প্রথম দিনই আমরা হেরে গেছি: প্যাট কামিন্স
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হারের পর নিজেদের ব্যর্থতার দায় এড়াননি অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাচের ফল কোথায় নির্ধারিত হয়ে গেছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি প্রথম দিনের কথাই বলেছেন। তার মতে, শুরুতেই বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে না পারার পর পুরো ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে কখন হেরে গেছে অস্ট্রেলিয়া? এমন প্রশ্নের জবাবে কামিন্স বলেন, ‘সম্ভবত প্রথম দিনেই। আমি মনে করি, আমাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাকই ছিল। কোনো অজুহাত নেই। বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। আমাদের আরও দীর্ঘ সময় ব্যাট করার উপায় খুঁজে বের করতে হতো। এরপর বল হাতেও আমরা যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারিনি।’ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতাই এই হারের অন্যতম বড় কারণ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের সামনে মাত্র ১৯৭ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। পরে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান তুলে ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। সেই লিড আর পেরোতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। কামিন্সের মতে, এমন ম্যাচের পর ব্যাটিং অর্ডার ও খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী ম্যাচ-আপ নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে। ‘এ ধরনের প্রতিটি ম্যাচের পরই আপনি ম্যাচ-আপ নি
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হারের পর নিজেদের ব্যর্থতার দায় এড়াননি অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাচের ফল কোথায় নির্ধারিত হয়ে গেছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি প্রথম দিনের কথাই বলেছেন। তার মতে, শুরুতেই বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে না পারার পর পুরো ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচে কখন হেরে গেছে অস্ট্রেলিয়া? এমন প্রশ্নের জবাবে কামিন্স বলেন, ‘সম্ভবত প্রথম দিনেই। আমি মনে করি, আমাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাকই ছিল। কোনো অজুহাত নেই। বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। আমাদের আরও দীর্ঘ সময় ব্যাট করার উপায় খুঁজে বের করতে হতো। এরপর বল হাতেও আমরা যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারিনি।’
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতাই এই হারের অন্যতম বড় কারণ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের সামনে মাত্র ১৯৭ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। পরে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান তুলে ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। সেই লিড আর পেরোতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
কামিন্সের মতে, এমন ম্যাচের পর ব্যাটিং অর্ডার ও খেলোয়াড়দের সামর্থ্য অনুযায়ী ম্যাচ-আপ নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে। ‘এ ধরনের প্রতিটি ম্যাচের পরই আপনি ম্যাচ-আপ নিয়ে ভাবেন। আমরা মাত্রই ম্যাচ শেষ করেছি। তাই এখন এসব নিয়ে চিন্তা করব,’ বলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।
বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেছেন কামিন্স। তাঁর চোখে, ম্যাচের প্রতিটি বিভাগেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো ছিল।
‘বাংলাদেশ আমাদের সব বিভাগেই হারিয়ে দিয়েছে। তারা ধৈর্যশীল ছিল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল,’ বলেন তিনি।
বিশেষ করে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা যেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, সেটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের সম্মিলিত আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংসেই চাপ তৈরি হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং ইউনিটও বাংলাদেশকে যথেষ্ট চাপে ফেলতে পারেনি। জশ হ্যাজলউড অবশ্য দুই ইনিংসেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন এবং ম্যাচে নিজের ৩০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন। কিন্তু দলের হার ঠেকাতে পারেননি এই অভিজ্ঞ পেসার।
হ্যাজলউডের সাম্প্রতিক চোট-সংক্রান্ত সমস্যার কথাও উল্লেখ করেছেন কামিন্স, ‘জশ চোটের কারণে খুব ভালো একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে পারেনি। তবে সে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করা ক্রিকেটারদের একজন,’ বলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।
ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়েছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। বাংলাদেশের দেওয়া বড় লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসে গ্রিন লড়াই চালিয়ে গেলেও দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি।
গ্রিনের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে কামিন্স বলেন, তার ব্যাটিংয়ের গতি ও মানই দেখিয়েছে তিনি কতটা ভালো ক্রিকেটার। তবে একপ্রান্তে গ্রিনকে সঙ্গ দেওয়ার মতো আরও কয়েকজনের প্রয়োজন ছিল। ‘গ্রিনের ব্যাটিংয়ের গতি দেখিয়েছে সে কতটা ভালো। তার সঙ্গে আমাদের আরও কয়েকজনকে টিকে থাকতে হতো,’ বলেন কামিন্স।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এই হার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্যকে তিনি দলের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেন। ‘আমরা ঘুরে দাঁড়াতে বেশ ভালো,’ বলেন তিনি।
তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই হার থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট। প্রথম দিনের ব্যর্থতা, দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে না পারা এবং বল হাতে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে না পারা- সব মিলিয়েই ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার হাতছাড়া হয়েছে বলে মনে করছেন অধিনায়ক।
বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি টেস্ট জয় নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ। আর কামিন্সের স্বীকারোক্তি সেই জয়ের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে- কারণ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের ভাষ্যেই, বাংলাদেশ তাদের সব বিভাগেই ছাপিয়ে গেছে।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?