পাওয়ার ন্যাপ নিতে গেলেই বেলা গড়িয়ে যায়? কারণ জানুন

দুপুরে ভেবেছিলেন মাত্র ২০ মিনিট চোখ বন্ধ করবেন। কিন্তু ঘুম ভাঙতেই দেখলেন বিকেল হয়ে গেছে। অনেকের ক্ষেত্রেই পাওয়ার ন্যাপ নিতে গিয়ে এমনটা হয়। ছোট্ট বিশ্রাম নিতে গিয়ে কখন যে বেলা গড়িয়ে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না। এর পেছনে শুধু অলসতা নয়, শরীর ও মস্তিষ্কের কিছু স্বাভাবিক কারণ কাজ করে। জেনে নিন কারণগুলো - ১. ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীর সুযোগ নেয়যদি আগের রাতে ঠিকমতো ঘুম না হয়, তাহলে দিনের বেলায় শরীর ঘুমের ঋণ শোধ করতে চায়। তখন ১৫ মিনিটের ন্যাপও দীর্ঘ ঘুমে পরিণত হতে পারে। শরীর তখন বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দেয়। ২. ভুল সময়ে ন্যাপ নেওয়াদুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে হালকা ঘুম সবচেয়ে স্বাভাবিক। কিন্তু বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ন্যাপ নিতে গেলে শরীর গভীর ঘুমে ঢুকে যেতে পারে। এতে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়। ৩. অ্যালার্ম ছাড়া ঘুমানোঅনেকে ‘একটু শুয়ে উঠব’ ভেবে অ্যালার্ম দেন না। ফলাফল - শরীর নিজের মতো ঘুম চালিয়ে যায়। বিশেষ করে ক্লান্ত থাকলে এটি আরও বেশি হয়। ৪. বিছানায় শোয়া বনাম ছোট বিশ্রামপাওয়ার ন্যাপের জন্য সোফা, রিক্লাইনার বা চেয়ারে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নেওয়া ভালো। বিছানায় পুরোপুরি শুয়ে গেলে মস্তিষ্ক সেটিকে রাতের ঘুম হিসেবে ধরতে পার

পাওয়ার ন্যাপ নিতে গেলেই বেলা গড়িয়ে যায়? কারণ জানুন

দুপুরে ভেবেছিলেন মাত্র ২০ মিনিট চোখ বন্ধ করবেন। কিন্তু ঘুম ভাঙতেই দেখলেন বিকেল হয়ে গেছে। অনেকের ক্ষেত্রেই পাওয়ার ন্যাপ নিতে গিয়ে এমনটা হয়। ছোট্ট বিশ্রাম নিতে গিয়ে কখন যে বেলা গড়িয়ে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না।

এর পেছনে শুধু অলসতা নয়, শরীর ও মস্তিষ্কের কিছু স্বাভাবিক কারণ কাজ করে। জেনে নিন কারণগুলো -

১. ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীর সুযোগ নেয়
যদি আগের রাতে ঠিকমতো ঘুম না হয়, তাহলে দিনের বেলায় শরীর ঘুমের ঋণ শোধ করতে চায়। তখন ১৫ মিনিটের ন্যাপও দীর্ঘ ঘুমে পরিণত হতে পারে। শরীর তখন বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দেয়।

২. ভুল সময়ে ন্যাপ নেওয়া
দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে হালকা ঘুম সবচেয়ে স্বাভাবিক। কিন্তু বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ন্যাপ নিতে গেলে শরীর গভীর ঘুমে ঢুকে যেতে পারে। এতে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়।

৩. অ্যালার্ম ছাড়া ঘুমানো
অনেকে ‘একটু শুয়ে উঠব’ ভেবে অ্যালার্ম দেন না। ফলাফল - শরীর নিজের মতো ঘুম চালিয়ে যায়। বিশেষ করে ক্লান্ত থাকলে এটি আরও বেশি হয়।

৪. বিছানায় শোয়া বনাম ছোট বিশ্রাম
পাওয়ার ন্যাপের জন্য সোফা, রিক্লাইনার বা চেয়ারে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নেওয়া ভালো। বিছানায় পুরোপুরি শুয়ে গেলে মস্তিষ্ক সেটিকে রাতের ঘুম হিসেবে ধরতে পারে।

৫. স্ট্রেস ও মানসিক ক্লান্তি
শুধু শরীর নয়, মানসিক চাপও অতিরিক্ত ঘুমের কারণ হতে পারে। টানা কাজ, স্ক্রিন টাইম বা মানসিক ক্লান্তি থাকলে শরীর বিশ্রাম চাইবেই।

তাহলে সঠিক পাওয়ার ন্যাপ কীভাবে নেবেন?
১০ থেকে ২০ মিনিটের ন্যাপ সবচেয়ে কার্যকর। এতে সতেজ লাগে, কিন্তু গভীর ঘুমে ঢোকার সম্ভাবনা কম থাকে। অ্যালার্ম সেট করুন, দুপুরের দিকে ন্যাপ নিন, ঘর খুব অন্ধকার না রাখাই ভালো।

কখন সতর্ক হবেন?
যদি প্রতিদিনই দিনের বেলায় অস্বাভাবিক ঘুম পায়, ন্যাপ নিয়েও ক্লান্তি না যায়, বা দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে পড়েন - তাহলে এটি ঘুমের ঘাটতি, স্লিপ অ্যাপনিয়া, ডিপ্রেশন বা অন্য স্বাস্থ্যসমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ছোট্ট পাওয়ার ন্যাপ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, তবে সেটি যদি নিয়মিত মিনি হাইবারনেশন হয়ে যায়, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, স্লিপ ফাউন্ডেশন, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow