প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও জয়, ২৪ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ব্রাজিলের

২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অভাবনীয় এক জয় ছিনিয়ে এনেছে ব্রাজিল। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দীর্ঘ ২৪ বছরের এই খরা কাটিয়ে জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ১৬ বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আমেরিকার হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে সহ-আয়োজক কানাডার পর পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখল সেলেসাওরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা এবার মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ব্রাজিলকে চেপে ধরে ‘সামুরাই ব্লু’ খ্যাত জাপান। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর চমৎকার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে তারা। প্রথমার্ধে জাপানের রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে গোলমুখ খুলতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয় ব্রাজিলকে। তবে বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির চতুর কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেয়। ৫৬ মিনিটে অভিজ্

প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও জয়, ২৪ বছর পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ব্রাজিলের
২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অভাবনীয় এক জয় ছিনিয়ে এনেছে ব্রাজিল। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দীর্ঘ ২৪ বছরের এই খরা কাটিয়ে জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ১৬ বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আমেরিকার হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে সহ-আয়োজক কানাডার পর পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখল সেলেসাওরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা এবার মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ব্রাজিলকে চেপে ধরে ‘সামুরাই ব্লু’ খ্যাত জাপান। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর চমৎকার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে তারা। প্রথমার্ধে জাপানের রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে গোলমুখ খুলতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয় ব্রাজিলকে। তবে বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির চতুর কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেয়। ৫৬ মিনিটে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা। সমতায় ফেরার পর ম্যাচটি বেশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে (৯০+৬ মিনিটে) গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির এক অসাধারণ জাদুকরি গোল পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয় এবং জাপানি খেলোয়াড়দের অশ্রুসিক্ত বিদায় নিশ্চিত করে।  সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড ক্রিস সাটন এই জয়কে কোচ ‘আনচেলত্তির ক্ষুরধার মস্তিষ্কের ফসল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকেও এই ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য দীর্ঘ ২৪ বছর পর এক অনন্য মাইলফলক তৈরি করেছে। ২০০২ সালের ৩ জুন কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতল সেলেসাওরা। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানরা রেকর্ড ৬৮২টি পাস সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস একাই করেছেন ১৩৫টি পাস—যা চলতি বিশ্বকাপে যেকোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ।  এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের বিপক্ষে এই কঠিন পরীক্ষা পার করে হেক্সা মিশনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আনচেলত্তির দল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow