পা দিয়ে লিখে এইচএসসি দিচ্ছেন পলি রানী

জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাতের বদলে ডান পা দিয়ে লিখে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার পলি রানী (১৮)। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট পলি উপজেলার গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে। কাউনিয়া কলেজের মানবিক বিভাগের এই শিক্ষার্থী এবার কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। পলির মা রুপালী রানী জানান, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখা থামিয়ে দেয়নি তার মেয়ে। জন্ম থেকেই পলির হাতের আঙুল নেই। হাত ছোট ও বাঁকা হওয়ায় সে কলম ধরতে পারে না। কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে থামাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই ডান পা দিয়ে লেখা অনুশীলন শুরু করে পলি। দীর্ঘদিনের চর্চায় এখন সে স্বাভাবিক গতিতেই লিখতে পারে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হতে হয়েছিল পলিকে। তবে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উৎসাহে সেই কষ্ট কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যায় সে। পরে সহপাঠীরাও তাকে আপন করে নেয়। পঞ্চম শ্রেণিতে এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে নিজের মেধার প্রমাণ দেয় পলি। এরপর কাউনিয়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতেও এ গ্রেড পায়। পলি রানী জানা

পা দিয়ে লিখে এইচএসসি দিচ্ছেন পলি রানী

জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাতের বদলে ডান পা দিয়ে লিখে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার পলি রানী (১৮)। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট পলি উপজেলার গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে। কাউনিয়া কলেজের মানবিক বিভাগের এই শিক্ষার্থী এবার কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।

পলির মা রুপালী রানী জানান, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখা থামিয়ে দেয়নি তার মেয়ে। জন্ম থেকেই পলির হাতের আঙুল নেই। হাত ছোট ও বাঁকা হওয়ায় সে কলম ধরতে পারে না। কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে থামাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই ডান পা দিয়ে লেখা অনুশীলন শুরু করে পলি। দীর্ঘদিনের চর্চায় এখন সে স্বাভাবিক গতিতেই লিখতে পারে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হতে হয়েছিল পলিকে। তবে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও উৎসাহে সেই কষ্ট কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যায় সে। পরে সহপাঠীরাও তাকে আপন করে নেয়। পঞ্চম শ্রেণিতে এ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে নিজের মেধার প্রমাণ দেয় পলি। এরপর কাউনিয়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতেও এ গ্রেড পায়।

পলি রানী জানায়, তার স্বপ্ন একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়া। মানুষের সেবা করাই তার জীবনের লক্ষ্য। সে বিশ্বাস করে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই মানুষের স্বপ্নপূরণে প্রতিবন্ধক হতে পারে না।

কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, পলি কখনো প্রতিবন্ধকতাকে অজুহাত বানায়নি। সে নিয়মিত ক্লাস করেছে, পড়াশোনায় মনোযোগী এবং ভদ্র ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।

পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থী হিসেবে পলির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে পলি রানীর পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। তার উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow