প্রধানমন্ত্রীর হাতে নজরুলের প্রতিকৃতি তুলে দিয়ে আলোচনায় সাবা

কথা বলতে পারে না। কানেও শোনে না। কিন্তু তার রংতুলির আঁচড়ে যেন কথা বলে ওঠে ক্যানভাস। যে বয়সে অনেক শিশু নিজের অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে ফেরে, সেই বয়সেই ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী সাবা ইসলাম বর্ণ নিজের শিল্পকর্ম দিয়ে মুগ্ধ করছে মানুষকে। সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ত্রিশালে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে সাবার আঁকা নজরুলের প্রতিকৃতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হলে নতুন করে আলোচনায় আসে তার নাম। মুহূর্তটি শুধু সাবার পরিবারের জন্য নয়, পুরো মুক্তাগাছাবাসীর জন্য ছিল গর্বের। মুক্তাগাছা পৌর শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের কাঠগড়া গ্রামের টিনশেডের ছোট্ট একটি ঘরেই গড়ে উঠেছে সাবার স্বপ্নের জগৎ। দেওয়ালে টাঙানো অসংখ্য চিত্রকর্ম, শোকেসভর্তি ক্রেস্ট, মেডেল আর সনদ যেন নীরবে বলে দেয় সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প। সাবার বাবা শফিউল আলম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা মুসলিমা খাতুন গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে বড় সাবা। জন্মের কিছুদিন পরই পরিবার বুঝতে পারে, মেয়েটি কথা বলতে পারে না, শুনতেও পায় না। সেই মুহূর্ত পরিবারের জন্য ছিল অসহনীয় কষ্

প্রধানমন্ত্রীর হাতে নজরুলের প্রতিকৃতি তুলে দিয়ে আলোচনায় সাবা

কথা বলতে পারে না। কানেও শোনে না। কিন্তু তার রংতুলির আঁচড়ে যেন কথা বলে ওঠে ক্যানভাস। যে বয়সে অনেক শিশু নিজের অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে ফেরে, সেই বয়সেই ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী সাবা ইসলাম বর্ণ নিজের শিল্পকর্ম দিয়ে মুগ্ধ করছে মানুষকে।

সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ত্রিশালে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে সাবার আঁকা নজরুলের প্রতিকৃতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়া হলে নতুন করে আলোচনায় আসে তার নাম। মুহূর্তটি শুধু সাবার পরিবারের জন্য নয়, পুরো মুক্তাগাছাবাসীর জন্য ছিল গর্বের।

মুক্তাগাছা পৌর শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের কাঠগড়া গ্রামের টিনশেডের ছোট্ট একটি ঘরেই গড়ে উঠেছে সাবার স্বপ্নের জগৎ। দেওয়ালে টাঙানো অসংখ্য চিত্রকর্ম, শোকেসভর্তি ক্রেস্ট, মেডেল আর সনদ যেন নীরবে বলে দেয় সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প।

সাবার বাবা শফিউল আলম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা মুসলিমা খাতুন গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে বড় সাবা। জন্মের কিছুদিন পরই পরিবার বুঝতে পারে, মেয়েটি কথা বলতে পারে না, শুনতেও পায় না। সেই মুহূর্ত পরিবারের জন্য ছিল অসহনীয় কষ্টের।

মা মুসলিমা খাতুন বলেন, ‌‘প্রথমে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। পরে দেখি ও মাটিতে, দেওয়ালে, খাতায় নানা কিছু আঁকে। তখন বুঝতে পারি ওর ভেতরে আলাদা একটা প্রতিভা আছে। এরপর আঁকার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করি।’

ছোটবেলা থেকেই রংতুলির প্রতি অদ্ভূত টান ছিল সাবার। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তাকে ভর্তি করানো হয় শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমিতে। ধীরে ধীরে জলরং, তেলরং, পেন্সিল স্কেচ, পেস্টিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দক্ষ হয়ে ওঠে সে।

সাবার আঁকা ছবির মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, মানুষের মুখাবয়ব ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। জাতীয় কবি নজরুল, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনচিত্রও উঠে আসে তার তুলিতে।

তার একটি বিশেষ কীর্তি হলো শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের প্রতিকৃতি, যেখানে দুর্ভিক্ষের চিত্রমালার ছাপও ফুটিয়ে তুলেছে সে। এছাড়া ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ জনপদ, নদী-নৌকা কিংবা শিশুদের জীবনভিত্তিক অসংখ্য ছবি এঁকে এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জন করেছে সাবা।

পরিবার জানায়, এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০টির বেশি ক্রেস্ট, দুই শতাধিক সনদ ও শত শত বই পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে সাবা। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নানা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রতিবারই কোনো না কোনো স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

সাবার বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘চিকিৎসক বলেছিলেন উন্নত চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা লাগবে। আমাদের পক্ষে সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু মেয়ের প্রতিভা দেখে আমরা হাল ছাড়িনি। আজ ও দেশের মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছে, এটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

সাবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক বছির উদ্দিন বলেন, ‘সাবা অসাধারণ মেধাবী। সে কোনো কিছু একবার দেখলেই হুবহু আঁকতে পারে। তার মধ্যে আলাদা সৃষ্টিশীলতা আছে। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন সে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি পাবে।’

বাড়ির আঙিনায় বসে নাতনির সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দাদি আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘একসময় মনে হতো নাতনির ভবিষ্যৎ কী হবে। এখন মানুষ ওকে দেখতে আসে, ওর ছবি দেখে প্রশংসা করে; তখন খুব গর্ব হয়।’

হোসাইন সুলভ/এসআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow