পদ্মায় ডুবে ১৮ পারাতেই থেমে গেল আয়েশার হাফেজা হওয়ার স্বপ্ন

কোরআনের হাফেজা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বাসে উঠেছিল ১৩ বছর বয়সী কিশোরী আয়েশা সিদ্দিকা। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো আয়েশার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বড় চাচার কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী কাউন্টার থেকে ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসে করে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছিল ১৮ পারা কোরআনের হাফেজা আয়েশা। বাসে সে তার মা লিটা খাতুনের সঙ্গে বসে ছিল। বাবা গিয়াস উদ্দিন ও ভাই আবুল কাশেম সাফিন ফেরিঘাটে নামার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। স্মৃতি থেকে মুছে না যাওয়া সেই ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা গিয়াস উদ্দিন। তিনি জানান, নিজের চোখের সামনেই স্ত্রী ও মেয়েকে (আয়েশা) বাসের সঙ্গে তলিয়ে যেতে দেখেন। একপর্যায়ে স্ত্রী ভেসে উঠলেও মেয়ে আয়েশাকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গভীর রাতে ফায়ার সা

পদ্মায় ডুবে ১৮ পারাতেই থেমে গেল আয়েশার হাফেজা হওয়ার স্বপ্ন
কোরআনের হাফেজা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বাসে উঠেছিল ১৩ বছর বয়সী কিশোরী আয়েশা সিদ্দিকা। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেলে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো আয়েশার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বড় চাচার কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী কাউন্টার থেকে ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসে করে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছিল ১৮ পারা কোরআনের হাফেজা আয়েশা। বাসে সে তার মা লিটা খাতুনের সঙ্গে বসে ছিল। বাবা গিয়াস উদ্দিন ও ভাই আবুল কাশেম সাফিন ফেরিঘাটে নামার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। স্মৃতি থেকে মুছে না যাওয়া সেই ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা গিয়াস উদ্দিন। তিনি জানান, নিজের চোখের সামনেই স্ত্রী ও মেয়েকে (আয়েশা) বাসের সঙ্গে তলিয়ে যেতে দেখেন। একপর্যায়ে স্ত্রী ভেসে উঠলেও মেয়ে আয়েশাকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গভীর রাতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আয়েশার নিথর দেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতে মেয়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা। বৃহস্পতিবার ভোরে আয়েশার মরদেহ শোমসপুর গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ১৮ পারার হাফেজা মেয়েটিকে শেষবারের মতো দেখতে শত শত মানুষের ঢল নামে। দাফন শেষে পুরো বাড়িজুড়ে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা। বিলাপ করতে করতে গিয়াস উদ্দিন বলেন, মুহূর্তের মধ্যে কত বাবা-মায়ের বুক খালি হয়ে গেল! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow