‘পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না, এটাই বাস্তব’
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। ৬ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার পর থেকেই রিপন মিয়া পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা রিপন মিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা রিপন মিয়া সম্পর্কে নানারকম পোস্ট দিতে থাকেন। আরও পড়ুন সোশ্যাল মিডিয়ার হিরো মুহূর্তেই হতে পারেন জিরো অনিন্দ্য মামুন লিখেছেন, ‘লোকটা যখন কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রাখল; তখনই বলেছিলাম এই ছেলে আর আগের মতো থাকবে না। গ্রামে খুব সাধারণ জীবন যাপন করতেন। সেই সাধারণ জীবনটাই সামাজিক মাধ্যমে বিক্রি করে জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলেন। কিন্তু কর্পোরেট দুনিয়ায় ঢোকার পর বদলে গেল। লোভ, অর্থের মোহ, নারীসঙ্গের আকর্ষণ, আর সাধারণ থাকার অভিনয়-সব মিলিয়ে সে হয়তো ভেতরে ভেতরে নিজের আসল চরিত্র থেকেই সরে এলেন। ঘরে স্ত্রী রেখে বাইরে সম্পর্ক, বিলাসী জীবনের নেশা-কর্প
নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। ৬ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার পর থেকেই রিপন মিয়া পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা রিপন মিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা রিপন মিয়া সম্পর্কে নানারকম পোস্ট দিতে থাকেন।
অনিন্দ্য মামুন লিখেছেন, ‘লোকটা যখন কর্পোরেট দুনিয়ায় পা রাখল; তখনই বলেছিলাম এই ছেলে আর আগের মতো থাকবে না। গ্রামে খুব সাধারণ জীবন যাপন করতেন। সেই সাধারণ জীবনটাই সামাজিক মাধ্যমে বিক্রি করে জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলেন। কিন্তু কর্পোরেট দুনিয়ায় ঢোকার পর বদলে গেল। লোভ, অর্থের মোহ, নারীসঙ্গের আকর্ষণ, আর সাধারণ থাকার অভিনয়-সব মিলিয়ে সে হয়তো ভেতরে ভেতরে নিজের আসল চরিত্র থেকেই সরে এলেন।
ঘরে স্ত্রী রেখে বাইরে সম্পর্ক, বিলাসী জীবনের নেশা-কর্পোরেট সংস্কৃতির প্রতিও হয়তো আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। এরপর যা ঘটল তা তো সবাই দেখছেন। আসলে আমাদের অধিকাংশই ভদ্রতা বা সততা হয়তো নীতির কারণে নয়; সুযোগের অভাবে। সুযোগ না থাকায় আমরা ভালো মানুষের মুখোশ পরে থাকি। আর সুযোগ পেলেই বেরিয়ে আসে আসল চেহারা। সে হতে পারে হতদরিদ্র রিপন মিয়া, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, স্কুলের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মোটিভেশনাল ইনফ্লুয়েন্সার, বিশাল শিল্পগোষ্ঠীর মালিক অথবা আমার মতো ছাপোষা সাংবাদিক।’
অসীম মিত্র লিখেছেন, ‘কট খেয়ে গ্রেফতার হলাম, কপাল আমার ফাটা, বন্ধুরা সব সেলফি তোলে, ভাই কেমন হলো থানা? রিপন ভিডিও।’
ভয়েস অব হাসনাত লিখেছেন, ‘নেত্রকোনার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘রিপন মিয়া’ কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় আজ অপারেশনে নামে র্যাব এবং তাকে গ্রেফতার করে। পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না, এটাই বাস্তব।’
আরিয়া আনজুম লিখেছেন, ‘স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেফতার। নারী-সংক্রান্ত মামলায় অবশেষে রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। আমি সব সময় একটা কথা বলি—মানুষের মুখোশের আড়ালেও আরেকটা মুখোশ থাকে। আমরা সাধারণত মানুষ আমাদের যা দেখায়, সেটুকুই দেখি; কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তবতা অনেক সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়।
রিপন খুবই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা একজন মানুষ। কাঠমিস্ত্রির কাজের ফাঁকে মোবাইলে ছোট ছোট ছন্দ আর হাস্যরসাত্মক ভিডিও বানিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলেন। কিন্তু জনপ্রিয়তার পর সেই আগের রিপন আর বর্তমান রিপনের মধ্যে অনেক পার্থক্য এসেছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বাবা-মায়ের খোঁজখবর না নেওয়া এবং স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিক অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল।
রিপন নিজের চেয়ে অনেক কম বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কারণ তার আগে বিয়ে করা মূর্খ স্ত্রীকে তার এখন ভালো লাগে না। যদিও ফেসবুকে সবাইকে দেখাত সে একজন বউ পাগল। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় সাফল্য অর্জন যত কঠিন, সেটি ধরে রাখা তার চেয়েও কঠিন। সুযোগ, জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি তখনই মূল্যবান, যখন তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। আমার চোখের সামনে এভাবে দুজন মানুষকে বরবাদ হতে দেখলাম—একজন গায়ক নোবেল, আরেকজন রিপন মিয়া।’
এসইউ
What's Your Reaction?


