প্রাইম এশিয়ার ছাত্রদল নেতা পারভেজ হত্যা: দুই ছাত্রীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
রাজধানীর বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই ছাত্রীসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম মঈন উদ্দিন এ চার্জশিট দাখিল করেন। রোববার (৩১ মে) আদালতে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা তাহসিন ঐশী, ফারিয়া হক টিনা, মেহেরাজ ইসলাম, আবু জহর গিফফারি ওরফে পিয়াস, মো. মাহাথির হাসান, মো. আল কামাল শেখ ওরফে কামাল, আলভী হোসেন জুনায়েদ, আল আমিন সানি ও রাকিব। আসামিদের মধ্যে পিয়াস, ঐশী ও রাকিব পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বনানী থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সোবহান নিয়াজ তুষারসহ আটজনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি সাতজন হলেন- মারুফ মিয়াজি হৃদয়, রিফাত, আলী, ফাহিম, সাকিব, নাসিম ও নিবির। তদন্তে উঠে এসেছে, ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অফিসে
রাজধানীর বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই ছাত্রীসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত আসামি করা হয়েছে।
সম্প্রতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম মঈন উদ্দিন এ চার্জশিট দাখিল করেন। রোববার (৩১ মে) আদালতে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা তাহসিন ঐশী, ফারিয়া হক টিনা, মেহেরাজ ইসলাম, আবু জহর গিফফারি ওরফে পিয়াস, মো. মাহাথির হাসান, মো. আল কামাল শেখ ওরফে কামাল, আলভী হোসেন জুনায়েদ, আল আমিন সানি ও রাকিব। আসামিদের মধ্যে পিয়াস, ঐশী ও রাকিব পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বনানী থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সোবহান নিয়াজ তুষারসহ আটজনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি সাতজন হলেন- মারুফ মিয়াজি হৃদয়, রিফাত, আলী, ফাহিম, সাকিব, নাসিম ও নিবির।
তদন্তে উঠে এসেছে, ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অফিসে মীমাংসার পর ‘ক্ষমা’ চেয়েছিলেন পারভেজ। তবে দুই ছাত্রীর ঐশী ও টিনার প্ররোচনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন পারভেজ। ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল পারভেজের ফুফাতো ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার চার্জশিট থেকে জানা যায়, নিহত জাহিদুল ইসলাম পারভেজ প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়তেন। গত বছরের ১৯ এপ্রিল তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডটার্ম পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষা শেষে বিকেল ৩টার দিকে পারভেজ তার বন্ধু তরিকুল ও ইমতিয়াজসহ আরও অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীত দিকে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন এবং হাসাহাসি করছিলেন।
ওই সময় তাদের পেছনে একই ইউনিভার্সিটির ছাত্র আবু জহর গিফফারি পিয়াস, তার বান্ধবী ফাতেমা তাহসিন ঐশী এবং ফারিয়া হক টিনা দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। পিয়াসের দুই বান্ধবী ভেবেছিল পারভেজরা তাদের নিয়ে হাসাহাসি করছেন। তখন পিয়াস হাসাহাসির কারণ সম্পর্কে পারভেজের কাছে জানতে চান। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। আসামি পিয়াস ফোনে আসামি মেহেরাজকে কল করে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে মেহেরাজ ও তার সঙ্গে থাকা মাহাথির মিলে বাকি আসামিদের ডেকে এনে একত্র হয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং পারভেজকে মারধর করতে উদ্যত হন।
পারভেজের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষিকা সুষমা সাহা স্বাতী গণ্ডগোল দেখতে পেয়ে দ্রুত নিচে আসেন। পিয়াস, মেহেরাজ, মাহাথির, ঐশী, টিনা এবং পারভেজ ও তরিকুলকে প্রক্টর রুমে নিয়ে যান। সহকারী প্রক্টর হাসেমসহ আরও অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উভয়পক্ষের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়ম দুই পক্ষ একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
এ সময় ঐশী ও টিনাকে নিজের বোন বলে সম্বোধন করে পারভেজ বললেন, ‘যদিও আমি কিছু করিনি, তবুও যদি ভুল মনে করে থাকো, আমাকে ক্ষমা করে দিও।’ ঘটনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। মীমাংসার পর ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ইউনিভার্সিটির বাইরে পারভেজের বন্ধু তরিকুল ইসলামকে দেখতে পেয়ে আসামি নাসিম কাঠের বাটাম দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেন। আসামি মেহেরাজ, ফাহিমসহ অন্যরাও তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিলঘুষি মারেন।
একপর্যায়ে তারা পারভেজকে দেখতে পেয়ে তার ওপর চড়াও হন। পারভেজ নিজের প্রাণ রক্ষায় দৌড় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটের সামনে আসলে আসামি সাকিব ফুলের টব দিয়ে তাকে আঘাত করেন। তাদের মারধরে পারভেজ পড়ে যান। তিনি আবার উঠে দাঁড়ানো মাত্রই আসামি রাকিব চাকু দিয়ে পারভেজের বুকের বাম পাশে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন।
এই অবস্থায় পারভেজ ইউনিভার্সিটির গেটের ভেতর ঢুকে পড়ে। আহত অবস্থায় পারভেজকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
What's Your Reaction?