পাদুকা শিল্পে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি প্রস্তুতকারক সমিতির

পাদুকা শিল্পে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের পাদুকার ওপর ভ্যাট আরোপ তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং এতে শিল্পটি হুমকির মুখে পড়ছে। রোববার (৩ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সমিতির সভাপতি হাজী ফজলু। তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যের পাদুকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রিকশাচালক বা দিনমজুরের কাছে ১০-১৫ টাকাও অনেক মূল্যবান। এ ধরনের পণ্যে ভ্যাট আরোপ করলে তা তাদের নাগালের বাইরে চলে যায়। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের ব্যবহৃত এই পণ্য ভ্যাটমুক্ত না করা হলে শিল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। দেশীয় উৎপাদন বন্ধ হলে বিদেশি পণ্য বাজার দখল করবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। এরইমধ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। পরিবেশগত দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের বড় অংশই পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক থেকে আস

পাদুকা শিল্পে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি প্রস্তুতকারক সমিতির

পাদুকা শিল্পে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের পাদুকার ওপর ভ্যাট আরোপ তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং এতে শিল্পটি হুমকির মুখে পড়ছে।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সমিতির সভাপতি হাজী ফজলু।

তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যের পাদুকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রিকশাচালক বা দিনমজুরের কাছে ১০-১৫ টাকাও অনেক মূল্যবান। এ ধরনের পণ্যে ভ্যাট আরোপ করলে তা তাদের নাগালের বাইরে চলে যায়।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের ব্যবহৃত এই পণ্য ভ্যাটমুক্ত না করা হলে শিল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। দেশীয় উৎপাদন বন্ধ হলে বিদেশি পণ্য বাজার দখল করবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। এরইমধ্যে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশগত দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের বড় অংশই পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক থেকে আসে, যা পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার তাইফুল সিরাজ বলেন, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ টাকা মূল্যের হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি ছিল। তবে ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে এ সুবিধা প্রত্যাহার করে ভ্যাট আরোপ করা হয়।

তিনি জানান, এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং দেশীয় উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে, বিদেশি পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই শিল্প মূলত রিকশাচালক, শ্রমিক ও কৃষকদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পণ্য উৎপাদন করে, যাদের ক্রয়ক্ষমতা সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভ্যাট আরোপের ফলে এসব পণ্য তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ভ্যাট অব্যাহতি পুনর্বহাল করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস আশরাফ উদ্দিন, সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট এনামুল হক সুমনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএআর/এএমএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow