ফরিদপুরে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা, চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল পুলিশ

ফরিদপুরের সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই আসামি আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটিও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে বিয়ে না করানো এবং দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার ভোরের দিকে জেলা পুলিশ ও র‍্যাব-১০-এর যৌথ বাহিনীর অভিযানে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা লুকিয়ে ছিলেন। আমরা তাকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালসহ গ্রেপ্তার করি। কোদালটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবার তাকে বিয়ে না করানো এবং দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আকাশ মোল্লা। তবে তার মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে এর বাইরে সে বিভ

ফরিদপুরে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা, চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল পুলিশ

ফরিদপুরের সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যেই আসামি আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটিও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে বিয়ে না করানো এবং দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার ভোরের দিকে জেলা পুলিশ ও র‍্যাব-১০-এর যৌথ বাহিনীর অভিযানে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা লুকিয়ে ছিলেন। আমরা তাকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালসহ গ্রেপ্তার করি। কোদালটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবার তাকে বিয়ে না করানো এবং দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আকাশ মোল্লা। তবে তার মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে এর বাইরে সে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, কিছুদিন ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল।

নজরুল ইসলাম বলেন, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত কাবুল হোসেন (৪৯) বাড়িতে ফিরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চা পান করতে বের হন। পথে রিয়াজুল মোল্লার সঙ্গে দেখা হলে তারা একসঙ্গে খুশির বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তারা গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে তারা দেখতে পান, আকাশ মোল্লা তার দাদি আমিনা বেগম (৮০) ও ফুফু রাহেলা বেগম (৫৫)-কে কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করছে।

তিনি বলেন, এ সময় কাবুল হোসেন চিৎকার করলে আসামি তার ওপরও হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই কাবুল হোসেন, আমিনা বেগম ও রাহেলা বেগম মারা যান। হামলায় রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এসপি বলেন, নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, র‍্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow