নৌকাতেই বন্দি হাজারো মানুষের জীবন
মাদারীপুর শহরের একেবারে পাশেই আড়িয়াল খাঁ নদ। নদীর একপাশে জেলা শহর, অন্যপাশে পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচরসহ তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ। দুই পাড়ের দূরত্ব খুব বেশি নয়, কিন্তু একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রোগী—সবাইকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বছরের পর বছর। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সেতুর দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও এই জনপদের মানুষের একমাত্র ভরসা সেই খেয়া নৌকাই। এক সেতুর অপেক্ষায় তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের কোলঘেঁষে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। এক সময় এই নদ দিয়ে মাদারীপুর শহর থেকে ঢাকায় লঞ্চ চলাচলা করলেও এখন আর সেই প্রেক্ষাপট নেই। কালের বিবর্তনে নৌপথের এই যাতায়াত ব্যবস্থা হারিয়ে গেছে। তবে যে স্থানে লঞ্চ রাখা হতো ও যাত্রা শুরু হতো সেই এলাকাটিতে এখনও মানুষ লঞ্চঘাট এলাকা বলে থাকে। এই লঞ্চঘাটের অপরপাশে রয়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষ
মাদারীপুর শহরের একেবারে পাশেই আড়িয়াল খাঁ নদ। নদীর একপাশে জেলা শহর, অন্যপাশে পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচরসহ তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ। দুই পাড়ের দূরত্ব খুব বেশি নয়, কিন্তু একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রোগী—সবাইকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বছরের পর বছর।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সেতুর দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও এই জনপদের মানুষের একমাত্র ভরসা সেই খেয়া নৌকাই।
এক সেতুর অপেক্ষায় তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের কোলঘেঁষে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। এক সময় এই নদ দিয়ে মাদারীপুর শহর থেকে ঢাকায় লঞ্চ চলাচলা করলেও এখন আর সেই প্রেক্ষাপট নেই। কালের বিবর্তনে নৌপথের এই যাতায়াত ব্যবস্থা হারিয়ে গেছে। তবে যে স্থানে লঞ্চ রাখা হতো ও যাত্রা শুরু হতো সেই এলাকাটিতে এখনও মানুষ লঞ্চঘাট এলাকা বলে থাকে। এই লঞ্চঘাটের অপরপাশে রয়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর গ্রাম।
‘আমার ডায়বেটিক থাকায় প্রায় সময় শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হয়। কিন্তু এই নৌকায় করে নদ পাড় হতে ভয় লাগে। তবুও আসতে হয়। কারণ বিকল্প পথ দিয়ে গেলে সময় ও টাকা বেশি লাগে। এছাড়া অনেক সময় যাতায়াতের জন্য বাহনও পাওয়া যায় না। তাই আমাদের এত কষ্টের কথা চিন্তা করে সরকারের উচিত একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়া’
এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাদের বিভিন্ন ফসল কেনা-বেচার জন্য নদ পার হয়ে শহরে আসতে হয়। বিশেষ করে নদ পার হয়ে মাদারীপুর জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারে আসতে হচ্ছে। এছাড়াও মহিষেরচর এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসা জন্য, শিক্ষার জন্য এই নৌপথ দিয়েই আসতে হয়। অনেক সময় রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

খাল পারাপারে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো
শুধু পাচখোলা ইউনিয়ন নয়, এ নৌপথ দিয়ে কালিকাপুর ও ছিলারচর ইউনিয়নের মানুষজনদের আসতে হয়। অথচ এ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখনও একটি ব্রীজ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে গেলে কয়েক কিলোমিটার পথ বাড়তি ঘুরতে হয়।
স্থানীয়দের মতে, এ তিন ইউনিয়নের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখনো একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হলে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। এতে যেমন সময় বেশি লাগে, তেমনি বাড়ে যাতায়াত ব্যয়ও।
রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের নিত্যদিনের সংগ্রাম
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকরা। এই নদটির খেয়া নৌকায় করেই তাদের প্রতিদিন পার হয়ে নানা কাজে শহরে আসতে হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসতে হচ্ছে। অনেক সময় নৌকা ঠিকমতো না পাওয়া গেলে সময় মতো স্কুলেও যাওয়া সম্ভব হয় না শিক্ষার্থীদের।
‘একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই মানুষ পিছিয়ে পড়ছে। শহরের এত কাছাকাছি অবস্থান করেও শুধু একটি সেতুর অভাবে তারা উন্নয়নের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন’
স্থানীয় জয়নাল ব্যাপারী বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদের এ পথে দিয়ে তিন ইউনিয়নের প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষকে নানা কাজে শহরে যাতায়াত করতে হয়। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে নদের ওপারের মানুষগুলোর জীবনের মান উন্নয়ন হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা ও আর্থিক উন্নয়নেও হবে। তাই এখানে দ্রæত একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাই।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান বলেন, আমি প্রতিদিনই এখান দিয়ে যাতায়াত করি। ঠিকমতো ঘাটে ট্রলার থাকে না, তাই মাঝে মাঝে স্কুলে যেতে দেরি হয়। তাছাড়া বর্ষার সময় নৌকায় পার হতে ভয়ও লাগে। কিন্তু কী করবো, কারণ আমাদের এই পাড়ে প্রাইমারি স্কুলটি বেশ দূরে। হেঁটে যেতে আরও বেশি সময় লাগে। তাই নদ পার হয়ে এপারে এসে কাছাকাছি স্কুল থাকায় আমাদের সহজ হয়। কিন্তু এই নদই আমাদের যত সমস্যা। তাই এখানে একটি ব্রিজ হলে আমাদের অনেক উপকার হয়।
বশবর্তী অসুস্থ কেয়া আক্তার বলেন, আমার ডায়বেটিক থাকায় প্রায় সময় শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হয়। কিন্তু এই নৌকায় করে নদ পাড় হতে ভয় লাগে। তবুও আসতে হয়। কারণ বিকল্প পথ দিয়ে গেলে সময় ও টাকা বেশি লাগে। এছাড়া অনেক সময় যাতায়াতের জন্য বাহনও পাওয়া যায় না। তাই আমাদের এত কষ্টের কথা চিন্তা করে সরকারের উচিত একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়া।
মানববন্ধন-স্মারকলিপিও মেলাতে পারেনি সেতু
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তারা সেতুর দাবিতে আন্দোলন করছেন। বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজের অগ্রগতি দেখা যায়নি।
পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, এ আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর একটি ব্রিজের দাবি বহু বছরের। তবে এখনও তা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এ গ্রামের মানুষ প্রায় এক যুগ ধরে ব্রিজের জন্য মানববন্ধন, স্মারক লিপি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। কবে এখানে একটি ব্রিজ হবে তা আল্লাহই জানেন। তবে নতুন সরকারের কাছে আমরা এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাই।
স্থানীয় তরুণ জাহিদ বলেন, একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই মানুষ পিছিয়ে পড়ছে। শহরের এত কাছাকাছি অবস্থান করেও শুধু একটি সেতুর অভাবে তারা উন্নয়নের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন।
মাদারীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনিয়া বলেন, এই এলাকার মানুষজনের দীর্ঘদিনের দাবি একটি ব্রিজ নির্মাণের। তাই লঞ্চঘাট এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। কিছু তথ্য ও মৌজা ম্যাপ অধিদপ্তরে পাঠানোও হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগ্গিরই পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন করে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
এওয়াইএসএ/কেএইচকে/এএসএম
What's Your Reaction?

