‘ন্যাড়া’ হচ্ছে গারো পাহাড়, আড়ালে রাঘববোয়ালরা

শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। ঝোড়া, ঝরনা ও টিলা কেটে অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলনে হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। জেলার ২৫ হাজার একর বনভূমির মধ্যে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বনভূমি ও পাহাড় এখন ন্যাড়া টিলায় পরিণত হয়েছে। গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। জাগো নিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা ও হালচাটি এলাকাসহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। ‘একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগ সবকিছুই জানে, কে কে এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তারা চায়ের দোকান ও অলিগলিতে নিকট আত্মীয়ের মতো বসে আড্ডা দেয়। বনবিভাগকে ম্যানেজ করেই গারো পাহাড় হতে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে’ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গারো পাহাড়ের বুক চিরে বয়

‘ন্যাড়া’ হচ্ছে গারো পাহাড়, আড়ালে রাঘববোয়ালরা

শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। ঝোড়া, ঝরনা ও টিলা কেটে অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলনে হুমকিতে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

জেলার ২৫ হাজার একর বনভূমির মধ্যে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বনভূমি ও পাহাড় এখন ন্যাড়া টিলায় পরিণত হয়েছে। গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

জাগো নিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরানী, দরবেশতলা, মালিটিলা ও হালচাটি এলাকাসহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।

‘একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগ সবকিছুই জানে, কে কে এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তারা চায়ের দোকান ও অলিগলিতে নিকট আত্মীয়ের মতো বসে আড্ডা দেয়। বনবিভাগকে ম্যানেজ করেই গারো পাহাড় হতে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গারো পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা কালাঘেঁষা নদী থেকে অবাধে লালবালু ও পাথর উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট দিনমজুর ও খেটে খাওয়া নিম্নশ্রেণির প্রান্তিক লোকজন দিয়ে এসব বালু ও পাথর উত্তোলন করাচ্ছে। আর মাঝেমধ্যে অভিযানে দুই একজন শ্রমিক ধরা পড়লেও অধরা মূল সিন্ডিকেট। এদিকে অবাধে বালি পাথর উত্তোলনে জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছে গারো পাহাড়। বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড়ি নদীগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে, পাহাড় ভেঙে ভেঙে পড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, কেবল নদী হতেই নয়- বালু ও পাথর উত্তোলন করা হয় গহীন পাহাড়ের ভেতর থেকেও। ফলে বর্ষাকালে পাহাড় ধসে যায়। গাছ মরে যায় ও অনেক বড় গাছ শিকড় হারিয়ে উলটে পড়ে যায়। পাহাড়ে থাকা গারো ও কোচ আদিবাসীরা প্রতিবাদ করতে পারে না। তাদের হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয় যুবক রোমান বলেন, ‘একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগ সবকিছুই জানে, কে কে এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তারা চায়ের দোকান ও অলিগলিতে নিকট আত্মীয়ের মতো বসে আড্ডা দেয়। বনবিভাগকে ম্যানেজ করেই গারো পাহাড় হতে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এদিকে প্রশাসন মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও কাজের কাজ কিচ্ছুই হচ্ছে না। কারণ ভ্রাম্যমাণ আদালতে কেবল ঘটনাস্থলে থাকা চুনোপুঁটি ধরা পড়ে। পর্দার আড়ালেই থেকে যায়, মূল কারবারিরা। পতিত আওয়ামী শাসনামলে যেভাবে চলেছে, এখনো একইরকম চলছে। রাষ্ট্রের এ সম্পদ রক্ষায় সামাজিক ও প্রশাসনিক জোরালো ভূমিকা চাই।

এদিকে বনবিভাগের লোকজনের সঙ্গে এসব কারবারিদের কোনো যোগসাজশ নেই বলে দাবি করেন গজনী বিট কর্মকর্তা মো. সালেহীন নেওয়াজ খান।

‘বর্তমান সরকার অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও পাহাড়খেকোদের লাগাম টেনে ধরবেন। কেবল চুঁনোপুটি নয়, পর্দার আড়ালে থাকা রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় না আনলে একসময় হারিয়ে যাবে শাল-গজারির এ পাহাড়’

তিনি বলেন, ‘বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাজে জড়িত নন। অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

‘ন্যাড়া’ হচ্ছে গারো পাহাড়, আড়ালে রাঘববোয়ালরা

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি গজনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু পরিবহনের সময় মাহিন্দ্র ট্রাক্টরচালিত ছয়টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও পাহাড়খেকোদের লাগাম টেনে ধরবেন। কেবল চুঁনোপুটি নয়, পর্দার আড়ালে থাকা রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় না আনলে একসময় হারিয়ে যাবে শাল-গজারির এ পাহাড়।’

সেভ ওয়াইল্ডলাইফ এন্ড ন্যাচার (সোয়ান) এর উপদেষ্টা মুগনিউর রহমান মনি বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন এবং গাছ নিধনের ফলে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য দিন দিন হারাচ্ছে। গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য রক্ষা করার দাবি জানাচ্ছি। এতে সচেতন নাগরিক সমাজ, বনবিভাগ, বিজিবি, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

ময়মনসিংহ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের জনবল একেবারেই কম। তারপর আবার যানবাহনের সংকট। এদিকে কারবারিদের সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী, সম্প্রতি গজনী বিটে দায়িত্বরত দুজন বন কর্মকর্তাকে কারবারিরা বেধড়ক মারধর করে। আমরা সীমিত জনবল দিয়েই রাতদিন চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুইয়া বলেন, ‘গারো পাহাড়ে বালু-পাথর উত্তোলন ও বনভূমি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বনখেকোদের কোনো ছাড় নয়। বন আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘বালু মহল বন্ধ রয়েছে। বালু-পাথর যারা উত্তোলন করছেন তারা অবৈধভাবে করছেন। এ ব্যাপারে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

এমএনআইএম/কেজে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow