ফর্সা হওয়ার নেশায় নষ্ট হচ্ছে ত্বক

দৈনন্দিন জীবনে আমরা নিজেদের ত্বক সুন্দর রাখতে নানা ধরনের রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করে থাকি। বর্তমান সময়ে হোয়াইটেনিং ক্রিম বা রং ফর্সাকারী ক্রিমের চাহিদা আকাশচুম্বি, বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে। আমরা হয়তো জানিই না এই ক্রিম কিভাবে আমাদের ক্ষতি করে। চলুন জেনে নেই আমরা যেসব হোয়াইটেনিং ক্রিম ব্যবহার করি সেগুলো আসলে কিভাবে কাজ করে এবং কি ধরনের ক্ষতি করতে পারে। বাজারে প্রচলিত যেসব রং ফর্সাকারী ক্রিম রয়েছে সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি উপাদান রয়েছে যেগুলো খুবই কমন যেমন হাইড্রোকুইনোন, আরবিউটিন, ডিঅক্সিআরবিউটিন, মিথাইল প্যারাবেন, প্রোপাইল প্যারাবেন, বিউটাইল প্যারাবেন, কোজিক এসিড, অ্যাজেলেয়িক এসিড, গ্লাবরিডিন, জিংক অক্সাইড, নিয়াসিনামাইড ও এসকরবিক এসিড ইত্যাদি। হোয়াইটেনিং ক্রিমে উপস্থিত এসব সক্রিয় যৌগ একটি নির্দিষ্ট পাথওয়ে অবলম্বন করে কাজ করে। বিশেষ করে টাইরোসিনেজ নামক এনজাইমের কার্যকলাপ বন্ধ করে দিয়ে মেলানিন উৎপাদনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে ফলে মানব শরীরে যে বায়োকেমিক্যাল বিক্রিয়ার মাধ্যমে টাইরোসিন থেকে মেলানিন উৎপন্ন হয় সেটি অসম্পূর্ণ থেকে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু মেলানিনের উৎপাদন

ফর্সা হওয়ার নেশায় নষ্ট হচ্ছে ত্বক

দৈনন্দিন জীবনে আমরা নিজেদের ত্বক সুন্দর রাখতে নানা ধরনের রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করে থাকি। বর্তমান সময়ে হোয়াইটেনিং ক্রিম বা রং ফর্সাকারী ক্রিমের চাহিদা আকাশচুম্বি, বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে। আমরা হয়তো জানিই না এই ক্রিম কিভাবে আমাদের ক্ষতি করে। চলুন জেনে নেই আমরা যেসব হোয়াইটেনিং ক্রিম ব্যবহার করি সেগুলো আসলে কিভাবে কাজ করে এবং কি ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

বাজারে প্রচলিত যেসব রং ফর্সাকারী ক্রিম রয়েছে সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি উপাদান রয়েছে যেগুলো খুবই কমন যেমন হাইড্রোকুইনোন, আরবিউটিন, ডিঅক্সিআরবিউটিন, মিথাইল প্যারাবেন, প্রোপাইল প্যারাবেন, বিউটাইল প্যারাবেন, কোজিক এসিড, অ্যাজেলেয়িক এসিড, গ্লাবরিডিন, জিংক অক্সাইড, নিয়াসিনামাইড ও এসকরবিক এসিড ইত্যাদি।

হোয়াইটেনিং ক্রিমে উপস্থিত এসব সক্রিয় যৌগ একটি নির্দিষ্ট পাথওয়ে অবলম্বন করে কাজ করে। বিশেষ করে টাইরোসিনেজ নামক এনজাইমের কার্যকলাপ বন্ধ করে দিয়ে মেলানিন উৎপাদনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে ফলে মানব শরীরে যে বায়োকেমিক্যাল বিক্রিয়ার মাধ্যমে টাইরোসিন থেকে মেলানিন উৎপন্ন হয় সেটি অসম্পূর্ণ থেকে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়।

যেহেতু মেলানিনের উৎপাদন কমে যায় তাই স্বভাবতই ত্বকের রং কিছুটা উজ্জ্বল হয়ে যায় এবং এটি সাময়িক সময়ের জন্য। আমরা জানি যে শরীরে মেলানিন উৎপাদনের প্রক্রিয়া একটি স্বাভাবিক বায়োকেমিক্যাল বিক্রিয়া কিন্তু আমরা হোয়াইটনিং ক্রিম ব্যবহারের ফলে স্বাভাবিক এই বিক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয় যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক

ত্বক

হোয়াইটনিং ক্রিম ব্যবহারের ফলে আমাদের ত্বক, চুল ও চোখে হাইপো পিগমেন্টেশন অথবা ডিপিগমেন্টেশন হয় যা আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক রঙ ও বৈশিষ্ট্য বিনষ্ট করে। আমাদের ত্বকে উপস্থিত মেলানিন সূর্যের ইউভি রশ্মি থেকে ত্বককে বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু হোয়াইটনিং ক্রিম ব্যবহারের ফলে যেহেতু মেলানিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায় তাই আমাদের ত্বকের ইউভি সুরক্ষা দেয়াল নষ্ট হয়ে যায়।

ফলে সানবার্ন, ফটো ড্যামেজ অথবা ফটো এজিং এর মত ঘটনা ঘটে থাকে এবং মেলানিনের অনুপস্থিতি কেরাটিনোসাইটস এ ডিএনএ মিউটেশনের ঝুঁকি বাড়ায়। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো মেলানিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ফটোপ্রটেকশন কমে যাওয়ার ফলে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুন: 

চোখ

মেলানিন উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে ফোটোফোবিয়া, গ্লেয়ার সেনসিটিভিটি, রিডিউসড ভিজ্যুয়াল অ্যাক্টিভিটি’র মত সমস্যা তৈরি হতে পারে। এছাড়া ইউভি রশ্মিতে রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্নায়ুতন্ত্র

টাইরোসিনেজ এনজাইম এর ক্রিয়াকলাপ কমে যাওয়ার ফলে বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে শরীরে নিউরোমেলানিনের উৎপাদন কমে যায় ফলে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও পারকিনসন ডিজিজ এর ঝুঁকি বেড়ে যায় কারণ নিউরো মেলানিন মূলত বিভিন্ন ভারী ধাতু যেমন আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এগুলোর চিলেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

মেলানিন আমাদের শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ফলে উৎপাদিত ফ্রি রেডিক্যাল (বিশেষ করে রিএক্টিভ অক্সিজেন স্পেসিস) সমূহকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। যেহেতু হোয়াইটেনিং ক্রিম ব্যবহারের ফলে মেলানিনের উৎপাদন কমে যায় তাই শরীরে ইনফ্লামেশন ও বুড়িয়ে যাওয়ার হার বেড়ে যায়।

এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ড

টাইরোসিন থাইরয়েড হরমোন তৈরির প্রি-কারসর হিসেবে কাজ করে। হোয়াইটনিং ক্রিম ব্যবহারের ফলে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া সব ধরনের হোয়াইটেনিং ক্রিমেই আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এমনকি এসব ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত ভারী ধাতু পর্যন্ত পাওয়া গেছে এটিও আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সুতরাং এটি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে হোয়াইটেনিং ক্রিম আমাদের ত্বকে কি পরিমাণ খারাপ প্রভাব তৈরি করতে পারে। তাই এগুলো ব্যবহারে সচেতনতা অবশ্যই কাম্য।

লেখক
মো. বিল্লাল হোসেন
প্রভাষক, খাদ্য প্রকৌশল ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow