পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারে উদ্যোগ আছে, অগ্রগতি নেই
পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর পোড়া ইটের ব্যবহার কমাতে দীর্ঘদিন কাজ করছে সরকার। আছে বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ। বিকল্প হিসেবে সরকারি কাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহার করতে আদালতের নির্দেশনাও আছে। তবে মাঠপর্যায়ে প্রয়োগে কোনো অগ্রগতি নেই। ব্লক ইট ব্যবহারে সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ হচ্ছে সামান্য। ২০২৫ সালে সরকারি উন্নয়ন ও সংস্কারকাজে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হলেও পোড়া ইটের ব্যবহার শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা এখনো কার্যকর হয়নি। ২০১৯ সালে সরকারের গেজেট অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি কাজে ব্লক ইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে এ লক্ষ্য অধরাই থেকে গেছে। প্রচলিত পোড়া ইট থেকে পরিবেশবান্ধব নন-ফায়ার্ড ব্লকে রূপান্তর একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্লক ব্যবহার করে, সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত তদারকি ও উৎসাহ দিচ্ছি।-পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্লক ইট ব্যবহারে অনাগ্রহ তো আছেই, বেসরকারি কাজেও ব্যবহার প
পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর পোড়া ইটের ব্যবহার কমাতে দীর্ঘদিন কাজ করছে সরকার। আছে বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ। বিকল্প হিসেবে সরকারি কাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহার করতে আদালতের নির্দেশনাও আছে। তবে মাঠপর্যায়ে প্রয়োগে কোনো অগ্রগতি নেই।
ব্লক ইট ব্যবহারে সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ হচ্ছে সামান্য। ২০২৫ সালে সরকারি উন্নয়ন ও সংস্কারকাজে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হলেও পোড়া ইটের ব্যবহার শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা এখনো কার্যকর হয়নি।
২০১৯ সালে সরকারের গেজেট অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি কাজে ব্লক ইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে এ লক্ষ্য অধরাই থেকে গেছে।
প্রচলিত পোড়া ইট থেকে পরিবেশবান্ধব নন-ফায়ার্ড ব্লকে রূপান্তর একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্লক ব্যবহার করে, সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত তদারকি ও উৎসাহ দিচ্ছি।-পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক
সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্লক ইট ব্যবহারে অনাগ্রহ তো আছেই, বেসরকারি কাজেও ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। হাতে গোনা দু-একটি স্থানে ব্যবহার দেখা যায়।
ব্লক ইট প্রসারে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ
এ পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়াতে নাগরিক সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেনিং প্রোগ্রামও চালাচ্ছে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ডিভিশন। দক্ষ কারিগর তৈরি ও ব্লক ইটের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনও কাজ করছে সমানতালে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রচলিত পোড়া ইট থেকে পরিবেশবান্ধব নন-ফায়ার্ড ব্লকে রূপান্তর একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্লক ব্যবহার করে, সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত তদারকি ও উৎসাহ দিচ্ছি।’
পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট
বেসরকারি খাতে ব্লক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণে নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অন্তত ৩০ শতাংশ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো বাধ্যতামূলক আইন বা বিধান কার্যকর হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলমান।’
দক্ষ শ্রমিক সংকট
ব্লক ইটের প্রতি সাধারণ মানুষেরও আগ্রহ কম। সঠিক জ্ঞানের অভাবও একটি বড় বাধা। যদি ব্লক ইট ব্যবহারের ব্যাপারে আরও প্রচারণা ও দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা যায়, তাহলে এর ব্যবহার সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।
আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনিক অগ্রগতি
সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ইটের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত বছরের ১ ডিসেম্বর, ছয় বছর আগে নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সব ধরনের নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজে পোড়া মাটির ইটের পরিবর্তে শতভাগ ব্লক ইট ব্যবহার করতে নির্দেশ দেন আদালত। এ সংক্রান্ত নির্দেশনার বাস্তবায়ন বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে নন-ফায়ার্ড ব্লক (ব্লক ইট) ব্যবহারের হার এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সরকারিভাবে ২০২৫ সালের মধ্যে সড়ক নির্মাণ ছাড়া অন্য সব নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।’
আরও পড়ুন
থমকে আছে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার
নির্মাণকাজে ভাটা, কমেছে ইট বিক্রি
ইউটিউব দেখে অটো ব্লকের কারখানা গড়ে সফল মামুন
লক্ষ্য পূরণে প্রধান বাধা হলো ব্লকের চাহিদা প্রত্যাশিত হারে না বাড়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও অনেক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখনো ব্লক ব্যবহারে পর্যাপ্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। রাজমিস্ত্রিরাও প্রচলিত পোড়া ইটের কাজে অভ্যস্ত হওয়ায় ব্লক দিয়ে নির্মাণকাজে তেমন উৎসাহিত হচ্ছেন না।’
তবে পরিবেশ অধিদপ্তর সরকারি পর্যায়ে সড়ক নির্মাণ ছাড়া অন্য নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে বলে জানান তিনি। তার আশা, শতভাগ না হলেও অন্তত ৭০ শতাংশ সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ব্লক ইট নিয়ে রাজমিস্ত্রিরা কী বলছেন?
রাজমিস্ত্রি আহমেদ বলেন, ‘আমার দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে বিল্ডিংয়ের কাজে অভিজ্ঞতা আছে। আমরা সাধারণত যেভাবে পোড়ানো ইট দিয়ে দেওয়াল বা ভবন নির্মাণের কাজ করি, সেটাই আমাদের কাছে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্য মনে হয়। কারণ এ কাজে আমরা দীর্ঘদিন ধরে অভ্যস্ত।’
‘নির্মাণকাজের সময় গাঁথুনিতে মাপের তারতম্য হলে বা ইট ছোট-বড় হলে সাধারণ ইট সহজেই ভেঙে দুই, তিন বা চার টুকরো করে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ব্লক ইটের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন সহজ নয়; এগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী ভাঙা বা মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন।’
বাজারে পর্যাপ্ত ব্লক ইটও পাওয়া যায় না। এছাড়া ব্লক ইট ব্যবহারের জন্য দক্ষ কারিগর বা মিস্ত্রির অভাব একটি বড় সমস্যা। আরও একটি কারণ হলো, ব্লক ইট তুলনামূলক হালকা হওয়ায় সাধারণ ফ্ল্যাট ক্রেতারা এটি পছন্দ করেন না। এসব কারণে বেসরকারি নির্মাণে ব্লক ইটের ব্যবহার একেবারেই সীমিত।-রিহ্যাবের পরিচালক ড. মো. হারুন অর রশিদ
এই দক্ষ মিস্ত্রি আরও বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো— সাধারণ মিস্ত্রিরা যেভাবে ইটের কাজে অভ্যস্ত, সেভাবে এখনো ব্লক ইটের কাজে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি। তাছাড়া বাজারে ব্লক ইট এখনো পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায় না।’
মিস্ত্রি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়াতে হলে প্রথমে সাধারণ মিস্ত্রিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আবাসন কোম্পানি ও ভূমি মালিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তারা যদি পরিবেশবান্ধব ইট ব্যবহারের গুরুত্ব অনুধাবন করেন, তাহলে মিস্ত্রিরাও নিজেদের উদ্যোগে ব্লক ইটের কাজ শিখে নিতে আগ্রহী হবেন। এক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ইটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভূমি মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।’
উদ্যোক্তা ও আবাসন ব্যবসায়ীদের আপত্তি
উদ্যোক্তা ও আবাসন ব্যবসায়ীরা ব্লক ইটের দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিয়ে সন্দিহান। অনেকেই ব্লক ইটের ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন না। আবার বাজারেও পর্যাপ্ত ব্লক ইট পাওয়া যায় না। এছাড়া, ব্লক ইট ব্যবহারের জন্য দক্ষ মিস্ত্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও একটি কারণ হলো, ব্লক ইট তুলনামূলক হালকা হওয়ায় সাধারণ ফ্ল্যাট ক্রেতারা এটি পছন্দ করেন না।
ব্লক ইটের উপকারিতা ও সম্ভাবনা
ব্লক ইট ব্যবহারে এখনো কার্যকরী উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। এ ইট ব্যবহারে বেশকিছু সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি পরিবেশবান্ধব, কারণ এতে মাটি বা গাছের ব্যবহার হয় না। ব্লক ইট তৈরির খরচ প্রচলিত ইটের চেয়ে প্রায় ২০–২৫ শতাংশ কম। এর বড় আকারের কারণে নির্মাণকাজও দ্রুত শেষ হয়।
পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট
ব্লক ইট অত্যন্ত শক্তিশালী ও টেকসই, যা বাড়ির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ঘর ঠান্ডা ও শান্ত রাখে। এটি তাপ ও শব্দ নিরোধক। পাশাপাশি ব্লক ইট ভূমিকম্প সহনীয়। নির্মাণে সময় ও শ্রম কম লাগে, যা সামগ্রিক খরচ কমায়। এখন পর্যন্ত এসব উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়েনি।
দাম কেমন?
সিমেন্ট, বালু ও পাথর দিয়ে ব্লক ইট তৈরি হয়। বাজারে সলিড ও হলো দুই ধরনের ব্লক ইট পাওয়া যায়। তবে খুলনার বাজারে ব্লক ইট বিক্রি হচ্ছে না। যশোরের নিটল নিলয় কোম্পানি এবং জননী ব্লকার কোম্পানি ব্লক ইট তৈরি করে। খুলনায় খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই ইট ব্যবহারের প্রবণতা শূন্যের কোটায়। সলিড ব্লক ইট প্রতি হাজার ১৭-১৮ হাজার টাকা এবং হলো ব্লক প্রতি হাজার ৪৫-৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সলিড ব্লক ইট আকারে ছোট হয় এবং হলো ব্লক ইট আকারে বড় হয়। হলো ব্লকের একটি ইট সাধারণ প্রায় ৫টি ইটের সমান হয়।
যা বলছে রিহ্যাব
এ বিষয়ে আবাসন কোম্পানিগুলোর সংগঠন রিহ্যাবের পরিচালক এবং এমবিট হোমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. হারুন অর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেকেই এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন নন। বাজারে পর্যাপ্ত ব্লক ইটও পাওয়া যায় না। এছাড়া, ব্লক ইট ব্যবহারের জন্য দক্ষ কারিগর বা মিস্ত্রির অভাব একটি বড় সমস্যা। আরও একটি কারণ হলো, ব্লক ইট তুলনামূলক হালকা হওয়ায় সাধারণ ফ্ল্যাট ক্রেতারা এটি পছন্দ করেন না। এসব কারণে বেসরকারি নির্মাণে ব্লক ইটের ব্যবহার একেবারেই সীমিত।’
প্রচলিত ইট ও পরিবেশগত ক্ষতি
বর্তমানে দেশে বাড়িঘর নির্মাণ, সরকারি ভবন, সীমানাপ্রাচীর এবং গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে প্রচলিত পোড়া মাটির ইট ব্যবহার করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির ওপরের অংশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়। ফলে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে। ইট পোড়ানোর সময় ভাটার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, যা পরিবেশদূষণের মাত্রা বাড়াচ্ছে।
আইন, প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি
এই সমস্যা সমাধানে ২০১৯ সালে সরকার ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে। সংশোধিত আইনে, সরকারি নির্মাণ, মেরামত এবং সম্প্রসারণ কাজে ব্লক ইটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তীসময়ে ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ব্লক ইট ব্যবহারের বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে সরকারি নির্মাণকাজে ধাপে ধাপে ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
ব্লক ইটের প্রসার বাড়াতে আমরা নিয়মিত ট্রেনিং ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। তবে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাব ছাড়া এক্ষেত্রে উন্নতি করা কঠিন। ব্লক ফ্যাক্টরির সক্ষমতা বাড়াতে যে নীতিমালা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই, সরকারি টেন্ডারে ব্লক ইট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আনা অত্যন্ত জরুরি।-এইচবিআরআইর বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ডিভিশনের সিনিয়র রিসার্চ অফিসার আহসান হাবিব
এই পরিকল্পনার আওতায় ২০১৯–২০ অর্থবছরের মধ্যে সরকারি নির্মাণকাজের ১০ শতাংশ, ২০২০–২১ অর্থবছরে ২০ শতাংশ, ২০২১–২২ অর্থবছরে ৩০ শতাংশ, ২০২২–২৩ অর্থবছরে ৬০ শতাংশ, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৮০ শতাংশ এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে শতভাগ ব্লক ইট ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে তার বাস্তবায়ন মোটেই আশানুরূপ নয়।
গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন
ইটভাটায় কয়লা, কাঠ বা গ্যাস পোড়ানোর ফলে বায়ুদূষণ, বন ধ্বংস এবং কার্বন নিঃসরণ বেড়ে যাচ্ছে। এইচবিআরআইয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিদিন ৭০০ একর কৃষিজমি হারাচ্ছে, যার ১৭ শতাংশ ক্ষতি ইটভাটার কারণে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণের ১৩ শতাংশের উৎস ইটভাটা।
যা বলছেন ব্লক তৈরির উদ্যোক্তা
কথা হয় উদ্যোক্তা ও অ্যাক্সিস এনার্জি লিমিটেডের এমডি প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের সঙ্গে। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৪২টি ব্লক ফ্যাক্টরি স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশে পোড়া ইটের বাজার প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার। ইটভাটার কারণে বছরে প্রায় ৪২ হাজার একর কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। যেখানে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এলজিইডি, পাবলিক ওয়ার্কসসহ অন্য সরকারি সংস্থা খুব সীমিত পরিমাণে ব্লক ব্যবহার করছে। প্রতিটি জেলায় ফ্যাক্টরি স্থাপন করলে পরিবহন ব্যয় কমবে। সহজ শর্তে ঋণও প্রয়োজন।’
এইচবিআরআইয়ের পর্যবেক্ষণ
এ বিষয়ে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ডিভিশনের সিনিয়র রিসার্চ অফিসার আহসান হাবিব জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্লক ইটের প্রসার বাড়াতে আমরা নিয়মিত ট্রেনিং ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। তবে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাব ছাড়া এক্ষেত্রে উন্নতি করা কঠিন। ব্লক ফ্যাক্টরির সক্ষমতা বাড়াতে যে নীতিমালা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই, সরকারি টেন্ডারে ব্লক ইট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আনা অত্যন্ত জরুরি।
ইএআর/এএসএ/এমএফএ
What's Your Reaction?
