পুশ-ইন আতঙ্কে ডিমলার সীমান্তে মাইকিং, পাহারায় বিজিবি-এলাকাবাসী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোয় সম্ভাব্য ‘পুশ-ইন’ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার বালাপাড়া, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বালাপাড়া বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি, পশ্চিম ছাতনাইয়ের ঠাকুরগঞ্জ ও কালীগঞ্জ বিওপি, পূর্ব ছাতনাইয়ের থানারহাট সীমান্ত ফাঁড়ি এবং টেপাখড়িবাড়ীর বার্নিরঘাট ও চরখড়িবাড়ী সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য পুশ-ইনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডিমলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোয় উদ্বেগ দেখা দেয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোয় সম্ভাব্য ‘পুশ-ইন’ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলার বালাপাড়া, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বালাপাড়া বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি, পশ্চিম ছাতনাইয়ের ঠাকুরগঞ্জ ও কালীগঞ্জ বিওপি, পূর্ব ছাতনাইয়ের থানারহাট সীমান্ত ফাঁড়ি এবং টেপাখড়িবাড়ীর বার্নিরঘাট ও চরখড়িবাড়ী সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য পুশ-ইনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডিমলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোয় উদ্বেগ দেখা দেয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন ও সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবি বা প্রশাসনকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সম্ভাব্য পুশ-ইন প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাত জেগে পাহারা দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আবদুল লতিফ খান জানান, থানারহাট সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হুদা তারিফ বলেন, সীমান্ত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা হলে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
একই ধরনের বক্তব্য দেন বালাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় সবাইকে সজাগ রাখা হয়েছে। দেশের স্বার্থে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়রা প্রস্তুত রয়েছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে স্থানীয়দের নিয়ে রাতভর পাহারা দেওয়া হচ্ছে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
বালাপাড়া বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার অধীনস্থ সীমান্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের পুশ-ইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত পাহারা জোরদার করা হয়েছে এবং বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সম্ভাব্য পুশ-ইন নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে ডিমলা সীমান্তে কোনো ধরনের পুশ-ইনের ঘটনা না ঘটলেও সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তজুড়ে বাড়তি নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
What's Your Reaction?