পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বুধবার, দেশে কখন কোথায় দেখা যাবে

আজ আকাশে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য— ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সময় চাঁদ লালচে আভা ধারণ করবে, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। এ ধরনের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আবার দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত। গত রোববার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫। কেন লাল দেখায় চাঁদ? পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়, ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। বায়ুমণ্ডল নীল আলোর ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বিচ্ছুরিত করে এবং লাল আলোর দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য চাঁদের দিকে যেতে দেয়। এ কারণেই গ্রহণের সময় চাঁদ তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যা

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বুধবার, দেশে কখন কোথায় দেখা যাবে
আজ আকাশে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য— ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সময় চাঁদ লালচে আভা ধারণ করবে, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। এ ধরনের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আবার দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত। গত রোববার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫। কেন লাল দেখায় চাঁদ? পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান নেয়, ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে। বায়ুমণ্ডল নীল আলোর ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বিচ্ছুরিত করে এবং লাল আলোর দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য চাঁদের দিকে যেতে দেয়। এ কারণেই গ্রহণের সময় চাঁদ তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে। কোথায় সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে? বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রহণের কেন্দ্রীয় গতিপথ হবে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে। এছাড়া এটি কিংম্যান রিফ জাতীয় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হাওল্যান্ড দ্বীপ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং মাইক্রোনেশিয়ার কোসরাই দ্বীপ ও লুগাও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণের সময় বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে। বিভাগীয় শহরগুলোতে গ্রহণ শুরুর সময় নিম্নরূপ: ঢাকা : সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ১২ সেকেন্ড। চট্টগ্রাম : বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড। সিলেট : বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। রাজশাহী : সন্ধ্যা ৬টা ০৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড। খুলনা : সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড। বরিশাল : সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড। ময়মনসিংহ : সন্ধ্যা ৬টা ০০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড। রংপুর : সন্ধ্যা ৬টা ০৪ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে উপচ্ছায়া থেকে চাঁদের নির্গমনের মাধ্যমে গ্রহণটি পুরোপুরি শেষ হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow