দেশের অভিনয় জগতের দুই অনন্য প্রতিভাবান অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিম। ছোট পর্দায় তাদের একসঙ্গে দেখা মানেই দর্শকের জন্য অভিনয়ের এক অনন্য উৎসব। তবে বড় পর্দায় এই জনপ্রিয় জুটির উপস্থিতি যেন দীর্ঘদিন ধরেই ছিল অধরা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। প্রায় ১২ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও একসঙ্গে বড় পর্দায় ফিরছেন এই দুই শক্তিমান অভিনেতা। নির্মাতা তানিম নূর-এর নতুন সিনেমা বনলতা এক্সপ্রেস-এ তাদের যুগল উপস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মাঝে তৈরি হয়েছে তুমুল কৌতূহল ও উত্তেজনা। প্রিয় দুই তারকাকে আবার একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখার আশায় দিন গুনছেন ভক্তরা।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় এক যুগ পর আমরা চলচ্চিত্রের পর্দায় একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছি। সর্বশেষ কাজ করেছিলাম মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ সিনেমায়। তারপর আর এক যুগের মতো আমাদের বড় পর্দায় কাজ হয়নি। তাই আমার মধ্যে এক ধরনের এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল।’
চঞ্চল চৌধুরী এই বড় চমকের পেছনের কারিগর হিসেবে পরিচালক তানিম নূরকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘তানিম নূর আমাদের দুজনকে হাজির করেছেন। অবশ্যই এটার জন্য আমি তানিমকে অনেক বড় একটা ধন্যবাদ জানাই।’
সিনেমাটির মূল ভিত্তি কিংবদন্তি কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের গল্প। চঞ্চলের কথাং, ‘হুমায়ূন স্যার, উনার গল্পের ও লেখার মধ্যে জাদু আছে এটা আমরা সবাই জানি ও বিশ্বাস করি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হলো উনার কোনো বই পড়তে গেলে এক লাইন পড়লে পরের লাইন পড়তে ইচ্ছে করে।
‘প্রত্যেক মোমেন্টে চুম্বকের মতো টান অনুভব করা যায়। সেই গল্প থেকে যখন তানিম নূর সিনেমা বানান, তখন বড় ধরণের কিছু একটা ঘটতে চলেছে বলেই আমি আশা করছি।’
সিনেমায় শুধু মোশাররফ-চঞ্চল নন, একঝাঁক তারকা শিল্পীর সমাগম ঘটেছে। বাঁধন, মম, শরীফুল রাজ, শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর ও ইন্তেখাব দীনারের মতো বলিষ্ঠ অভিনয়শিল্পীদের উপস্থিতিকেই এই সিনেমার ‘সবচাইতে বড় চমক’ হিসেবে দেখছেন চঞ্চল চৌধুরী। তার মতে, নিজের জায়গায় প্রত্যেকেই অত্যন্ত শক্তিশালী অভিনেতা, যাদের একই পর্দায় দেখা যাওয়াটা দর্শকদের জন্য বিশেষ উপহার হতে যাচ্ছে।