পরীক্ষা অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয়, মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র: ডিসি জাহিদ

পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের অসদুপায়ের চিন্তা না করে নিজেদের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে পরীক্ষা দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামের ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে তিনি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসদুপায় বা অনৈতিক চর্চার স্থান নেই। একজন শিক্ষার

পরীক্ষা অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয়, মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র: ডিসি জাহিদ

পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার প্রতিযোগিতা নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেন, পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের অসদুপায়ের চিন্তা না করে নিজেদের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে পরীক্ষা দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামের ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে তিনি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসদুপায় বা অনৈতিক চর্চার স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তরপত্রে তুলে ধরতে পারলে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রতিযোগিতা থাকলেও তা অবশ্যই সুস্থ ও ন্যায়সংগত হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ্যবিষয় যথাযথভাবে আয়ত্ত করতে পারে, তবে তার স্বাভাবিক প্রতিফলন পরীক্ষার খাতায় ফুটে উঠবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।

ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আজকের পরীক্ষার্থীরাই আগামীদিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের চর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রজীবনে অর্জিত জ্ঞানই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, তা দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবারই দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

এসময় চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রের সচিব ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৩ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৩৫ জন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএএইচ/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow