পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও ছিল না প্রস্তুতি, পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ
মৌলভীবাজারে মনু নদীর ভাঙনের কারণে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত থেকে পানি বাড়তে থাকে। সকালের মধ্যেই পানি এসে বিভিন্ন ঘরে ঢুকে। ঘরের কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও এরচেয়ে বেশি। ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া হয়নি। বাড়ির আশপাশসহ পুরো গ্রামজুড়ে অথৈ পানি। পানি থাকায় রানা বান্না করা যায়নি। ঘরে যেটুকু শুকনো খাবার ছিলো তাও শেষ। সরকার বা ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ ত্রাণ নিয়ে আসেননি। সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে তবুও রাস্তা ঘাটে কোমর পানি। বাধ্য হয়ে পানি ভেঙে বাজারে যাচ্ছি শুকনো খাবার আনার জন্য। রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নের পঞ্চানন্দপুর গ্রামের প্রদিপ দাস এ কথা বলেন। শনিবার সরেজমিনে রাজনগর, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি কমতে শুরু করেছে তবে মানুষের দুর্ভোগ চরমে। দুইদিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও সরকারি বা বেসরকারি ভাবে ত্রাণ নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। যাদের ঘরে বেশি পানি তারা ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে। বন্যার্ত মানুষের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেউ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন আবার কেউ সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ বা পাশের বাড়ি থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে আসছেন। বন্য
মৌলভীবাজারে মনু নদীর ভাঙনের কারণে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত থেকে পানি বাড়তে থাকে। সকালের মধ্যেই পানি এসে বিভিন্ন ঘরে ঢুকে। ঘরের কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও এরচেয়ে বেশি। ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া হয়নি। বাড়ির আশপাশসহ পুরো গ্রামজুড়ে অথৈ পানি। পানি থাকায় রানা বান্না করা যায়নি। ঘরে যেটুকু শুকনো খাবার ছিলো তাও শেষ। সরকার বা ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ ত্রাণ নিয়ে আসেননি। সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে তবুও রাস্তা ঘাটে কোমর পানি। বাধ্য হয়ে পানি ভেঙে বাজারে যাচ্ছি শুকনো খাবার আনার জন্য। রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নের পঞ্চানন্দপুর গ্রামের প্রদিপ দাস এ কথা বলেন।
শনিবার সরেজমিনে রাজনগর, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি কমতে শুরু করেছে তবে মানুষের দুর্ভোগ চরমে। দুইদিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও সরকারি বা বেসরকারি ভাবে ত্রাণ নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। যাদের ঘরে বেশি পানি তারা ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে। বন্যার্ত মানুষের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেউ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন আবার কেউ সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ বা পাশের বাড়ি থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে আসছেন।
বন্যা কবলিত এলাকার মানুষেরা জানান, বন্যা পূর্বাভাস আগে দিলেও উপজেলা বা জেলা প্রশাসন কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেয়নি। জেলায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও মাত্র কিছুসংখ্যক পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। মূলত যাদের বাড়ি রাস্তার পাশে তাদেরকেই ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। যেসব জায়গায় গাড়ি যায়নি সেসব এলাকায় ত্রাণ দেওয়া হয়নি। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।
জানা যায়, টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে গত তিনদিন ধরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার ২৮ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সদর ও রাজনগর উপজেলায় ১৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। তবে সময় যত যাচ্ছে বন্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫ টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি, প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার ইরন মিয়া, আব্দুস শহীদ, রঞ্জিত দাস, দিলিপ দাসসহ কয়েকজন বলেন, ‘এত দ্রুত পানি আসবে তা ভাবতে পারিনি। আমাদের ঘর, উঠান ও রাস্তায় বুক সমান পানি ছিলো। আমরা না খেয়ে গতকাল রাত কাঠিয়েছি। খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে।’
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ‘মনু নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। একটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর পানি থাকলেও অন্যান্য জায়গায় তা নেমে এসেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আশা করি বিপদসীমার নিচে পানি নেমে যাবে।’
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। অবনতি হলে সেনাবাহিনীসহ সব ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে।’
মাহিদুল ইসলাম/কেজে/এএসএম
What's Your Reaction?