নড়াইলের পাম্পে ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষকরা

নড়াইলে বোরো মৌসুমে সেচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। নড়াইলের পাম্প ও স্থানীয় বাজারে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নড়াইল সদর উপজেলার কামাল প্রতাপ গ্রামের মফিজ খন্দকার এবার চার একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন।জমিতে সেচ দিতে তিনি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের চারা ভালো হলেও সময় মতো পানি দিতে না পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। সোমবার (৯ মার্চ) ২ লিটার ডিজেল নিয়ে নিজের জমিতে পানি দিতে মাঠে এসেছেন কৃষক মফিজ। তিনি বলেন, এ বছর চার একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করছি। এখন জমিতে টানের সময়, পানির খুব দরকার। দোকানে দোকানে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছি না। শূন্য বোতল নিয়ে বাড়ি ফিরতি হয়। পানির অভাবে জমির গাছের গোড়ায় মাটি শুকিয়ে গেছে, গাছে লালভাব ধরছে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি। কৃষকেরা আরও জানান, স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ১০৫ টাকায় পাওয়া যেতো। এখন তা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি দাম ও নেওয়া হচ্ছে।

নড়াইলের পাম্পে ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষকরা

নড়াইলে বোরো মৌসুমে সেচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। নড়াইলের পাম্প ও স্থানীয় বাজারে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নড়াইল সদর উপজেলার কামাল প্রতাপ গ্রামের মফিজ খন্দকার এবার চার একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন।
জমিতে সেচ দিতে তিনি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের চারা ভালো হলেও সময় মতো পানি দিতে না পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

সোমবার (৯ মার্চ) ২ লিটার ডিজেল নিয়ে নিজের জমিতে পানি দিতে মাঠে এসেছেন কৃষক মফিজ।

তিনি বলেন, এ বছর চার একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করছি। এখন জমিতে টানের সময়, পানির খুব দরকার। দোকানে দোকানে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছি না। শূন্য বোতল নিয়ে বাড়ি ফিরতি হয়। পানির অভাবে জমির গাছের গোড়ায় মাটি শুকিয়ে গেছে, গাছে লালভাব ধরছে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

কৃষকেরা আরও জানান, স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ১০৫ টাকায় পাওয়া যেতো। এখন তা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি দাম ও নেওয়া হচ্ছে।

শালিখা গ্রামের মহিদ বলেন, বাজারে তেল নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। দুই-তিনদিন ঘুরে একদিন তেল পাওয়া যায়। আগে যে দাম ছিল, এখন তার চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এখন ধানের জমিতে নিয়মিত পানি দিতে না পারলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।

স্থানীয় বাজারের ডিজেল বিক্রেতারা জানান, ১০ দিন আগে থেকে তারা ডিজেল পাচ্ছেন না। এ কারণে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর পাঁচ হাজর ৩০৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা থেকে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৬২৩ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের উপসহকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলায় ইতোমধ্যে দোকান পরিদর্শন করা হচ্ছে। কেউ বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম রাহসিন কবির (ইউএনও) বলেন, ডিজেল বিক্রির দোকানগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রিতে সতর্ক করেছেন।

হাফিজুল নিলু/এনএইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow