নড়াইলে বাড়ছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ, কম খরচে অধিক লাভের হাতছানি
নড়াইলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। কম খরচে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়ায় সূর্যমুখী ফুলের চাষে ঝুঁকছে এ জেলার কৃষকেরা। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় দিন দিন এর চাষ বাড়ছে বলে মনে করছে জেলা কৃষি বিভাগ। নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া মাঠে যেদিকে তাকাই শুধু হলুদ গালিচার মতো সূর্যমুখী ফুলের খেত। এ যেন চারিদিক হলুদের সমারোহ।ক্ষেতজুড়ে সূর্যমুখী বাগানের হলুদ সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছে শত শত সৌন্দর্যপিপাসু। দু-চোখ জুড়ানো মাঠে প্রতিদিন বিকেলে ঘুরতে ও সেলফি নিতে ভিড় করছে তরুণ-তরুণীরা। কোথাও কোথাও সূর্যমুখী বাগানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোটখাটো বিনোদন কেন্দ্র। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী বছর আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হবে।চাঁচড়া গাবতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ মোল্যা বলেন, "আমি ৩০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। গাছে ফুলের অবস্থা দেখে ভালো ফলনের আশা করছি। সূর্যমুখীর তেল খেতে খুবই সুস্বাদু। কৃষক ভাইদের বলবো, বীজ লাগানোর সময় দড়ি দিয়ে সারি করে লাগালে ফলন ভালো হয়।"চাঁচড়া গ্রামের কৃষক শহীদুল্লাহ বলেন, "প্রথম বারের মতো আমার ১২ শ
নড়াইলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সূর্যমুখী ফুলের চাষ। কম খরচে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়ায় সূর্যমুখী ফুলের চাষে ঝুঁকছে এ জেলার কৃষকেরা। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় দিন দিন এর চাষ বাড়ছে বলে মনে করছে জেলা কৃষি বিভাগ। নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া মাঠে যেদিকে তাকাই শুধু হলুদ গালিচার মতো সূর্যমুখী ফুলের খেত। এ যেন চারিদিক হলুদের সমারোহ।
ক্ষেতজুড়ে সূর্যমুখী বাগানের হলুদ সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছে শত শত সৌন্দর্যপিপাসু। দু-চোখ জুড়ানো মাঠে প্রতিদিন বিকেলে ঘুরতে ও সেলফি নিতে ভিড় করছে তরুণ-তরুণীরা। কোথাও কোথাও সূর্যমুখী বাগানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোটখাটো বিনোদন কেন্দ্র। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী বছর আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হবে।
চাঁচড়া গাবতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ মোল্যা বলেন, "আমি ৩০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। গাছে ফুলের অবস্থা দেখে ভালো ফলনের আশা করছি। সূর্যমুখীর তেল খেতে খুবই সুস্বাদু। কৃষক ভাইদের বলবো, বীজ লাগানোর সময় দড়ি দিয়ে সারি করে লাগালে ফলন ভালো হয়।"
চাঁচড়া গ্রামের কৃষক শহীদুল্লাহ বলেন, "প্রথম বারের মতো আমার ১২ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। নড়াইল কৃষি অফিস থেকে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দিয়েছে। ফলন খুব ভালো হয়েছে। সরিষার তুলনায় সূর্যমুখীতে দ্বিগুন লাভ করা যায়। স্থানীয় বাজারে তেল ভাঙানোর মেশিন থাকায় নিজেদের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ করে বাড়তি তেল বাজারে বিক্রি করতে পারছি।"
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব বিশ্বাস বলেন, "গত বছরের তুলনায় এ বছর তুলারামপুর ইউনিয়নে সূর্যমুখীর আবাদ দ্বিগুণ হয়েছে। সূর্যমুখী তেলের উচ্চ মূল্য ও বেশি উৎপাদনের কারণে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। এ বছর বারি সূর্যমুখী-৩ এবং হাইব্রিড জাত 'হাইসান-৩৬' বেশি চাষ হয়েছে। বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের জীবনকাল অনেক কম, ফলন ও তেলের পরিমাণ বেশি এবং খাটো জাতের। এছাড়া সূর্যমুখী কাটার পর একই জমিতে পাট চাষ করা যায়।"
তিনি আরও জানান, "সূর্যমুখী তেল হৃদরোগের ঝুঁকি ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক এবং রান্নার স্বাদ বাড়ায়। ফলে এ সূর্যমুখী চাষে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মোল্লা বলেন, "আমি নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। দুই বছর ধরে এই জমিতে সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে দেখছি। যারা এই সূর্যমুখী চাষ করেছে তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি এটি লাভজনক ফসল। তাই আগামী বছর আমার ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষের ইচ্ছা আছে।"
নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রোকনুজ্জামান বলেন, "সূর্যমুখী একটি তেলজাতীয় ফসল। নড়াইল সদরে সূর্যমুখীর আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। মাঠের অবস্থা দেখে তিনি এ বছর ভালো ফলনের আশা প্রকাশ করেন।
গত বছর সদর উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছিল, এ বছর তা বেড়ে ৭৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের ফলন দেখে কৃষকরা সামনের দিনগুলোতে সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হবে। নড়াইল সদরে বারি সূর্যমুখী-৩ এবং হাইসান-৩৬ এই জাতের সূর্যমুখী বেশি চাষ হয়েছে।"
What's Your Reaction?