পিরোজপুরে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ টাকায় বিক্রি, ভোগান্তি চরমে

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় পেট্রোলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এই দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট না থাকলেও নেছারাবাদে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় বিক্রেতারা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো দাম বাড়িয়ে পেট্রোল বিক্রি করছেন। একইসঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলায় কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় উপজেলার ৩৩টি বাজারে প্রায় দুই শতাধিক দোকানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হয়। তবে এসব দোকানের অধিকাংশেরই কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। ব্যবসায়ীরা ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন ডিপো থেকে জ্বালানি তেল কিনে এনে খুচরা বিক্রি করেন। গত সপ্তাহ থেকে বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাতে তেলের সংকটের কথা বলে লিটারপ্রতি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি করছেন। অনেক দোকানে কোমল পানীয়ের বোতলে পেট্রোল ভর

পিরোজপুরে প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ টাকায় বিক্রি, ভোগান্তি চরমে

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় পেট্রোলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এই দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট না থাকলেও নেছারাবাদে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় বিক্রেতারা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো দাম বাড়িয়ে পেট্রোল বিক্রি করছেন। একইসঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলায় কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় উপজেলার ৩৩টি বাজারে প্রায় দুই শতাধিক দোকানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হয়। তবে এসব দোকানের অধিকাংশেরই কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। ব্যবসায়ীরা ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন ডিপো থেকে জ্বালানি তেল কিনে এনে খুচরা বিক্রি করেন।

গত সপ্তাহ থেকে বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাতে তেলের সংকটের কথা বলে লিটারপ্রতি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি করছেন। অনেক দোকানে কোমল পানীয়ের বোতলে পেট্রোল ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বোতলে ওজনও কম দেওয়া হচ্ছে।

আউরিয়া গ্রামের মোটরসাইকেল চালক মো. মিজান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একযোগে পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে। মাহমুদকাঠি বাজারে লিটারপ্রতি ১৫০ টাকা, আবার ইন্দেরহাটে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানে তেল থাকলেও পরিচিত গ্রাহক ছাড়া অন্যদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে না। অপরিচিত ক্রেতাদের কাছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে।

মাহমুদকাঠি বাজারের পেট্রোল বিক্রেতা মো. শামিম হোসেন জানান, ঝালকাঠি ডিপো থেকে তারা প্রতি লিটার পেট্রোল ১৩৫ টাকা দরে কিনে আনেন। তবে সরবরাহ সংকটের কারণে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। ডিপো থেকে অনেক সময় ওজনে কম তেল দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহমুদ বলেন, অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির বিষয়ে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কালোবাজারি রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেল নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পিরোজপুর সদর, জিয়ানগর, নাজিরপুর, কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়া উপজেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে জিয়ানগরের ঘোষেরহাট, সেতুর টোল, ইন্দুরকানী বাজার ও চৌরাস্তা এলাকায় পেট্রোল লিটারপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনেক স্থানে খোঁজ নিয়েও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেল মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে অভিযান পরিচালনা করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. তরিকুল ইসলাম/এনএইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow