসির সামনে আসছে আগামী ২২ জুন। সেদিন টেক্সাসের আর্লিংটনে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।