ফাইনালের কলঙ্কিত ২২ মিনিট!

আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের (আফকন) ফাইনাল ইতিহাসে স্মরণীয় হওয়ার কথা ছিল ফুটবলের শৈল্পিক মুহূর্তে; কিন্তু রোববার রাতে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি বরং জায়গা করে নিল বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলার ইতিহাসে। মাত্র ২২ মিনিটের ঘটনাপ্রবাহ ভিএআর বিতর্ক, বিতর্কিত পেনাল্টি, সেনেগালের সাময়িক মাঠত্যাগ, দর্শক সংঘর্ষ এবং ব্রাহিম দিয়াজের ব্যর্থ-প্যানেকা; পুরো ম্যাচটিকে পরিণত করে কলঙ্কিত অধ্যায়ে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে পাপে গুইয়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে মরক্কোকে হারিয়ে শিরোপা জয়েরস্বাদ পায় সেনেগাল। যে নাটকীয়তার শুরুটা হয়েছিল যোগ করা সময়ের ৯২ মিনিটে। গোলশূন্য অবস্থায় সেনেগালের সেকের একটি গোল বাতিল করেন রেফারি; হাকিমির ওপর সামান্য ফাউলের অভিযোগে। সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। ভিএআর পর্যালোচনা হয়নি, তবুও গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত মাঠে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর ৯৫ থেকে ৯৮ মিনিটের মধ্যে আসে আরও বড় ঝড়। কর্নার থেকে ব্রাহিম দিয়াজ সামান্য ধাক্কা পান, যা অনেকের চোখে ফাউল ছিল না। তবুও কঙ্গোলিজ রেফারি জঁ-জ্যাক এনগাম্বো এনদালা পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তিন মিনিট ভিএআর দেখার পর সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এমন সিদ্ধান্তে শুধু ক্ষোভ প্রক

ফাইনালের কলঙ্কিত ২২ মিনিট!
আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের (আফকন) ফাইনাল ইতিহাসে স্মরণীয় হওয়ার কথা ছিল ফুটবলের শৈল্পিক মুহূর্তে; কিন্তু রোববার রাতে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি বরং জায়গা করে নিল বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলার ইতিহাসে। মাত্র ২২ মিনিটের ঘটনাপ্রবাহ ভিএআর বিতর্ক, বিতর্কিত পেনাল্টি, সেনেগালের সাময়িক মাঠত্যাগ, দর্শক সংঘর্ষ এবং ব্রাহিম দিয়াজের ব্যর্থ-প্যানেকা; পুরো ম্যাচটিকে পরিণত করে কলঙ্কিত অধ্যায়ে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে পাপে গুইয়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে মরক্কোকে হারিয়ে শিরোপা জয়েরস্বাদ পায় সেনেগাল। যে নাটকীয়তার শুরুটা হয়েছিল যোগ করা সময়ের ৯২ মিনিটে। গোলশূন্য অবস্থায় সেনেগালের সেকের একটি গোল বাতিল করেন রেফারি; হাকিমির ওপর সামান্য ফাউলের অভিযোগে। সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। ভিএআর পর্যালোচনা হয়নি, তবুও গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত মাঠে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর ৯৫ থেকে ৯৮ মিনিটের মধ্যে আসে আরও বড় ঝড়। কর্নার থেকে ব্রাহিম দিয়াজ সামান্য ধাক্কা পান, যা অনেকের চোখে ফাউল ছিল না। তবুও কঙ্গোলিজ রেফারি জঁ-জ্যাক এনগাম্বো এনদালা পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তিন মিনিট ভিএআর দেখার পর সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এমন সিদ্ধান্তে শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করেই থেমে থাকেনি বরং ক্ষুব্ধ হয়ে ৯৮ মিনিটে সেনেগাল দল সাময়িকভাবে মাঠ ছেড়ে চলে যায়। কোচ পাপে থিয়াও খেলোয়াড়দের বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। যা পরে কঠোর শাস্তির ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। তবে অধিনায়ক সাদিও মানে দলকে বুঝিয়ে ১৫ মিনিট পর আবারও মাঠে ফিরিয়ে আনেন। এদিকে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সেনেগাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়; চেয়ার ও লাঠি ছোড়াছুড়ি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। ১১৪ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত। মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টিতে প্যানেকা চেষ্টা করেন; কিন্তু গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডি নড়াচড়া না করেই বলটি ধরে ফেলেন। ৫০ বছর পর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন তখনই ভেঙে যায় মরক্কোর। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ৯৩ মিনিটে পাপে গুইয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করে সেনেগালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত পাপে গুইয়ের এই গোলই শিরোপা নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষে প্রেসবক্সেও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। দুই দেশের সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে চলে যান। যা সত্যিই নজীরবিহীন ঘটনা। এর ফলে এই ফাইনাল কেবল সেনেগালের দ্বিতীয় আফকন শিরোপা হিসেবেই নয়। বরং আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বিতর্কিত ২২ মিনিটের সাক্ষী হিসেবেই ইতিহাসে থেকে যাবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow