প্রিয় মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার দোয়া
আল্লাহর কাছে চাইতে হয় দোয়ার মাধ্যমে। নতচিত্তে। অবনত মস্তকে। রব্বেকা’বা ইরশাদ করেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে (সুরা বাকারা: ১৮৬)। হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, দোয়া সব ইবাদতের মূল। দোয়ার প্রসঙ্গ সামনে আসতেই অনেকে জানতে চান, ‘কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে যদি একে অন্যকে পছন্দ করে কিংবা ভালো লাগে; তবে ওই ছেলেমেয়ে পরস্পর কোনো ধরনের সম্পর্কে জড়ানো ছাড়া একে অপরকে বিয়ে করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তাদের এ দোয়া করা কি বৈধ হবে? এ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?’ এ প্রসঙ্গে কালবেলার পাঠকদের জন্য শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ। তিনি বলেন, ‘কাউকে জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গীনী হিসেবে পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে (শর্ত আছে); যদি সংশ্লিষ্ট ছেলে-মেয়ের সঙ্গে কোনো অবৈধ বা ইসলামবিরোধী কোনো সর্ম্পক জড়িত না থাকে।’ ‘‘কারণ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘বান্দার দোয়া সব সময় গ্রহণ করা হয়; যদি না সে দোয়ায় কোনো অন্যায় কাজ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার কথা না থাকে এবং (দোয়ায়) তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) (দোয়ায়) তাড়াহুড়া করা কী?
আল্লাহর কাছে চাইতে হয় দোয়ার মাধ্যমে। নতচিত্তে। অবনত মস্তকে। রব্বেকা’বা ইরশাদ করেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে (সুরা বাকারা: ১৮৬)। হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, দোয়া সব ইবাদতের মূল।
দোয়ার প্রসঙ্গ সামনে আসতেই অনেকে জানতে চান, ‘কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে যদি একে অন্যকে পছন্দ করে কিংবা ভালো লাগে; তবে ওই ছেলেমেয়ে পরস্পর কোনো ধরনের সম্পর্কে জড়ানো ছাড়া একে অপরকে বিয়ে করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তাদের এ দোয়া করা কি বৈধ হবে? এ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?’
এ প্রসঙ্গে কালবেলার পাঠকদের জন্য শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ।
তিনি বলেন, ‘কাউকে জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গীনী হিসেবে পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে (শর্ত আছে); যদি সংশ্লিষ্ট ছেলে-মেয়ের সঙ্গে কোনো অবৈধ বা ইসলামবিরোধী কোনো সর্ম্পক জড়িত না থাকে।’
‘‘কারণ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘বান্দার দোয়া সব সময় গ্রহণ করা হয়; যদি না সে দোয়ায় কোনো অন্যায় কাজ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার কথা না থাকে এবং (দোয়ায়) তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) (দোয়ায়) তাড়াহুড়া করা কী? তিনি বললেন, সে বলতে থাকে, আমি তো দোয়া করেছি, আমি তো দোয়া করেছি; কিন্তু আমি দেখতে পেলাম না যে, তিনি আমার দোয়া কবুল করেছেন। তখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর দোয়া করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে।’’ (মুসলিম : ৬৮২৯)
ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, উল্লিখিত হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩টি ক্ষেত্রে দোয়া করা যাবে না।
সেগুলো হলো
- যে কাজে গোনাহ হবে, এমন কোনো কাজের উদ্দেশ্যে দোয়া করা যাবে না।
- আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে দোয়া করা যাবে না।
- দোয়া করে তার ফলাফল পেতে তাড়াহুড়া করা যাবে না।
তরুণ এই মুফতি জানান, হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এ তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া যে কোনো বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য লাভে দোয়া করা যেতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই। অতএব কাউকে জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গীনী হিসেবে পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে। তবে ইসলামি শরিয়ত একজন মুসলিমকে আল্লাহর কাছে দোয়া করার ক্ষেত্রে একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে দোয়া করার পরামর্শ দেয়। আবার কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে ইসতেখারা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
শর্ত জুড়ে দিয়ে দোয়া করা
কেউ সুনির্দিষ্ট বা কাঙ্ক্ষিত কাউকে বিয়ে করতে চায় বা বিয়ের ব্যবস্থাপনা সহজ হতে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে ইসলামি শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের আলোকে একটি শর্ত উল্লেখ করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত। তা হলো, ‘হে আল্লাহ! তাকে (এখানে আপনার প্রিয় মানুষের নাম হবে) জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গীনী হিসেবে পাওয়া যদি সার্বিক দিক থেকে আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তবে আপনি সেটি আমার জন্য সহজ করে দিন।’
ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার এক আলোচনায় বলেন বলেন, এভাবে দোয়া করা প্রত্যেকের জন্য কল্যাণকর, ভালো এবং উপকারি। কেননা কোরআনুল কারিমে শর্ত জুড়ে দিয়ে এভাবে দোয়া করার বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তা তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা বাকারা: ২১৬)
যারা আরবিতে দোয়াটি করতে চান, তাদের জন্য আরবি উচ্চারণ এবং অর্থ তুলে ধরা হলো:
পুরুষের জন্য (যখন কোনো নারীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে চাইবেন)
আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন কানাত জায়নাবু (জয়নব নামটি রূপক, এখানে আপনার প্রিয় মানুষের নাম হবে) যাওজাতান লী খাইরান ফী দ্বীনী ওয়া দুনইয়াইয়া ওয়া আকিবাতি আমরী, ফাইয়াসসিরহা লী।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! জয়নবকে (জয়নব নামটি রূপক, এখানে আপনার প্রিয় মানুষের নাম হবে) জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়া যদি আমার দ্বীন, দুনিয়া এবং আমার পরিণতির দিক থেকে কল্যাণকর হয়, তবে আপনি তাকে আমার জন্য সহজ করে দিন।
নারীর জন্য (যখন কোনো পুরুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চাইবেন)
আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন কানা যায়দুন যাওজান লী খাইরান ফী দ্বীনী ওয়া দুনইয়াইয়া ওয়া আকিবাতি আমরী, ফাইয়াসসিরহু লী।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! জয়েদকে (জয়েদ নামটি রূপক, এখানে আপনার প্রিয় মানুষের নাম হবে) জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া যদি আমার দ্বীন, দুনিয়া এবং আমার পরিণতির দিক থেকে কল্যাণকর হয়, তবে আপনি তাকে আমার জন্য সহজ করে দিন।
উল্লেখ্য, দোয়াটির আরবি সরাসরি কোনো হাদিসের গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়নি। আমরা পাঠকের সুবিধার জন্য আরবি উচ্চারণ তুলে ধরেছি। আপনি চাইলে আপনার মাতৃভাষাতেও দোয়াটি করতে পারেন।
What's Your Reaction?