প্রলোভন দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র

উপবৃত্তির টাকা বেশি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে একটি প্রতারক চক্র। কলেজ ও সমাজসেবা অফিসের পরিচয় দিয়ে মোবাইলে কল করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওটিপি সংগ্রহের চেষ্টা করছে চক্রটি। ইতোমধ্যে এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, সচেতনতার কারণে আরেক শিক্ষার্থী প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, বুধবার উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা বলে গাংনী উপজেলা সমাজসেবা অফিসের পরিচয়ে একটি নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা প্রথমে জানতে চান শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা জমা হয়েছে কি না এবং কত টাকা এসেছে। পরে আরও টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোবাইলে পাঠানো একটি ওটিপি নম্বর জানতে চান। সরল বিশ্বাসে ওটিপি জানানোর কিছুক্ষণ পর অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখা যায়, উপবৃত্তির জমাকৃত পুরো টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আরেক শিক্ষার্থীর ভাই জানান, প্রতারকরা গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীর নাম, বাবার নাম ও রোল নম্বর উল্লেখ করে ফোন করেন। তারা দাবি করেন, পূর্বে উত্তোলন ক

প্রলোভন দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র

উপবৃত্তির টাকা বেশি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে একটি প্রতারক চক্র। কলেজ ও সমাজসেবা অফিসের পরিচয় দিয়ে মোবাইলে কল করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওটিপি সংগ্রহের চেষ্টা করছে চক্রটি। ইতোমধ্যে এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে, সচেতনতার কারণে আরেক শিক্ষার্থী প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, বুধবার উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা বলে গাংনী উপজেলা সমাজসেবা অফিসের পরিচয়ে একটি নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা প্রথমে জানতে চান শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা জমা হয়েছে কি না এবং কত টাকা এসেছে। পরে আরও টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোবাইলে পাঠানো একটি ওটিপি নম্বর জানতে চান। সরল বিশ্বাসে ওটিপি জানানোর কিছুক্ষণ পর অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখা যায়, উপবৃত্তির জমাকৃত পুরো টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আরেক শিক্ষার্থীর ভাই জানান, প্রতারকরা গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীর নাম, বাবার নাম ও রোল নম্বর উল্লেখ করে ফোন করেন। তারা দাবি করেন, পূর্বে উত্তোলন করা উপবৃত্তির টাকা পুনরায় অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে, তাহলেই অতিরিক্ত উপবৃত্তির টাকা পাঠানো হবে। এজন্য মোবাইলে পাঠানো একটি ওটিপি নম্বরও জানতে চান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি কোনো ওটিপি না দিয়ে তাৎক্ষণিক কলেজ অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে এটি প্রতারণার চেষ্টা বলে নিশ্চিত হওয়ায় তিনি সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান।

এ বিষয়ে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম বলেন, উপবৃত্তি সংক্রান্ত কোনো ওটিপি, পিন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে ফোন করা হয়নি। একটি প্রতারণা চক্র কলেজের পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। উপবৃত্তি বা সরকারি যেকোনো আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে সরাসরি কলেজ অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত ব্যক্তির কাছে ওটিপি, পিন নম্বর বা ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা যাবে না।

গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরশাদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রতারণা চক্র উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে কল করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার প্রচারণা চালিয়েছি। তারপরও চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ওটিপি বা ব্যাংক-সংক্রান্ত গোপন তথ্য অপরিচিত কাউকে জানানো যাবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow